সর্বশেষ
বুধবার ৩০শে কার্তিক ১৪২৫ | ১৪ নভেম্বর ২০১৮

গাইবে না আর গান

শুক্রবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৭

962460061_1511504660.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :
মানুষকে কাছে টানতে তিনি সুরকে করেছিলেন হাতিয়ার। হৃদয় যে কথা বলতে চায়, সেটাই বার বার গানে গানে বলে গেছেন বারী সিদ্দিকী।

গানে গানে জীবন বদল করে ভালো জীবন পাওয়ার কথা বলতেন বারী সিদ্দিকী। জীবন-মৃত্যুর ভেদরেখা অতিক্রম করে না ফেরার দূরত্বে পৌঁছে গেছেন তিনি।

বৃহস্পতিবার দিবাগত রাতে রাজধানীর স্কয়ার হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় ৬৩ বছর বয়সে চিরদিনের জন্য চলে গেছেন এই প্রখ্যাত প্রখ্যাত সংগীতশিল্পী ও বংশীবাদক।

তার গাওয়া ‘শুয়া চান পাখি, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’- গানগুলো মনের অজান্তেই গেয়ে ওঠে মানুষ।

গান দিয়ে সমানভাবে সকল প্রজন্মকে তিনি যেভাবে গভীর করে ছুঁয়ে দিয়েছেন; তার মৃত্যুও তেমন গভীর করে ছুঁয়ে গেছে ভক্তদের মনে।

১৯৫৪ সালের ১৫ নভেম্বর নেত্রকোনা জেলায় এক সঙ্গীতজ্ঞ পরিবারে জন্মগ্রহণ করেন বারী সিদ্দিকী।  শৈশবে পরিবারের কাছে গান শেখায় হাতেখড়ি হয়। মাত্র ১২ বছর বয়সেই নেত্রকোনার শিল্পী ওস্তাদ গোপাল দত্তের অধীনে তার আনুষ্ঠানিক প্রশিক্ষণ শুরু হয়। তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমান, দবির খান, পান্নালাল ঘোষ সহ অসংখ্য গুণীশিল্পীর সরাসরি সান্নিধ্য লাভ করেন। ছয় বছর ধরে তিনি ওস্তাদ আমিনুর রহমানের অধীনে প্রশিক্ষণ নেন।

সত্তরের দশকে জেলা শিল্পকলা একাডেমির সাথে যুক্ত হন বারী সিদ্দিকী। ওস্তাদ গোপাল দত্তের পরামর্শে ক্লাসিক্যাল মিউজিক এরুপর পড়াশোনা শুরু করেন। পরবর্তী সময়ে বাঁশির প্রতি আগ্রহী হয়ে ওঠেন ও বাঁশির ওপর উচ্চাঙ্গসঙ্গীতে প্রশিক্ষণ নেন। নব্বইয়ের দশকে ভারতের পুনে গিয়ে পণ্ডিত ভিজি কার্নাডের কাছে তালিম নেন। দেশে ফিরে এসে লোকগীতির সাথে ক্লাসিক মিউজিকের সম্মিলনে গান গাওয়া শুরু করেন।

তিনি গোপাল দত্ত এবং ওস্তাদ আমিনুর রহমান থেকে লোক এবং শাস্ত্রীয় সঙ্গীতে পাঠ নিয়েছেন। খুব অল্পদিনেই বিরহ-বিচ্ছেদের মর্মভেদী গনের মধ্য দিয়ে সাধারণ মানুষের হৃদয়ে স্থায়ী আসন করে নেন।

১৯৯৫ খ্রিস্টাব্দে বারী সিদ্দিকী প্রখ্যাত সাহিত্যিক হুমায়ূন আহমেদের ‘রঙের বাড়ই’ নামের একটা ম্যাগাজিন অনুষ্ঠানে জনসমক্ষে প্রথম সঙ্গীত পরিবেশন করেন। এরপর ১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে হুমায়ূন আহমেদের রচনা ও পরিচালনায় নির্মিত শ্রাবণ মেঘের দিন চলচ্চিত্রে ৭টি গানে কণ্ঠ দেন। এর মধ্যে 'শুয়া চান পাখি' গানটির জন্য তিনি অতিদ্রুত ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করেন।

১৯৯৯ খ্রিস্টাব্দে জেনেভায় অনুষ্ঠিত বিশ্ব বাঁশি সম্মেলনে ভারতীয় উপমহাদেশ থেকে একমাত্র প্রতিনিধি হিসেবে তিনি অংশগ্রহণ করেন। বারী সিদ্দিকী বেশ কয়েকটি চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন ও গানের কথা লিখেছেন।

২০১৩ খ্রিস্টাব্দে সিদ্দিকী ফেরারী অমিতের রচনা ও পরিচালনায় পাগলা ঘোড়া নাটকে প্রথমবারের মত অভিনয় করেন।

বারী সিদ্দিকীর গাওয়া ‘শুয়া চান পাখি, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘সাড়ে তিন হাত কবর’, ‘পুবালি বাতাসে’, ‘তুমি থাকো কারাগারে’, ‘রজনী’, ‘আমার গায়ে যত দুঃখ সয়’, ‘ওলো ভাবিজান নাউ বাওয়া’, ‘মানুষ ধরো মানুষ ভজো প্রভৃতি গান তুমুল জনপ্রিয় হয়।

বারী সিদ্দিকীর একক অ্যালবামগুলো হলো- দুঃখ রইলো মনে, সরলা, ভাবের দেশে চলো, সাদা রুমাল, মাটির মালিকানা, মাটির দেহ, মনে বড় জ্বালা, প্রেমের উৎসব, ভালোবাসার বসত বাড়ি, নিলুয়া বাতাস, অপরাধী হইলেও আমি তোর, দুঃখ দিলে দুঃখ পাবি। এছাড়াও আসমান সাক্ষী এবং চন্দ্রদেবী নামে শিল্পীর দুটি মিশ্র অ্যালবাম রয়েছে।

শ্রাবণ মেঘেরে দিন ছাড়াও রূপকথার গল্প, নেকাব্বরের মহাপ্রয়াণ, ও আমার দেশের মাটি এবং মাটির পিঞ্জিরা চলচ্চিত্রের গানে কণ্ঠ দিয়েছেন তিনি। ২০১৩ সালে মাটির পিঞ্জিরা ছবিতে একটি বিশেষ চরিত্রে অভিনয় করেন বারী সিদ্দিকী।

ঢাকা, শুক্রবার, নভেম্বর ২৪, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৩৫২ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন