সর্বশেষ
বুধবার ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৫ | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পদ্মাবতী বিতর্কে প্রাণ গেল স্বর্ণ ব্যবসায়ীর

শনিবার, নভেম্বর ২৫, ২০১৭

39132975_1511599737.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :
বানসালির 'পদ্মাবতী' শ্যুটিং এর সময় থেকে বিতর্ক চলে আসছে, এবার তা ছাপিয়ে প্রাণহানির ঘটনাও ঘটে গেল। সেই অর্থে এটাই পদ্মাবতীর প্রথম মৃত্যু। গতকাল শুক্রবার সকালে দেখা যায়, রাজস্থানের রাজধানী জয়পুরের বিখ্যাত নাহারগড় দুর্গের বুরুজ থেকে একটি শরীর ঝুলছে। মৃতদেহের পাশে পাথরে কালি দিয়ে হিন্দিতে লেখা, ‘আমরা শুধু কুশপুতুল লটকাই না’। আর একটি পাথরে লেখা, ‘পদ্মাবতীর বিরোধিতা’।

লোকটির পরিচয় পাওয়া গেছে। নাম চেতন সাইনি। বয়স ২৩। জয়পুরে তার গয়নার ব্যবসা। মৃত্যুটা ঘিরে অনেক প্রশ্ন ও রহস্য রয়েছে। রহস্য ওই পাথরের ওপর লেখা ঘিরে। কাজেই, এটি খুন না আত্মহত্যা, সে বিষয়ে পুলিশ এখনো নিশ্চিত নয়। তারা বলছে, তদন্ত শেষ না হলে কোনো অনুমান নয়।

পদ্মাবতী নিয়ে সেই প্রথম দিন থেকে যারা খড়্গহস্ত, সেই করণি সেনার নেতা লোকেন্দ্র সিং কালভি শুধু বলেছেন, ঘটনাটি দুর্ভাগ্যজনক। এমন হওয়া উচিত ছিল না।

দেশে বিজেপি শাসিত ১৮ রাজ্যের মধ্যে তিনটির দরজা পদ্মাবতীর কাছে বন্ধ। রাজপুত-রোষের কারণে মরু শহর রাজস্থান উত্তপ্ত। মধ্যপ্রদেশের ক্ষত্রিয় মুখ্যমন্ত্রী শিবরাজ সিং চৌহান তার রাজ্যে পদ্মাবতীর প্রবেশ নিষিদ্ধ করেছেন। গুজরাটের মুখ্যমন্ত্রী বিজয় রুপানির কণ্ঠেও সেই সুর। তার যুক্তি, রাজপুত গরিমার স্বার্থে তার রাজ্যে পদ্মাবতী নিষিদ্ধ। ১৯০ কোটি টাকায় তৈরি পদ্মাবতী এখনো ভারতীয় সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র পায়নি।

‘পদ্ধতিগত ত্রুটি’র কারণে সেন্সর বোর্ড ছবিটি প্রযোজকের ঘরে ফেরত পাঠিয়েছে। অথচ গত বৃহস্পতিবার ব্রিটিশ বোর্ড অব ফিল্ম ক্লাসিফিকেশন পদ্মাবতীকে বিনা প্রশ্নে ‘আনকাট’ ছাড়পত্র দিয়েছে। ইতিহাস বিকৃতি অথবা রাজপুত জাত্যভিমানে আঘাত লাগা নিয়ে কোনো প্রশ্ন তারা তোলেনি।

পরিচালক সঞ্জয় লীলা বানসালি অবশ্য এই আনন্দে বানভাসি নন। সংবাদমাধ্যমে তার মন্তব্য- 'আগে দেশ, পরে বিদেশ। ভারতে না দেখিয়ে বিলেতকে তিনি খুশি করবেন না।'

রাজস্থানের করণি সেনা কিংবা যারা দীপিকা পাড়ুকোন ও বানসালির মাথার দাম কুড়ি কোটি টাকা ধার্য করেছে, তাদের দাবি, আগে তাদের সিনেমাটা দেখিয়ে সন্তুষ্ট করতে হবে, তারপর অন্য কথা।

বিতর্ক ও বিরোধের ফলে বানসালিরা ছবি রিলিজ পিছিয়ে দিয়েছেন। ১ ডিসেম্বরের জায়গায় এখন জানুয়ারি। তবে তার আগে প্রয়োজন সেন্সর বোর্ডের ছাড়পত্র। ফলে একটা কী হয় কী হয় ভাব।

দেশে তো বটেই, বিদেশেও বিনা পয়সায় পদ্মাবতীর প্রচার হয়ে গেল। ছবির প্রমোশনে একটা পয়সা তাঁদের খরচ করতে হলো না! কাজেই বানসালীরা মুখে কুলুপ এঁটেছেন।
অবশ্য শুধু মুখে কুলুপ আঁটাই নয়, পদ্মাবতীর বিমাও তারা করিয়ে ফেলেছেন। ইন্ডাস্ট্রির খবর, ১৯০ কোটির সিনেমার বিমা হয়েছে ১৪০ কোটি টাকায়! এর মধ্যে ৮০ কোটি পাবে পরিবেশকেরা, যদি বিক্ষোভ বা অন্য কারণে মানুষ সিনেমা হলে না আসতে পারে, যদি ছবির প্রদর্শন ব্যাহত হয়। তবে সিনেমাটি নিষিদ্ধ হয়ে গেলে বিমার টাকা পাওয়া যাবে না।

করণি সেনাপ্রধান লোকেন্দ্র সিং কালভি দিল্লি এসে প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদিকে বলেছেন, সরকার গোটা দেশেই পদ্মাবতী নিষিদ্ধ করে দিক। বিজেপি, বজরঙ্গ দল ও বিশ্ব হিন্দু পরিষদের স্বঘোষিত সমাজপতিদের যুক্তি, এই ধরনের সিনেমা ‘লাভ জিহাদ’কে নাকি উৎসাহিত করে। অতএব গোড়া ধরে মুড়িয়ে ফেলাই মঙ্গল।

এত কিছুর মধ্যেই প্রাণহানির একটা ঘটনা ঘটে গেল। পদ্মাবতীর ভাগ্যে আরো কী কী লেখা রয়েছে? এখন পর্যন্ত ছবিটি ঘিরে রাজনৈতিক ময়দান থেকে শুরু করে বলিউড পাড়া পর্যন্ত উতপ্ত।

ঢাকা, শনিবার, নভেম্বর ২৫, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ১৯০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন