সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ৫ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অাখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে সমাপ্ত চরমোনাইর মাহফিল

বুধবার, নভেম্বর ২৯, ২০১৭

2045561777_1511963756.jpg
বরিশাল ব্যুরো :
মুসলিম উম্মাহর ঐক্য, শান্তি, ভ্রাতৃত্ব ও সমৃদ্ধি কামনা করে বুধবার (২৯ নভেম্বর) আখেরি মোনাজাতের মধ্য দিয়ে তিনদিনব্যাপী চরমোনাইর অগ্রহায়নের বার্ষিক ওয়াজ মাহফিল সমাপ্ত হয়েছে।

লাখ লাখ ধর্মপ্রাণ মুসল্লির উপস্থিতিতে মাহফিলের আখেরি মোনাজাত পরিচালনা করেন ইসলামি আন্দোলনের আমির চরমোনাইর পীর সাহেব মাও. সৈয়দ মো. রেজাউল করিম।

আখেরি মোনাজাতপূর্বক ফজর বাদ শেষ বয়ানে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, হেদায়েত হলো মানুষের জন্য সর্বোত্তম নেয়ামত। এজন্যই হেদায়েত নামক অমূল্য সম্পদটি আল্লাহপাক তার নিজের হাতে রেখেছেন। এই সম্পদটি তিনি বান্দাকে নিজ হাতে দিতে চান।

তবে এজন্য আমাদের শুধু মাওলার কাছে চাইতে হবে। মন থেকে কেউ হেদায়েত চাইলে আল্লাহপাক অবশ্যই তাকে হেদায়েত দিয়েই দিবেন। এজন্য বেশি বেশি হেদায়েত চাইতে হবে।

পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, যার কপাল পুড়ে গেছে তার বুঝ উল্টা হয়ে থাকে। সঠিক কথাকেও সে উল্টা ব্যাখ্যা করতে থাকে। তিনি বলেন, আমি উদ্বোধনী বয়ানেই বলেছি সকল কিছু দেওয়ার মালিক আল্লাহ। মানুষ আল্লাহর অনুগ্রহ ছাড়া কিছু করতে পারে না।

যারা চরমোনাইতে তিনদিন অবস্থানের পরেও নিয়ত পরিশুদ্ধ করতে পারেননি, আখেরি মোনাজাতের আগেই নিয়ত পরিশুদ্ধ করে নিন।

মানুষের বিবেকের দ্বারে প্রশ্ন রেখে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, বর্তমানে একদল টাকার বিনিময়ে ভোট বিক্রি করে, ওটা গরু ছাগলের চেয়েও খারাপ। গরু ছাগল টাকায় বিক্রি হয়, মানুষ কখনো টাকায় বিক্রি হতে পারে না। সাংবিধানিক ব্যবস্থার দিকে ইঙ্গিত করে তিনি বলেন, জনগণ সকল ক্ষমতার মালিক এই কথা কোনো মুসলমান বিশ্বাস করতে পারে না।

চরমোনাই’র মুরিদ হয়ে যারা জনগণ সকল ক্ষমতার মালিক এ কথা বিশ্বাস করবে অথবা কাজে বাস্তবায়ন করবে ওরা চরমোনাই’র মুরিদ না। একদল লোক আছে নিজেরা নামাজ পড়ে বেনামাজিদেরকে ভোট দেয়। বুঝা গেছে তাদের নামাজ কবুল হয়নি।

জাতীয় জীবনে সৎলোকের গুরুত্ব বুঝাতে গিয়ে তিনি বলেন, আমি যখন চরমোনাই ইউনিয়ন নির্বাচনে প্রার্থী হয়েছিলাম, তখন বিপক্ষ দলের এক নেতা বলেছিলেন, রেজাউল করীম চেয়ারম্যান হলে উন্নয়ন হোক আর নাই হোক, নামাজীর সংখ্যা বাড়বে।

চেয়ারম্যান হওয়ার পর আমি কোনো এক শালিশে বসলাম। আজান হলে আমি মসজিদের দিকে চললাম। উপস্থিত লোকজনও লজ্জায় মসজিদে নামাজ পড়তে রওয়ানা দিল। চেয়ারম্যান সাহেব নামাজ পড়তে যাচ্ছেন আর তারা বসে থাকবে, এমনটা কেউ মানতে পারল না। এজন্য বলি, আপনি নামাজ পড়েন আর আপনার সমর্থন ভোট নামাজ কায়েমকারী পায় না। বুঝতে হবে, আপনার নামাজে গলদ আছে।

জাতীয় মুক্তির সন্ধান দিতে গিয়ে পীর সাহেব চরমোনাই বলেন, আ’লীগ নৌকা নিয়ে আসবে শেখ মুজিবের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে। বিএনপি ধানের শীষ নিয়ে জিয়াউর রহমানের আদর্শ বাস্তবায়ন করতে। আর ইসলামী আন্দোলন বাংলাদেশ হাতপাখা নিয়ে আসবে আল্লাহ এবং আল্লাহর রাসূলের সা. নীতি-আদর্শ বাস্তবায়ন করতে। এবার চিন্তা করুন, আপনি কোন প্রতীকে ভোট দিবেন? ইসলামের পক্ষে রায় না দিলে ময়দানে মহাশরে আপনি খেয়ানতকারী হিসেবেই মাওলার দরবারে উত্থিত হবেন।

বুধবার সকাল সাড়ে ৮টায় আখেরি মোনাজাত শুরু হয়ে শেষ হয় সাড়ে ৯ টায়। লাখ লাখ মানুষের ‘আমিন আমিন’ ধ্বনিতে পুরো এলাকা প্রকম্পিত হয়ে উঠে। আল্লাহর কৃপা লাভের আশায় মুসল্লিদের কান্নার রোল পড়ে যায়। আখেরি মোনাজাত শুরু হওয়ার আগেই দেশ-বিদেশের মুসল্লিদের আগমনে চরমোনাইর কোথাও তিল ধারণের ঠাঁই ছিল না। মোনাজাত শেষ হওয়ার পূর্ব পর্যন্ত চরমোনাইগামী মানুষের ঢল অব্যাহত ছিল। শেষ দিকের আগতরা মাঠের কোথাও স্থান না পেয়ে পার্শ্ববর্তী বিভিন্ন বাসা-বাড়ি, দোকান-পাট ও গাছের উপর উঠে মোনাজাতে শরিক হয়।

একটানা ৩০ মিনিট স্থায়ী এ মোনাজাতের সময় পীর সাহেব ও তার মুরিদরা তওবা ও অনুতাপের অশ্রুদিয়ে বিগত জীবনের পাপ মোচন করে আল্লাহর কৃপা লাভের জন্য আকুতি জানায়। পীর সাহেব আখেরি মোনাজাতে দেশের স্বাধীনতা ও সার্বভৌমত্বের হেফাজত, সাধারণ মানুষের জান মালের হেফাজত ও রুহের মাগফেরাত কামনা এবং বিশ্বব্যাপী নির্যাতিত মুসলিম উম্মাহর জন্য দোয়া কামনা করেন। মোনাজাত শেষ হওয়ার পর মুহূর্তের মধ্যে মানুষ লঞ্চ, ট্রলার ও বাস যোগে গন্তব্যের উদ্দেশ্যে রওয়ানা হয়ে যায়। সকাল ১০টা থেকে বরিশাল নগরী মুসল্লিদের ভিড়ে যানজটের নগরীতে পরিণত হয়।

ঢাকা, বুধবার, নভেম্বর ২৯, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এ এম এই লেখাটি ২৫৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন