সর্বশেষ
মঙ্গলবার ৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ২০ নভেম্বর ২০১৮

নবী নামক পরশ-পাথর

শনিবার, ডিসেম্বর ২, ২০১৭

39149822_1512226938.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :
"হারা সম্বিত ফিরে পেতে বুকে

তুমি আনো প্রিয় আবহায়াত

জানি সিরাজাম মুনিরা তোমার

রশ্মিতে জাগে কোটি প্রভাত।"

-সিরাজুম মুনিরা; ফররুখ আহমদ
...... ...... .......
হযরত মোহাম্মাদ (সা:) শুধু মুসলিম নয়, পৃথিবীর সমগ্র জাতির জন্য আদর্শ ও রহমত স্বরূপ। "আমি আপনাকে সমগ্র বিশ্বের জন্য রহমত স্বরূপ পাঠিয়েছি।" -আল কুরআন

ঘুমন্ত মুসলিম প্রাণগুলোকে ঈমানী শক্তিতে জাগ্রত করতে প্রতি বছরের মত ঈদ-ই-মিলাদ-উন-নবী (সা) এসেছে আবার। সত্যিকারের অসাম্প্রদায়িক চেতনার নজির একমাত্র তিনিই পৃথিবীতে স্থাপন করেছেন। ন্যায়বিচারের স্বার্থে তিনি মুসলিম নয় বরং কাফেরদের পক্ষে রায় দিয়েছেন অনেকবার। তার আমানতদারীতার কারণে কাফের- মুশরিকরাও তার নিকট সম্পদ গচ্ছিত রাখতো। সত্যবাদিতার কারণে তার শত্রুরাও তাকে 'আল-আমিন' বা 'বিশ্বাসী' বলে ডাকতো। যখন একটা মেয়ে শিশু জন্ম নিলে জীবন্ত মাটিতে পুঁতে ফেলা হত, তখন তিনি নারীদের দিলেন অধিকার। নারীদের পিতা-মাতার সম্পত্তির কোনো অধিকার ছিলনা, তিনি নারীদের এই অধিকারও নিশ্চিত করেন। তখন বংশগত দ্বন্দ্ব ও বর্ণ বৈষম্য ছিল চরমে, তিনি এগুলোরও অবসান ঘটান।

একজন মুসলিম নয়, মানুষ হিসেবে চিন্তা করলেও এটাই মনে হয় যে তিনি হলেন ইতিহাসের, বর্তমানের এবং ভবিষ্যতের এমন এক পরশ পাথর যার ছোঁয়াতে সাধারণ মানুষ সোনার মানুষে পরিণত হয়েছিল, হচ্ছে এবং হবে। বিশ্বের প্রতিটি শান্তিপ্রিয় মানুষ আজ শান্তির অন্বেষায় হাহাকার করে ফিরছে। প্রযুক্তির উৎকর্ষতা আর বিজ্ঞানের অসম্ভবকে সম্ভবকারী আবিষ্কারগুলোও পারেনি এ বিশ্বকে মানুষের বাসযোগ্য করে গড়ে তুলতে। দিগভ্রান্ত নেতৃত্ব আর নৈতিকতাহীন জড়বাদী জীবন ব্যবস্থা মানুষকে আধুনিকতার নামে অধঃপতনের প্রান্ত সীমায় নিয়ে চলেছে। যার ফল আজ আমাদের সমাজের পরতে পরতে দৃষ্টিগোচর হচ্ছে। অশ্লীলতা, দুর্নীতি, দুর্বৃত্তায়ন আর অন্যায়ের সয়লাবে ভাসছে চারদিক।

সুপ্ত হৃদয়কে আজ সময় এসেছে জাগানোর। সময় এসেছে আজ মানব সমাজের সেই স্বর্ণালী অতীতের দিকে ফিরে তাকানোর। ১৪শত বছর পূর্বে জাহেলিয়াতের অন্ধকারের আগল ভেঙে মানবতার আলোয় উদ্ভাসিত সেই আদর্শ আজ আমাদের স্বপ্ন ও প্রত্যাশা। মানবতার বন্ধু, সর্বশেষ ও সর্বশ্রেষ্ঠ নবী হযরত মুহাম্মদ(সা)-এর যে দিকনির্দেশনায় আলোয় আলোয় উদ্ভাসিত হয়েছিল মানব সমাজ, আজ সেই নির্দেশনা-ই আমাদের জীবনে আনতে পারে অফুরান খুশির নহর, অপ্রত্যাশিত আলোর বন্যা, পবিত্রতা ও সর্বোচ্চ সফলতা।

একটি সোনালী সমাজ বিনির্মাণের লক্ষ্যে বর্তমান মুসলিম প্রজন্মের রাসূল_(সা)-এর আদর্শের দিকে তার ঐতিহ্য ও মূল্যবোধের প্রতিনিধি রূপে ফিরে যাওয়া বর্তমান সময়ের দাবী। সুতরাং যুগের অনিবার্য এ দাবী পূরণে চলুন যুগসন্ধিক্ষণের অতুলনীয় রাহবার রাসূল (সা)-এর প্রদর্শিত পথে এগিয়ে চলি বহু দূর, আল-কুরআন এর সেই শাশ্বত বাণীর প্রতি ঈমান এনে-

"হে মুমীনগণ, তোমাদের জন্য আল্লাহর রাসূলের (সা) মধ্যেই উত্তম আদর্শ রয়েছে এমন প্রত্যেক ব্যক্তির জন্য, যে আল্লাহ্ এবং শেষ দিনের আশা করে ও বেশি করে আল্লাহকে স্মরণ করে।"

-সূরা আহযাব; ২১

আমরা যেন প্রত্যেকে মহান রব প্রেরিত, মানবতার মুক্তির দূত, সর্বকালের সর্বশ্রেষ্ঠ মহামানব হযরত মোহাম্মাদ (সা:) এর দেখানো পথ অনুসরণ করতে পারি। আল্লাহ আমাদের সহায় হোন। আমিন

এস এ আর ছিবগাতুল্লাহ (মাস্টার্স, দর্শন বিভাগ, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়)


ঢাকা, শনিবার, ডিসেম্বর ২, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // এ এম এই লেখাটি ২০১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন