সর্বশেষ
বুধবার ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৫ | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বিয়ের আগে সঙ্গীর থেকে জানবেন যে ৬টি প্রশ্নের উত্তর

সোমবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৭

amitumi_know-before-marriage.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

বিবাহিত জীবনের সাফল্য অনেকাংশে নির্ভর করে উপযুক্ত জীবনসঙ্গী উপর। ভালবেসে বিয়ে করুন কিংবা সম্বন্ধ করে— আপনার জীবনসঙ্গী স্বামী বা স্ত্রী হওয়ার উপযুক্ত কি না তা যাচাই করে নেয়া অত্যন্ত জরুরি। কিন্তু  কিভাবে বুঝবেন জীনসঙ্গী আপনার উপযুক্ত কিনা? নিজের হবু জীবনসঙ্গীকে এই ছয়টি প্রশ্নের মাধ্যমে কিছুটা বুঝতে সে কোন প্রকৃতির।

তুমি কেন আমাকে ভালবাসো :
সব থেকে জরুরি প্রশ্ন এটি এবং এই প্রশ্নের একটা সঠিক উত্তর আপনার সঙ্গীর থেকে কাম্য। কেউ যদি এই প্রশ্নের উত্তরে বলে ‘তোমাকে ভালবাসি তাই ভালবাসি’, তাহলে সেটি খুব গ্রহণযোগ্য উত্তর নয়। আপনার সঙ্গীর উত্তর থেকে বুঝে নেয়ার চেষ্টা করুন, সে আপনার সবটুকু মিলিয়ে আপনাকে ভালবাসে কিনা। শুধু আপনার ক্ষমতা নয়, আপনার অক্ষমতাগুলোকেও সে মেনে নিতে প্রস্তুত কিনা।

সম্পর্ক টিকিয়ে রাখতে বিয়ের পর তুমি কী করবে :
প্রশ্নটা আপাতদৃষ্টিতে বোকা বোকা ঠেকতে পারে। কারণ পরিস্থিতি অনুযায়ী প্রয়োজন বদলে যায়। কিন্তু এই প্রশ্নের সামনে দাঁড়িয়ে আপনার সঙ্গী যদি উত্তর দিতে ইতস্তত করেন, বা বলেন যে, ‘‘সেসব ভবিষ্যতে দেখা যাবে’’,। তাহলে বুঝতে হবে, আপনাদের সম্পর্কের ভবিষ্যৎ সম্পর্কে তিনি আদৌ ভাবেন না। সেটা খুব ভাল লক্ষণ নয়।

কেন বাকি জীবন আমার সঙ্গে কাটাতে চাও :
এই প্রশ্নের উত্তরে অনেকেই বলবেন, ‘আমি তোমাকে ভালবাসি বলে।’ কিন্তু এটাই কি সেই উত্তর যা আপনি শুনতে চাইছেন? সম্ভবত নয়। বরং দেখুন তার উত্তর থেকে তার জীবনে আপনার প্রয়োজনীয়তা, আপনার মূল্য সম্পর্কে কোনো ধারণা তৈরি করতে পারেন কিনা। আপনার সঙ্গীর মনেও এই বিষয়টি সম্পর্কে একটা স্বচ্ছ ধারণা গড়ে ওঠা খুব জরুরি।

আমার কষ্টগুলোর ভাগ নিতে প্রস্তুত :
জীবন সর্বদা সরলরেখা মেনে চলে না। জীবনে উত্থান-পতন আসবেই। সেক্ষেত্রে যে বিষয়টা বিয়ের আগে জেনে নেয়া সবচেয়ে জরুরি তাহল, যাকে আপনি বিয়ে করতে যাচ্ছেন তিনি আপনার দুঃখ এবং কষ্টগুলোর অংশীদার হতে প্রস্তুত কিনা। আপনার জীবনের অন্ধকার সময়ে তিনি যদি আপনার কষ্টের ভাগ নিতে না পারেন, তাহলে তিনি আপনার উপযুক্ত নন।

তুমি কি আমার জন্য আপোস করতে প্রস্তুত :
বিয়ে মানেই কিন্তু বেশ কিছু ত্যাগ স্বীকার। আপনার সঙ্গী সেগুলো করতে প্রস্তুত কি না, তা বিয়ের আগেই জেনে নিন। বিয়ের পরে আপনার ভালবাসার সঙ্গে তার নিজের জীবনের তুচ্ছ চাহিদার দ্বন্দ্ব দেখা দিলে তিনি কোনটিকে গুরুত্ব দেবেন, তা বিয়ের আগেই বুঝে নেয়ার চেষ্টা করুন।

সন্তানদের জন্য তুমি কতটুকু ত্যাগ স্বীকার করতে পারবে :
বিবাহিত জীবনে সন্তান একটি আপোসের জায়গা। আপনার হবু জীবন সঙ্গীর মধ্যে সন্তানদের জন্য সেই আপোসটুকু করার মতো মানসিকতা রয়েছে তো? তিনি একজন অত্যন্ত দায়িত্বপূর্ণ অভিভাবক হতে প্রস্তুত তো? বুঝে নেয়ার চেষ্টা করুন বিয়ের আগেই।

একথা বলাবাহুল্য যে, এই সমস্ত প্রশ্নের ইতিবাচক উত্তর পাওয়ার পরেও কারো কারো বিবাহিত জীবনে নেমে আসতে পারে ব্যর্থতা এবং কেউ এই প্রশ্নগুলির উত্তর দেওয়ার ব্যাপারে কতোটা সৎ থাকবেন সেটাও আপনার পক্ষে বুঝে উঠা মুশকিল। তবুও এই প্রশ্নগুলির সুচিন্তিত এবং সৎ উত্তর যদি কেউ দেন, তাহলে বিবাহিত জীবন সম্পর্কে তার মানসিকতা অনেকটাই যাচাই করে নেয়া সম্ভব।

মনে রাখবেন,এই প্রশ্নগুলো শুধু সঙ্গীর জন্য নয়, নিজেকেও দাঁড় করান এসব প্রশ্নের সামনে। দাম্পত্য জীবন সম্পর্কে আপনার ধারণা কী, সেটাও বুঝে নেয়ার চেষ্টা করুন, বুঝতে দিন আপনার সঙ্গীকেও। যদি সবকিছু বিচার করে দু’জনকে একে অন্যের উপযুক্ত বলে মনে হয় তবেই এগিয়ে যান বিয়ের দিকে নাহলে ছেড়ে দিন। একটা নিষ্ফল সম্পর্ককে বাঁচিয়ে রাখার চেয়ে তা থেকে বেড়িয়ে আসাই বুদ্ধিমানের কাজ হবে।


ঢাকা, সোমবার, ডিসেম্বর ১৮, ২০১৭ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ২৫০৪ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন