সর্বশেষ
মঙ্গলবার ২রা মাঘ ১৪২৪ | ১৬ জানুয়ারি ২০১৮

'আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর উপর হামলার পরিকল্পনা ছিল'

শুক্রবার ১২ই জানুয়ারী ২০১৮

photo-1515758320.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেছেন, নাখালপাড়া জঙ্গি আস্তানায় যারা নিহত হয়েছেন তারা সবাই জেএমবি সদস্য। তারা বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ স্থাপনা ও আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের উপরে হামলার পরিকল্পনা করেছিলেন।

শুক্রবার দুপুর সোয়া দুইটার সময়ে রাজধানীর তেজগাঁওয়ের পশ্চিম নাখালপাড়া জঙ্গি আস্তানার সামনে অপেক্ষমান সাংবাদিকদের উদ্দেশ্যে তিনি এসব কথা বলেন।

কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, গোপন তথ্যের ভিত্তিতে গতকাল বৃহস্পতিবার দিবাগত রাত দুইটার সময়ে পশ্চিম নাখালপাড়ার ১৩/১ নম্বর বাড়ির রুবি ভিলায় অভিযান শুরু করি। তখন ওই বাড়ির মালিক পক্ষের কেউ আমাদের তেমন সহযোগিতা করেননি। ফলে লোহার গ্রীল ভেঙ্গেই আমরা ওই ভবনের পাঁচ তলায় যাই। ওই ভবনের পঞ্চম এবং ষষ্ঠ তলায় মেস হিসেবে ভাড়া দিয়ে থাকেন ম্যানেজার রুবেল। সেখানে তিনটি ফ্লাটে ২১জনকে মেস হিসেবে ভাড়া দেওয়া হয়।  পঞ্চম তলায় আমরা দরজা নক করলেই সেখানে আমাদের উদ্দেশ্যে করে গ্রেডেন নিক্ষেপ এবং গুলি বর্ষণ করতে থাকে। এক পর্যায়ে আমরাও গুলি বর্ষণ করি। এতে ঘটনাস্থলেই তিনজন জঙ্গি নিহত হয়। র‌্যাবের দুইজন সদস্যও আহত হয়েছেন। যাদের চিকিৎসা দেওয়া হচ্ছে। ওই ফ্লাটে সাতজন ছিলেন বাকিরা সবাই নিরাপদেই আছেন। সেখানে দুইটি পিস্তল, তিনটি আইডি, আত্মঘাতি বেল্ট তিনটি এবং বিপুল পরিমাণ বোমা তৈরির সরঞ্জাম উদ্ধার করা হয়। নিহত তিনজঙ্গি বাদে বাকি চারজন শিক্ষার্থী।  

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক বলেন, গত বছরের ২৮ ডিসেম্বর থেকে ম্যানেজার রুবেলের সঙ্গে জাহিদ নামের এক যুবক যোগাযোগ করে ওই বাড়ির ফ্লাট ভাড়া নেওয়ার জন্য। ৪ জানুয়ারি ওঠেন জাহিদ। অন্য দুই জঙ্গি ভাই পরিচয়ে ওঠেন ৮ জানুয়ারি। প্রাথমিক অবস্থায় তারা দুই হাজার টাকা অগ্রিমও দেয়। ভাড়া নির্ধারণ করা হয়েছিল একটি রুমের জন্য সাড়ে পাঁচ হাজার টাকা। ওই বাড়ির পঞ্চম এবং ষষ্ঠ তলায় মেসে মোট ২১ জন সদস্য বসবা করেন। প্রতিটি ফ্লাটে তিনটি করে রুম রয়েছে। ওই বাড়িতে (রুবি ভিলায়) মোট ৬০ জন বসবাস করেন। এদেরকে নিরাপদে ওই বাড়ির দ্বিতীয় তলায় রাখা হয়েছে। তাদের প্রত্যেককেই জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে। নিহত জঙ্গিরা অভিযানে আগে রান্নাঘরে গ্যাসের চুলার উপরে একটি গ্রেনেড রেখেছিল। যা বিস্ফোরণ হলে বড় ধরনের বিপর্যয় ঘটতে পারত। বর্তমানে এই ভবন সহ আশেপাশের সকল বাড়ি নিরাপদ রয়েছে।

কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, জাহিদ ওই বাসা ভাড়া নেওয়ার সময়ে একটি জাতীয় পরিচয় পত্র দিয়েছেন। যেখানে একটি ছবিতে দুইটি জাতীয় পরিচয় দেখা যায়। ওই ভবনের মালিক সাব্বির হোসেন। বিমান বাহিনীর কর্মকর্তা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে ওই বাড়ির মালিক আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর সদস্যদের তেমন কোন তথ্যই দিতে পারেননি। অভিযানের ওই বাড়ির মালিক সাবিব্বর হোসেন কর্মস্থলে ছিলেন। বাড়ির মালিক সাব্বির হোসেন হলেও তারা দেখাশোনা করতেন রুবেল। এছাড়াও ওই বাড়িতে আরো একজন কেয়ারটেকার রয়েছে যাদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক বলেন, আগে জঙ্গিরা এককভাবে বাড়ি ভাড়া নিলেও বর্তমানে তারা বিভিন্ন পেশাজীবী মানুষের সঙ্গে ফ্লাট ভাড়া নিয়ে জঙ্গি তৎপরতা চালাচ্ছেন। ওই ফ্লাটের বাকিদের জ্ঞিাসাবাদে জানা যায় নিহত জাহিদ খুব ভোরেই বাসা থেকে বের হতেন আর ফিরতেন গভীর রাতে। অন্য দুই জঙ্গিদেরকে তাদের প্রতিবেশীরা কখনও বাড়ির বাইরে যেতে দেখেননি।

কোথায় এবং কখন হামলার পরিকল্পনা করেছিল নিহত জঙ্গিরা সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, এ ব্যাপারে আমরা বিস্তারিত কোন তথ্যই পাইনি। আর যারা নিহত হয়েছেন তাদের নাম পরিচয় সম্পর্কেও তেমন কিছু জানতে পারিনি। তাদের ব্যাপারে তদন্ত চলছে। এর আগে ২০১৩ এবং ২০১৬ সালে অভিযানে চালিয়ে এখান থেকে বেশ কয়েকজন জঙ্গিদের গ্রেপ্তার করা হয়েছিল। সেই অভিযান র‌্যাবই পরিচালনা করেছিলেন।


ঢাকা, শুক্রবার ১২ই জানুয়ারী ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি 174 বার পড়া হয়েছে