সর্বশেষ
শুক্রবার ৬ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গাছ বাঁচাতে প্রধানমন্ত্রীর কাছে রিয়াজ-শাওনের অনুরোধ

সোমবার, জানুয়ারী ১৫, ২০১৮

C9mklLHW0AATBeT.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

নড়াইলের জমিদার কালিবাবুর তত্ত্বাবধানে লাগানো প্রাচীন গাছগুলোর মধ্যে অল্পকিছু এখনো টিকে আছে। এদিকে যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক চার লেনে উন্নীত করতে দুই পাশের আড়াই হাজারেরও বেশি শতবর্ষী গাছ কেটে ফেলার চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত নিয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট দফতর।

প্রসিদ্ধ যশোর রোড চার লেনে উন্নীত করার কাজ শুরু হচ্ছে। এজন্য সড়কটির দুই পাশে থাকা নতুন-পুরনো সব গাছ কেটে ফেলা হবে। গত ৬ জানুয়ারি সকালে যশোর জেলা প্রশাসকের সম্মেলন কক্ষে ‘যশোর-বেনাপোল মহাসড়ক যথাযথ মানের ও প্রশস্ততায় উন্নীতকরণ প্রকল্পের আওতায় রাস্তার দুই পার্শ্বে গাছসমূহ অপসারণের বিষয়ে’ এক মতবিনিময় সভা অনুষ্ঠিত হয়। এই সভায় মহাসড়ক চার লেন তৈরির জন্য এই সমস্ত গাছ কাটার সিদ্ধান্ত নেয়া হয়।

এদিকে এ গাছ কাটার বিপক্ষে অবস্থান নিয়েছেন দেশের অনেক মানুষ। এ সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে অন্যদের মতো শিল্পীসমাজও অবস্থান নিয়েছে। সৈয়দ হাসান ইমাম, তৌকীর আহমেদ, লুবনা মারিয়াম, মেহের আফরোজ শাওন, কবীর সুমনের মতো ব্যক্তিত্বও এর বিরুদ্ধে অবস্থান নিয়েছেন।

তাদের যুক্তি, যশোর রোড এবং এখানকার শতবর্ষী বৃক্ষ স্বাধীন বাংলাদেশের মুক্তি সংগ্রামের ইতিহাসের সাক্ষী। এ বৃক্ষ কেটে ফেললে পরিবেশে বিরূপ প্রতিক্রিয়া পড়ার পাশাপাশি ইতিহাস ও ঐতিহ্যের এক দুর্লভ স্মৃতিও হারিয়ে যাবে চিরতরে। দেশের অসংখ্য তারকা, শিল্পী নানাভাবে শতবর্ষী বৃক্ষ নিধনের বিরুদ্ধে প্রতিক্রিয়া জানাচ্ছেন।

এবার সেই তালিকায় যুক্ত হলেন চিত্রনায়ক রিয়াজ। তিনি নিজের ফেসবুকে এ বিষয়ে লিখেছেন, ‘গাছ আমাদের পরম মমতায় দেয়। শীতল ছায়া, ফল, ফুল ও নির্মল বাতাস দেয়।’ যশোর রোডের গাছগুলোর প্রাণ বাঁচাতে রিয়াজ প্রধানমন্ত্রীর দৃষ্টি আকর্ষণ করে বলেন, ‘একজন মমতাময়ী মায়ের কাছে ২০০০+ গাছের জীবন ভিক্ষা চাই।’

হুমায়ূন পত্নী শাওন বলেছেন, 'আমি কখনো এই সড়কটি দেখিনি। কিন্তু ইতিহাসের কাছ থেকে জানতে পেরেছি, এসব বৃক্ষের অনাবিল সৌন্দর্যের কথা। আমাদের মুক্তিযুদ্ধের সময় এই সড়ক ধরে শরণার্থীরা সীমানা পেরিয়ে আশ্রয় নিয়েছে।

যে সড়কটিকে না দেখে এতটা সম্মানবোধ ও ভালোবাসা তৈরি হয়েছে, সে সড়কটির মৃত্যুর খবর আমাকে ব্যথিত করে। আমি মনে করি, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এ ধরনের প্রকৃতিবিরুদ্ধ বিষয়কে সমর্থন করেন না, তিনি মমতাময়ী। প্রত্যাশা করি তিনি এ গাছগুলো রক্ষার ব্যবস্থা করবেন। চার লেনের রাস্তার জন্য নিশ্চয়ই বিকল্প ব্যবস্থা আছে। আর উপায় না থাকলেও উপায় বের করা তো নীতিনির্ধারকদেরই কাজ।'

প্রসঙ্গত, যশোর শহরের দড়াটানা মোড় থেকে বেনাপোল পর্যন্ত সড়কটির দুপাশে দুই হাজারেরও বেশি গাছ আছে। এর মধ্যে অনেক গাছ শতবর্ষীও। রাস্তার দুই পাশে এ বৃক্ষরাজী ছায়া হয়ে দাঁড়িয়ে আছে কালের সাক্ষী হয়ে। বাংলাদেশের মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাসেও এ সড়কটির রয়েছে ঐতিহাসিক অবস্থান।

মুক্তিযুদ্ধের সময় মার্কিন কবি অ্যালেন গিন্সবার্গ যুদ্ধ এলাকা পরিদর্শন করেছিলেন। ফিরে গিয়ে তিনি লিখেছিলেন তার ঐতিহাসিক কবিতা ‘সেপ্টেম্বর অন যশোর রোড’। মৌসুমী ভৌমিকও গেয়েছিলেন ‘যশোর রোড’ নামের একটি গান।

তবে উন্নয়নের দোহাই দিয়ে শতবর্ষী এ গাছগুলো কেটে ফেলা হবে একটি আত্মধ্বংসী উদ্যোগ বলে মনে করছেন শিল্পী ও সচেতন সমাজ।


ঢাকা, সোমবার, জানুয়ারী ১৫, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ৩৮৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন