সর্বশেষ
মঙ্গলবার ১০ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

'বাংলাদেশ এখন কম সুদে ঋণ পায়'

শুক্রবার, জানুয়ারী ১৯, ২০১৮

adb-vice-president.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :

বাংলাদেশের জন্য শিগগিরই এডিবিরি ঋণ সহায়তার সুদের হার বাড়ছে না বলে। অর্থনৈতিক উন্নয়নের ক্ষেত্রে ‘বি’ ক্যাটাগরিতে থাকা বাংলাদেশকে কম সুদে ও বাজারের হারেও ঋণ দেওয়া হয় বলে জানিয়েছে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংকের (এডিবি) ভাইস প্রেসিডেন্ট ওয়েনচাই ঝ্যাং।

তিনি বলেন, বাংলাদেশ এখন কম সুদে ঋণ পায়। পাশাপাশি বাজারের হারেও ঋণ দেওয়া হয়। অদূর ভবিষ্যতে এখানে কোনো পরিবর্তন হচ্ছে না।

বৃহস্পতিবার এক সংবাদ সম্মেলনে এসব কথা বলেন এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে অনুষ্ঠিত ২ দিনব্যাপি বাংলাদেশ উন্নয়ন ফোরামের (বিডিএফ) সম্মেলনে যোগ দিতে ঢাকা এসেছেন তিনি। তার সফর সম্পর্কে জানাতে রাজধানীর শেরেবাংলা নগরে এডিবির কার্যালয়ে এ সংবাদ সম্মেলনের আয়োজন করা হয়।

তিনি বলেন, এডিবি বিভিন্ন দেশকে তার অর্থনৈতিক উন্নয়নের ওপর ভিত্তি করে এ, বি ও সি ক্যাটাগরিতে ভাগ করে ঋণ দেয়। বর্তমানে বাংলাদেশ ‘বি’ ক্যাটাগরিতে আছে। এ শ্রেণিতে কম সুদের পাশাপাশি বাজারের হারেও ঋণ দেওয়া হয়। সি শ্রেণিতে শুধু বাজারের সুদের হারে ঋণ দেওয়া হয়।

ওয়েনচাই ঝ্যাং বলেন, সামনের বছরগুলোতে বাংলাদেশ এখনকার শর্তেই ঋণ পাবে, অদূর ভবিষ্যতে আমি এ ক্ষেত্রে কোনো পরিবর্তন দেখতে পাচ্ছি না। বাংলাদেশের শ্রেণি পরিবর্তন করার পরিকল্পনা আপাতত নেই।

ওয়েনচাই ঝ্যাং আরও বলেন, বাংলাদেশ যদি উচ্চ মধ্যম আয়ের অথবা উচ্চ আয়ের দেশ হয় তাহলে একদিন ‘সি’ শ্রেণিতে উন্নীত হবে। তবে বাংলাদেশ কবে সেটা হবে, সেটা এখনই নিশ্চিত নয়।

১৯৭৩ থেকে বাংলাদেশ ও এডিবি খুব ভালো সম্পর্কের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে বলে জানালেন প্রতিষ্ঠানটির ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, এ সময়ে এডিবি ২ হাজার কোটি ডলারের ঋণ বাংলাদেশকে দিয়েছে। গত বছর এর পরিমাণ ছিল ১৯০ কোটি ডলার যা এডিবির মোট ঋণের ১০ শতাংশ। বাংলাদেশ এডিবির ৬ষ্ঠ বড় গ্রাহক। এ দেশের আগে আছে চীন, ভারত, ইন্দোনেশিয়া, পাকিস্তান ও ভিয়েতনাম।

সংবাদ সম্মেলনে এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের উত্তর দেন। এ সময় অন্যান্যদের মধ্যে এডিবিরি কান্ট্রি ডিরেক্টর মনমোহন প্রকাস উপস্থিত ছিলেন।

টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্র (এসডিজি) অর্জন ও প্রবৃদ্ধির আকাঙ্ক্ষা পূরণে বাংলাদেশকে সহায়তার কথা বলেন ওয়েনচাই ঝাং।

বাংলাদেশের উন্নয়নের বড় অংশীদার হিসেবে সহায়তা বাড়ানোর প্রতিশ্রুতিও দেন এডিবির ভাইস প্রেসিডেন্ট। তিনি বলেন, ২০১১ থেকে ২০১৫ এই ৫ বছরে এডিবি বাংলাদেশকে ৫ বিলিয়ন ডলার ঋণ সহায়তা দিয়েছিল। ২০১৬-২০২০ সালে তা বাড়িয়ে ৮ বিলিয়ন ডলার দেওয়ার ঘোষণা দেওয়া হয়েছে। ভবিষ্যতে এই বৃদ্ধির ধারা অব্যাহত থাকবে।

দেশে কর্মসংস্থানহীন মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির বিষয়ে জানতে চাইলে তিনি বলেন, কর্মসংস্থান বাড়াতে বেসরকারি খাতকে এগিয়ে নেওয়া দরকার। এ জন্য ক্ষুদ্র ও মাঝারি শিল্প খাতকে (এসএমই) সহায়তা দেওয়া দরকার। ব্যবসার জন্য উপযোগী পরিবেশ সৃষ্টি করতে হবে।

এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, সরকারের পরিকল্পিত ১০০টি বিশেষ অর্থনৈতিক অঞ্চলের কার্যক্রম শুরু হলে এদেশে ব্যাপক কর্মসংস্থান সৃষ্টি হবে এবং সরাসরি বিদেশী বিনিয়োগ বাড়বে।

গত ২ বছরের ধারাবাহিকতায় চলতি অর্থবছরেও বাংলাদেশে ৭ শতাংশের উপরে জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জিত হবে বলেও মনে করছেন তিনি। তিনি বলেন, গত ২ বছরে ৭ শতাংশের বেশি করেছে। তারই ধারাবাহিকতায় আমাদের পূর্বাভাস হচ্ছে, চলতি অর্থবছরেও বাংলাদেশে ৭ শতাংশে উপরে প্রবৃদ্ধি হবে।

বাংলাদেশ কীভাবে তার উন্নয়ন লক্ষ্য পূরণ করতে পারবে, সে বিষয়েও পরামর্শ দেন ওয়েনচাই ঝ্যাং। তিনি বলেন, প্রতি ৫ বছর পরপর বাংলাদেশ যে পঞ্চবার্ষিকী পরিকল্পনা নেয়, সেটা বাস্তবায়ন করতে হবে সুষ্ঠুভাবে। তাহলেই একদিন উন্নত দেশ হওয়া যাবে। তবে এর জন্য প্রচুর বিনিয়োগ দরকার বলে মনে করেন এডিবির এই কর্মকর্তা।

তিনি প্রাথমিক শিক্ষার প্রসার, শিশু মৃত্যুহার কমানো, মাতৃস্বাস্থ্য উন্নতি, নিরাপদ খাবার পানি, স্যানিটেশন ও ১৯৯০ সালের তুলনায় ২০১৫ সালের মধ্যে দারিদ্যের হার অর্ধেক কমানোসহ সহস্রাব্দের উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে বাংলাদেশের সাফল্যগুলোর প্রশংসা করেন।

রোহিঙ্গা ইস্যুতেও কাজ করার আগ্রহ প্রকাশ করলেন এডিবি ভাইস প্রেসিডেন্ট। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, বাংলাদেশ সরকার যদি রোহিঙ্গা ইস্যুতে সহায়তা চায়, তাহলে এডিবি সহায়তা করতে রাজি আছে। চুক্তি অনুযায়ী নির্ধারিত সময়ের মধ্যে রোহিঙ্গা জনগোষ্ঠি মিয়ানমারে ফিরে যাবে বলেও তিনি আশা প্রকাশ করেন।


ঢাকা, শুক্রবার, জানুয়ারী ১৯, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৭২৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন