সর্বশেষ
শুক্রবার ৬ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ট্রেড লাইসেন্স পেতে করণীয়

শনিবার, ফেব্রুয়ারী ৩, ২০১৮

6.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

যে কোনো দেশে ব্যবসা-বাণিজ্য করার প্রথম শর্ত হল আইনগত বৈধতা। আর এ বৈধতার প্রাথমিক ধাপ হল ট্রেড লাইসেন্স। আর এই লাইসেন্স পেতে হলে আপনাকে কিছু প্রক্রিয়া অনুসরণ করতে হবে।

জেনে নিন ট্রেড লাইসেন্স পেতে আপনার করণীয় সম্পর্কে-

ট্রেড লাইসেন্স কি এবং কেন?
এই লাইসেন্স উদ্যোক্তাদের আবেদনের ভিত্তিতে প্রদান করা হয়ে থাকে। ব্যবসার প্রথম এবং অবিচ্ছেদ্য একটি ডকুমেন্ট হচ্ছে ট্রেড লাইসেন্স। ট্রেড মানে হচ্ছে ব্যবসা আর লাইসেন্স মানে হচ্ছে অনুমতি অর্থাৎ ট্রেড লাইসেন্স মানে হচ্ছে ব্যবসার অনুমতিপত্র।

কিভাবে ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহ উপায়:
ট্রেড লাইসেন্স ছাড়া ব্যবসা পরিচালনা করা আইনের দৃষ্টিতে অপরাধ। যে কোনো ব্যবসা করতে হলে আগে ট্রেড লাইসেন্স নিতে হয়। ১৯৮৬ সালের মিউনিসিপ্যাল কর্পোরেশন ট্যাক্সেশন বিধিমালার ৪৪(১) বিধি অনুসারে সিটি কর্পোরেশন এলাকায় বাণিজ্যিক কার্যক্রম পরিচালনা করতে চাইলে অবশ্যই ট্রেড লাইসেন্স নিতে হবে।

একটি ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের নানা কাজে লাগে এই লাইসেন্স। যেমন- ব্যাংক ঋণ নিতে, ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের ব্যাংক হিসাব খুলতে, ব্যবসা সংক্রান্ত কাজে ব্যবসায়ীর বিদেশে যেতে ইত্যাদি কাজে ট্রেড লাইসেন্স অত্যন্ত প্রয়োজনীয়।

অন্যদিকে এটা সিটি কর্পোরেশনের জন্য একটা রাজস্ব খাত। সিটি কর্পোরেশন ছাড়াও পৌরসভা, উপজেলা পরিষদ, জেলা পরিষদ ও ইউনিয়ন পরিষদ থেকেও ট্রেড লাইসেন্স প্রদান করা হয়।

লাইসেন্স সংগ্রহের নিয়মাবলি-

যোগ্যতা:
নারী-পুরুষ উভয়ই ট্রেড লাইসেন্স করতে পারবে। অবশ্যই তাকে কোনো না কোনো ব্যবসার সঙ্গে জড়িত থাকতে হবে। আর বয়স ১৮ বছরের উপরে হতে হবে।

আবেদন ফরম সংগ্রহ:
ট্রেড লাইসেন্স সংগ্রহের জন্য দুটি ভিন্ন ধরনের ফরম রয়েছে। ফরমগুলো 'আই ফরম' ও 'কে ফরম' নামে চিহ্নিত প্রতিটি ফরমের দাম ১০ টাকা। ব্যবসা প্রতিষ্ঠান যদি ছোট বা সাধারণ হয়, তবে 'আই ফরম' আর বড় ব্যবসার ক্ষেত্রে 'কে ফরম' নিতে হয়।

উত্তর সিটি কর্পোরেশনের পাঁচটি এবং দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের পাঁচটি অঞ্চল রয়েছে। আপনার প্রতিষ্ঠানটি যে অঞ্চলের অন্তর্ভুক্ত, ওই অঞ্চলের অফিস থেকেই লাইসেন্স সংগ্রহ করতে হবে।

লাইসেন্স ফি:
সিটি কর্পোরেশনের দ্বারা প্রতিষ্ঠান সম্পর্কে তদন্ত হতে পারে এবং এই প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে নির্দিষ্ট পরিমাণ লাইসেন্স ফি পরিশোধের মাধ্যমে আপনাকে লাইসেন্স দেয়া হবে। সাধারণত লাইসেন্স ফি সর্বনিম্ন ২০০ থেকে ২৬ হাজার টাকা পর্যন্ত হয়ে থাকে। ব্যবসা প্রতিষ্ঠানের আকার বা ধরন অনুযায়ী এই ফি নির্ধারণ করা হয়।

লাইসেন্স নবায়ন:
প্রতিটি ট্রেড লাইসেন্সের মেয়াদ থাকে ১ বছর। ১ বছর পর সেটি আবার নবায়ন করতে হয়। মেয়াদ শেষ হওয়ার পরবর্তী তিন মাসের মধ্যে লাইসেন্স নবায়নের জন্য আবেদন করতে হবে। এ জন্য বর্তমান ট্রেড লাইসেন্সসহ আঞ্চলিক কর্মকর্তার সঙ্গে যোগাযোগ করতে হয়। লাইসেন্স নবায়ন ফি'র পরিমাণ নতুন লাইসেন্স ফি'র সমান হয় এবং ফি জমাদানের ব্যাংকের নাম ফরমে উল্লেখ করা থাকে।

প্রয়োজনীয় তথ্য সংযোজন:
ট্রেড লাইসেন্সের আবেদন করলে প্রথমে প্রতিষ্ঠানের একটি নাম প্রস্তাব করা হয়। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ তখন দেখেন ওই নাম কাউকে বরাদ্দ দেয়া হয়েছে কিনা? বরাদ্দ দেয়া না হয়ে থাকলে ওই নামে লাইসেন্স দেয়া হয়। ট্রেড লাইসেন্স আবেদন ফরমে দেয়া তথ্যগুলো প্রদান করতে হয়।

সংযুক্ত কাগজপত্র:
ট্রেড লাইসেন্স আবেদনপত্রের সঙ্গে প্রয়োজনীয় কিছু কাগজপত্র সংযুক্ত করতে হয়।

সাধারণ ব্যবসার ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে-
# দোকান ভাড়ার চুক্তিপত্রের সত্যায়িত ফটোকপি, নিজের দোকান হলে বিদ্যুৎ বিল এবং হালনাগাদ হোল্ডিং ট্যাক্স পরিশোধের ফটোকপি। আবেদনকারীর ৩ কপি পাসপোর্ট সাইজের ছবি।

# ব্যবসা যদি যৌথভাবে পরিচালিত হয় তাহলে ১৫০/৩০০ টাকার নন-জুডিশিয়াল স্ট্যাম্পে পার্টনার শিপের অঙ্গীকারনামা/শর্তাবলী জমা দিতে হবে।

ফ্যাক্টরি/কারখানার ট্রেড লাইসেন্সের ক্ষেত্রে-
# পরিবেশের ছাড়পত্রের কপি।
# প্রস্তাবিত ফ্যাক্টরি/কারখানার পার্শ্ববর্তী অবস্থান/স্থাপনার বিবরণসহ নকশা/লোকেশন ম্যাপ।
# প্রস্তাবিত ফ্যাক্টরি/কারখানার পার্শ^বর্তী অবস্থান/স্থাপনার মালিকের অনাপত্তিনামা।
# ফায়ার সার্ভিসের ছাড়পত্র। ঢাকা সিটি কর্পোরেশনের নিয়ম-কানুন মেনে চলার অঙ্গীকারনামা ১৫০/৩০০ টাকার জুডিশিয়ার স্ট্যাম্পে স্বাক্ষরিত।

সিএনজি স্টেশন/দাহ্য পদার্থ ব্যবসার ক্ষেত্রে-
# বিস্ফোরক অধিদফতর/ফায়ার সার্ভিস ও পরিবেশ অধিদফতরের ছাড়পত্র/অনুমতিপত্র।

ক্লিনিক/প্রাইভেট হাসপাতালের ক্ষেত্রে-
# ডিরেক্টর জেনারেল স্বাস্থ্য অধিদফতর কর্তৃক অনুমতিপত্র।

# লিমিটেড কোম্পানির ক্ষেত্রে কোম্পানির মেমোরেন্ডাম অব আর্টিকেল।

# সার্টিফিকেট অব ইনকর্পোরেশন।

প্রিন্টিং প্রেস এবং আবাসিক হোটেলের ক্ষেত্রে- ডেপুটি কমিশনার কর্তৃক অনুমতিপত্র।

রিক্রুটিং এজেন্সির ক্ষেত্রে- মানবসম্পদ রফতানি ব্যুরো কর্তৃক প্রদত্ত লাইসেন্স।

অস্ত্র ও গোলাবারুদের ক্ষেত্রে- অস্ত্রের লাইসেন্স।

ওষুধ ও মাদকদ্রব্যের ক্ষেত্রে- ড্রাগ লাইসেন্সের কপি।

ট্রাভেলিং এজেন্সির ক্ষেত্রে- সিভিল এভিয়েশন কর্তৃপক্ষের অনুমতি।

আইনগত বিধিমালা:
একটি ট্রেড লাইসেন্স একাধিক ব্যবসায় ব্যবহার করা যায় না। একটি ট্রেড লাইসেন্স শুধু একটি ব্যবসার জন্যই প্রযোজ্য। অর্থাৎ যে ব্যবসা পরিচালনার জন্য ট্রেড লাইসেন্সটি করা হয় শুধু সেই ব্যবসা পরিচালনার জন্য ব্যবহার করা যাবে অন্য কোনো ধরনের ব্যবসার জন্য ব্যবহার করা যাবে না। নতুন কোনো ব্যবসা শুরু করলে তার জন্য নতুন ট্রেড লাইসেন্স করতে হবে।

একটি ট্রেড লাইসেন্স একাধিক ব্যক্তিও ব্যবহার করতে পারবেন না। একটি ট্রেড লাইসেন্স শুধু একজন ব্যবসায়ী/উদ্যোক্তা ব্যবহার করতে পারবেন। অর্থাৎ যে ব্যবসায়ী/উদ্যোক্তার নামে ট্রেড লাইসেন্সটি করা হয়েছে এটি শুধু তার জন্যই প্রযোজ্য। এটা কোনোভাবেই হস্তান্তরযোগ্য নয়।


ঢাকা, শনিবার, ফেব্রুয়ারী ৩, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ১৫৯৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন