সর্বশেষ
শুক্রবার ২রা অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৬ নভেম্বর ২০১৮

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় বিশ্বসেরা তালিকায়: উপাচার্য

শনিবার, ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০১৮

eeeee.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :

বঙ্গবন্ধু মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়কে গত বছরের বিশ্বসেরা তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। স্পেনের সিমাগো এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্কপাস নামের দুইটি বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা মান সম্মত চিকিৎসা এবং গবেষণার জন্য অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এবং বাংলাদেশ পঞ্চম স্থান এবং দক্ষিণ এশিয়ার মেডিকেল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানের মর্যদা দিয়েছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাংকিংয়ে গত তিন বছরে ৭২ থেকে ২৪ এ উন্নীত হয়েছে।

বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল কলেজ হাসপাতালের উপাচার্য অধ্যাপক কামরুল ইসলাম খান এ তথ্য জানিয়েছেন। আজ আজ শনিবার বেলা ১১ টা ২০ মিনিটে বিএসএমএমইউয়ের বি ব্লকের শহিদ মিলন অডেটিরিয়াম হলে তৃতীয় সমাবর্তনী অনুষ্ঠান উপলক্ষে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে তিনি এসব তথ্য জানান।

বিএসএমএমইউয়ের ভিসি বলেন, আমি বিশ^বিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠানে আপনাদের সবাইকে জানাই আন্তরিক শুভেচ্ছা ও অভিনন্দন। আমি গভীর শ্রদ্ধার সঙে স্বরণ করছি শহীদ জাতীয় চারনেতা, ভাষা আন্দলনে মুক্তিযদ্ধে সহ সকল শহীদরদের যাঁদের আত্মত্যাগে আজকের বাংলাদেশ। বিএসএমএমইউয়ের সকল শিক্ষক, চিকিৎসক,কর্মকর্তা, কর্মচারীদের বিদেহী আত্মারপ্রতি। এছাড়াও বিনম্র চিত্তে স্বরণ করছি প্রথম সমাবনের সভাপতি প্রয়াত রাষ্ট্রপতি জিল্লুর রহমানকে।

অধ্যাপক কামরুল ইসলাম খান বলেন, প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার চলমান উন্নয়নের ধারার অন্যমত অবদান বিএসএমএমইউয়ের প্রতিষ্ঠা। বর্তমানে দেশের মানুষের চিকিৎসা ও উচ্চ মেডিকেল শিক্ষার ভরসাস্থল। শেখ হাসিনা ১৯৯৬ সালে সরকারের দায়িত্ব গ্রহণের পর ১৯৯৮ সালের ৩০ এপ্রিল বিএসএমএমইউ স্থাপন করেছিল। প্রতিষ্ঠাকাল থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল শিক্ষক, চিকিৎসক, নার্স কর্মকর্তা, কর্মচারীদের ঐকান্তিক প্রচেষ্টায় আজকে বিএসএমএমইউ দেশের মানুষের আকাঙ্খার জায়গায় পৌছেছে।

বিএসএমএমইউয়ের ভিসি বলেন, গত বছর জাতির পিতার নামে এ বিশ্ববিদ্যালয় গত বছরের বিশ্বসেরা তালিকায় অন্তর্ভূক্ত করা হয়েছে। স্পেনের সিমাগো এবং যুক্তরাষ্ট্রে স্কপাস নামের দুইটি বিশ্বখ্যাত জরিপ সংস্থা মান সম্মত চিকিৎসা এবং গবেষণার জন্য অন্যান্য বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে এবং বাংলাদেশ পঞ্চম স্থান এবং দক্ষিণ এশিয়ার মেডিকেল প্রতিষ্ঠানের মধ্যে দ্বিতীয় স্থানের মর্যদা দিয়েছে। বাংলাদেশের বিশ্ববিদ্যালয়গুলোর র‌্যাংকিংয়ে গত তিন বছরে ৭২ থেকে ২৪ এ উন্নিত হয়েছে।

বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য  বলেন,আগামী ১৯ ফেব্রুয়ারি বেলা তিনটার সময়ে বিএসএমএমইউয়ের কেবিন ব্লকের মাঠে তৃতীয় সমাবর্তন অনুষ্ঠান হবে। সেখানে উপস্থিত থাকবেন রাষ্ট্রপতি আবদুল হামিদ। সর্বশেষ তথ্যানুযায়ী এক হাজার ২০২ জন উচ্চতর ডিগ্রি অজর্নকারী চিকিৎসক সমাবর্তনে অংশ নিয়ে তাদের সনদ নেবেন। এদের মধ্যে মেডিসিন অনুষদে ৩৪১ জন, সার্জারি অনুষদে ৩৮৮জন, বেসিক সায়েন্স ও প্যারাক্লিনিক সায়েন্স অনুষদে ২৪১ জন, ডেন্টাল অনুষদে ৫০ জন, প্রিভেন্টিভ এন্ড সোশ্যাল মেডিসিন অনুষদে ১৪০ জন উচ্চতর ডিগ্রি অর্জনকারী চিকিৎসক এবং নার্সিং অনুষদে ৪২ জন ডিগ্রিধারী নার্স তাদের সনদ নেবেন। ডিগ্রিধারী শিক্ষার্থীদের মধ্যে ৬০১ জন ছাত্র এবং ৬০১ জন ছাত্রী মোট এক হাজার ২০২ জন শিক্ষার্থী রয়েছেন।

অধ্যাপক কামরুল ইসলাম খান বলেন, বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়ে বর্তমানে ৪২টি অধিভুক্তি প্রতিষ্ঠান। এখানে উচ্চতর কোর্সের সংখ্যা ৯৫টি, এরমধ্যে আবাসিক ৬২ টি, অনাবাসিক ৩০টি, বিএসসি নাসিং একটি এবং মাষ্টার অফ সায়েন্স ইন নাসিং একটি এবং পিএইডি একটি। বর্তমানে এখানে প্রতি বছর দুই হাজার ২৭৪ জন ছাত্র ছাত্রী ভর্তি হয়। এরমধ্যে এক হাজার ৯৯ জন আবাসিক ছাত্র ছাত্রী এবং এক হাজার ১৭৫ জন অনাবাসিক ছাত্র ছাত্রী রয়েছে। বিএসএমএমইউয়ে ৯৫টি পোষ্ট গ্রাজুয়েট কোর্স পরিচালনা করা হচ্ছে অন্যান্য ৪১ টি মেডিকেল শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের মধ্যে রয়েছে ৬২ টি রেসিডেন্সী প্রোগ্রাম। চালু হয়েছে এমএসসি নাসিং কোর্স, বাংলাদেশের ছাত্র ছাত্রীদের বাইরেও প্রায় তিনশ বিদেশী ছাত্র বিভিন্ন কোর্সে লেখা পড়া করছে।

বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য  বলেন, প্রতিদিন বর্হিবিভাগে প্রায় আট হাজার রোগী চিকিৎসা নিয়ে সন্তুষ্টিচিত্তে বাড়ি ফিরছেন। এখানে বর্তমানে বিভিন্ন ইউনিট সহ ৫২টি পুনাঙ্গ বিভাগ রয়েছে আরো সুশৃঙ্খল এবং ডিজিটাল করা হয়েছে আর্থিক ব্যবস্থাপনা। আমাদের হাসপাতালে এখন সমাজের সর্বস্তরের মানুষ ভর্তি হয়ে চিকিৎসা নিয়ে সন্তোষ প্রকাশ করেছেন। সাবেক রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রী, সরকারের উচ্চ পর্যায়ের কর্তকর্তাবৃন্দ, সমাজের বিভিন্ন পর্যায়ের গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং তাঁদের পরিবারের সদস্যরা এখানে প্রতিনিয়ত চিকিৎসা নিচ্ছেন।

তিনি বলেন, রোগীদের উন্নত চিকিৎসা দেওয়া জন্য ইতোমধ্যে শিশু নিউরোলজি, শিশু কার্ডিয়াওলজি, প্যালিয়েটিভ কেয়ার মেডিসিন, রেপপিরেটরি মেডিসিন, পেডোডনটিক্স বিভাগ এবং জেরিয়াট্রকি মেডিসিন ইউনিট।

এছাড়াও সার্জিক্যাল অনকোলজি, কলোরেক্টাল সার্জারি, হেপাটোবিলিয়ারী এন্ড প্যানক্রিয়েটিক সার্জারি গাইনোকলোজিক্যাল অনকোলজি, রিপ্রোডাকটিভ এন্ডোক্রাইনোলজি এন্ড ইনফার্টিলিটি এবং ফিটোম্যার্টার্নাল মেডিসিন নামের আরো ছয়টি বিভাগ খোলার সিদ্ধান্ত হয়েছে। অনুমোদিত হয়েছে নতুন শিশুরোগ অনুষদ। মেডিকেল শিক্ষা ব্যবস্থায় গবেষনাকে জোরদার করার জন্য প্রতিষ্ঠিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা কেন্দ্রে। এদেশের প্রতিবন্ধী শিশুদের সঠিকভাবে বেড়ে ওঠাকে ত্বরানিত্ব করার জন্য ইন্সটিটিউব অব পেডিয়াট্রিক নিউরোডিজ অর্ডার এন্ড অটিজম (ইপনা) স্থাপনের বিষয়টিও অনুমোদিত হয়েছে। চালু হয়েছে ২৪ ঘন্টা ল্যাবরেটরি সার্ভিস। মুক্তিযোদ্ধা এবং একুশে গ্রেনেড হামলায় আহত রোগীদের জন্য বিশেষ চিকিৎসা ব্যবস্থা করা হয়েছে।

বিএসএমএমইউয়ের উপাচার্য বলেন, ছাত্র-শিক্ষক কেন্দ্র এখন বিশ^বিদ্যালয়ের প্রাণকেন্দ্র। বেসরকারী আবাসিকদের জন্য সরকার থেকে মাসে ২০ হাজার টাকা সম্মানির ব্যবস্থা করা হয়েছে। চালু করা হয়েছে ছাত্র-ছাত্রীদের জন্য বিশেষ বাস সার্ভিস। শিক্ষা, সেবাসহ সকল পর্যায়ের মান উন্নয়নের জন্য চালু করা হয়েছে ইনস্টিটিউশনাল কোয়ালিটি এ্যাসুরেন্স সেল (আইকিউএসি)। সকল শিক্ষক, কনমালট্যান্ট, কর্মকর্তা নার্সদের জন্য আয়োজন করা হয়েছে প্রশাসনিক প্রশিক্ষন কর্মশাল। বিশ্ববিদ্যালয় জার্নাল এখন নিয়মিত প্রকাশ করা হয়ে থাকে। যা দেশের প্রথম সারির জার্নাল হিসেবে পরিগণিত হয়েছে। গত তিন বছরে এক হাজারের গবেষণা কর্ম সম্পন্ন হয়েছে। প্রথমবারের মত উদযাপিত হয়েছে বিশ্ববিদ্যালয় গবেষণা দিবস। গত তিন বছরে ১০৮ জন শিক্ষক এবং ৮০৭ জন ছাত্রকে গবেষনা অনুদান দেওয়া হয়েছে।

এছাড়াও আমাদের রয়েছে বিশ্বের বিখ্যাত বিশ্ববিদ্যালয়ের সঙ্গে সমঝতা স্বারক চুক্তি। সম্পন্ন হয়েছে অনকোলজি বিল্ডিং, ছাত্রবাস, এবং কনভেশন সেন্টারের নির্মান কাজ। অচিরেই সেগুলো উদ্বোধন করা হবে।

অধ্যাপক কামরুল ইসলাম খান বলেন, কোরিয়ন সরকারে সহযোগিতা অচিরেই নির্মিত হতে যাচ্ছে এক হাজার বেডের সুপার স্পেশলাইজড হাসপাতাল। ইতোমধ্যে সফলভাবে সম্পন্ন হয়েছে ৫১৭ টি কিডনি প্রতিস্থাপন। পর্যায়ক্রমে চালু করা হয়েছে আধুনিক হাসপাতাল ফার্মেসি। পরিচ্ছন্ন পরিবেশে শিক্ষক, ছাত্র, নার্স কর্মচারীদের আন্তরিক টিম ওয়ার্কের মাধ্যমে পরিচালিত হচ্ছে সকল কার্যক্রম। আগামী ৫০ বছরের পরিকল্পনা মাথায় রেখে একটি মাষ্টার প্লান নিয়ে চলছে সকল উন্নয়ন কার্যক্রম। অচিরেই যুক্ত হতে যাচ্ছে ইমার্জেন্সী সার্ভিস, ওয়ানস্টপ পয়েন্ট চেকআপ সেন্টার, ডে কেয়ার সেন্টার, বোনমেরো ট্রান্সপ্লানটেশন, ই-টেকেটিং সর্বক্ষেত্রে ডিজিটাল পদ্ধতি।

তিনি বলেন, আগামী মার্চের প্রথম সপ্তাহে লোকাল এরিয়া নেটওয়ার্ক-ল্যান স্থাপনের মাধ্যমে বিশ্ববিদ্যালয়ে পেপারলেস কার্যক্রম যুক্ত হবে। প্রতিদিন এখানে অনুষ্ঠিত হচ্ছে আন্তর্জাতিক বৈজ্ঞানিক সম্মেলন, সেমিনার, সিম্পোজিয়াম, ওয়ার্কশপ দেশী-বিদেশী চিকিৎসা বিজ্ঞানীদের উপস্থিতিতে। আমাদের ছাত্র এবং তরুণ চিকিৎসকেরা এ সুযোগ গ্রহণ করে নিজেদেরকে সমৃদ্ধ করছে নতুন নতুন জ্ঞান,অভিজ্ঞতা নিয়ে। চিকিৎসা বিজ্ঞানের বিভিন্ন সোসাইটির সহযোগিতায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় গড়ে উঠেছে চিকিৎসা বিজ্ঞান চর্চার প্রাণকেন্দ্র।


ঢাকা, শনিবার, ফেব্রুয়ারী ১৭, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ২২৮৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন