সর্বশেষ
শনিবার ৭ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

কোষ্ঠকাঠিন্যের কারণ ও প্রতিকারের উপায়

বুধবার, ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০১৮

16.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

বর্তমানে কোষ্ঠকাঠিন্য একটি সাধারণ সমস্যা। দ্রুত চিকিৎসা করে ফেলতে পারলে এটি খুব বেশি মারাত্মক কিছু নয় যদি। তা না হলে পাইলস হওয়ার আশংকা বেড়ে যায়। তাই সাবধান থাকতে হবে সবাইকে।

কোষ্ঠকাঠিন্য হলে ভালোভাবে জীবনযাপন করাটাও কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। অনেকেই প্রায় নিয়মিত কোষ্ঠকাঠিন্যে ভোগেন, বিশেষ করে বয়স্ক মানুষেরা। গর্ভবতী নারীদেরও এটা একটা সমস্যা। অাসুন জেনে নেই কোষ্ঠকাঠিন্য সম্পর্কে বিস্তারিত-

কোষ্ঠকাঠিন্য কেন হয়:
১. আঁশজাতীয় খাবার এবং শাকসবজি ও ফলমূল কম খেলে
২. পানি কম খেলে
৩. দুশ্চিন্তা করলে
৪. কায়িক পরিশ্রম, হাঁটা-চলা কিংবা ব্যায়াম একেবারেই না করলে
৫. অন্ত্রনালীতে ক্যান্সার হলে
৬. ডায়াবেটিস হলে
৭. মস্তিষ্কে টিউমার হলে এবং মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণের ফলে
৮. অনেক দিন বিভিন্ন অসুস্থতার কারণে বিছানায় শুয়ে থাকলে
. বিভিন্ন ধরনের ওষুধ সেবন, যেমন: ব্যথার ওষুধ, উচ্চ রক্তচাপের ওষুধ, খিঁচুনির ওষুধ এবং আয়রন, ক্যালসিয়াম ও অ্যালুমিনিয়াম জাতীয় ঔষধ সেবনে৷

তাছাড়া স্নায়ুতন্ত্র ও হরমোনের বিভিন্ন ধরনের অসুবিধার জন্যও কোষ্ঠকাঠিন্য হতে পারে। এর মধ্যে কাঁপুনিজনিত অসুখ, স্নায়ু রজ্জু আঘাতপ্রাপ্ত হলে, কিডনির দীর্ঘমেয়াদি সমস্যা ও থাইরয়েডের সমস্যা উল্লেখযোগ্য।

কোষ্ঠকাঠিন্যের রোগীরা যে খাবার এড়িয়ে চলবেন:
# দুধ ও দুগ্ধজাত খাবার। যেমন: পনির, আইসক্রিম ইত্যাদি।
# লাল মাংসে। যেমন: গরু ও খাসির।
# স্ন্যাকস বা নাশতা হিসেবে পটেটো জাতীয় চিপস।
# হিমায়িত খাবার, সংরক্ষিত বা প্রক্রিয়াজাত খাবার।
# বেকারি পণ্য। যেমন: বিস্কুট, ক্র্যাকার্স, ডোনাট, পেস্ট্রিজাতীয় খাবার ও পাউরুটি।
# কাঁচকলা।
# ভাজাপোড়া, ফ্রেঞ্চ ফ্রাই, চিকেন ফ্রাই।

কোষ্ঠকাঠিন্য দূর করতে যা খাবেন:
এ রোগ থেকে মুক্তি পেতে দৈনিক ২৫ গ্রাম আঁশ পেটে যাওয়া দরকার। আর এই আঁশ পেতে পারেন খাবার থেকেই।

আপেল:
কোষ্ঠকাঠিন্য হলে কেবল যে পেট ব্যাথা হবে তা নয় এর জন্য ভবিষ্যতে গুরুতর গ্যাস্ট্রিকের সমস্যাও দেখা দিতে পারে। আপেল এই সমস্যা সারাতে পারে। এই ফলে ৪.৪ গ্রাম আঁশ থাকে যা কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার জন্য বেশ কার্যকর। এছাড়াও অন্যান্য কাঁচাফল যেমন নাশপাতি, পাম ইত্যাদি খোসাসহ খেলে আঁশ পাওয়া যায়।

বাদাম:
ক্যালরির ভালো উৎস। তাই প্রতিদিন কাঠবাদাম খাওয়ার ব্যাপারে সচেতন থাকা উচিত। চিনাবাদাম, কাঠবাদাম, তিসি ইত্যাদি উচ্চ আঁশযুক্ত খাবার। এক মুঠ কাঠবাদামে ৩ গ্রাম আঁশ থাকে যেখানে পেস্তাবাদাম ও পিকান বাদামে থাকে ২.৫ থেকে ২.৯ গ্রাম আঁশ থাকে।

লাল-চাল:
ওটস, বার্লি, রাই এবং লালচাল আঁশের ভালো উৎস। প্রতি কাপ লাল চালে ৪ গ্রাম আঁশ থাকে। প্রতিদিন খাদ্যতালিকায় এই উপাদানগুলো রাখলে তা হজমে সাহায্য করে ও কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যা সমাধানে সাহায্য করে।

পালংশাক:
আঁশজাতীয় খাবার। এটি দীর্ঘ সময় পর্যন্ত পেট ভরা রাখতে সাহায্য করে। এছাড়াও গাজরজাতীয় সবজি, ব্রোকলি ও ডাল হজমে সহায়তা করে। তাই কোষ্ঠকাঠিন্য সমাধানে এই খাবারগুলো নিয়মিত খাওয়া উচিত।

শুকনা ফল:
শুকনা ফল যেমন- এপ্রিকটস, আলু বোখরা, খেজুর ও কিশমিশ উচ্চ আঁশসমৃদ্ধ খাবার। আলু বোখরায় আছে সর্বিটল, যা প্রাকৃতিক ল্যাক্সেটিভ হিসেবে কাজ করে কোষ্ঠকাঠিন্য সমস্যার সমাধান করে।

এছাড়া কলা, কফি, পানি, কমলা, পপকর্ন, টকদই, ইসুপগুলের ভুষি, গাজর, শসা, বেলের সরবত, ত্রিফলা ও তিলবীজ খেতে পারেন৷


ঢাকা, বুধবার, ফেব্রুয়ারী ২৮, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এইচ এই লেখাটি ৮০৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন