সর্বশেষ
শুক্রবার ৬ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

অবহেলিত ও পথহারা নারীদের জন্য নিবেদিত প্রাণ অ্যাঞ্জেলা

মঙ্গলবার, মার্চ ১৩, ২০১৮

main-qimg-4c948a9ec8ef4a52d7c996330a21a7cc_0.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

সমাজের অবহেলিত আর পথহারা নারীদের জন্য নিবেদিত প্রাণ অ্যাঞ্জেলা গোমেজ। ৬৫ বছর বয়সেও নির্দ্বিধায় ছুটে ছুটে নারীর অধিকার রক্ষায় দিন রাত কাজ করে চলেছেন তিনি। নারীর অধিকার রক্ষার তিন দশক ধরে কাজ কর চলেছেন অ্যাঞ্জেলা গোমেজ। সমাজের অবহেলিত আর পথহারা নারীদের জন্য যশোরে গড়ে তুলেছেন 'বাঁচতে শেখা' নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এর সহায়তায় অসংখ্য নারী পেয়েছেন নতুন ঠিকানা।

অ্যাঞ্জেলার সংগ্রাম সেই ছোটবেলা থেকেই। ১৯৫২ সালের ১৬ জুলাই গাজীপুরের কালীগঞ্জের মাল্টা গ্রামে জন্ম নেয়া অ্যাঞ্জেলা গোমেজ স্কুলে পড়ার সময়ই নিজের বাল্য বিয়ে রোধ করেন। পরে বিএ পাস করে যশোরে শিক্ষকতা পেশায় যুক্ত হন। পাশাপাশি বাল্য বিবাহ প্রতিরোধ, নারী নির্যাতন বন্ধসহ নারী অধিকার রক্ষায় কাজ শুরু করেন।

১৯৮১ সালে যশোরে গড়ে তোলেন 'বাঁচতে শেখা' নামে একটি প্রতিষ্ঠান। এর সহায়তায় অসংখ্য সুবিধাবঞ্চিত নারী পেয়েছেন নতুন ঠিকানা। প্রেরণা পেয়েছেন কিভাবে আত্মনির্ভরশীল হয়ে বেঁচে থাকা যায়। আজ তাদের সবাই স্বাবলম্বী। তারা এখন অধিকার নিয়ে সম্মানের সঙ্গে পরিবারে আছেন, সংসার করছেন।

অ্যাঞ্জেলা গোমেজ ও তার ‘বাঁচতে শেখা’র আজকের অবস্থানে পৌঁছানোর পথটি মোটেও কুসুমাস্তীর্ণ ছিল না। একে তো খ্রিস্টান, তার ওপর কুমারী। গ্রামে-গঞ্জে এমনকি শহরেও কাজ করতে গিয়ে হেনস্থার শিকার হতে হয়েছে প্রতিনিয়ত। অ্যাঞ্জেলা গোমেজ বললেন, ‘প্রথম দিকে অনেকেই আমাকে মেনে নিতে পারেনি। আমার শরীরে মল ছুড়ে মেরেছে। কটু কথা বলেছে। দেয়ালে দেয়ালে পোস্টার সেঁটেছে। একের পর এক মামলা করেছে। আমি দমে যাইনি। ভালো মানুষও অনেক আছেন। তাদের পাশে পেয়েছি। তাদের সহযোগিতাতেই এতদূর আসতে পেরেছি।’

শুরু থেকেই অ্যাঞ্জেলা গোমেজ তার সংগঠন 'বাঁচতে শেখা'র মাধ্যমে গ্রামের অসহায় নির্যাতিত গরিব মহিলাদের আর্থ-সামাজিক অবস্থার উন্নয়নের লক্ষ্যে কাজ করে চলেছেন। শিক্ষা প্রকল্পের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানটি বয়স্ক মহিলাদের শিক্ষা প্রদান করে থাকে। এছাড়া সুবিধাবঞ্চিত শিশু-কিশোরদেরও শিক্ষা প্রদান করা হয় এ প্রকল্পে। ঝরেপড়া শিশু-কিশোরদের (ড্রপআউট চিলড্রেন) ‘কিশোর শিক্ষা’ প্রকল্পের আওতায় এনে শিক্ষা প্রদান করা হয়।

এ প্রকল্প থেকে প্রায় তিন লাখ ৬০ হাজার কিশোর শিক্ষাসুবিধা লাভ করেছে। মা ও শিশুস্বাস্থ্য পরিচর্যা প্রকল্পের আওতায় মহিলাদের গর্ভধারণ, সন্তান প্রসব, প্রসূতি সেবা ছাড়াও জরুরি চিকিৎসা সেবা প্রদান করা হয়। শিশুদের ছয়টি মারাত্মক রোগের টিকাও প্রদান করা হয়। এ প্রকল্পে প্রায় তিন লাখ মা ও শিশু উপকৃত হয়েছেন। নারী-পুরুষের সমান অধিকার, লিঙ্গ বৈষম্য দূরীকরণে বাঁচতে শেখার অবদান দেশে-বিদেশে প্রশংসিত হয়েছে।

আইন ও মানবাধিকার প্রতিষ্ঠা, বিকল্প পদ্ধতিতে সমস্যার সমাধান করার ক্ষেত্রেও তাদের রয়েছে উল্লেখযোগ্য সাফল্য। এছাড়া মহিলাদের ভোট শিক্ষা প্রকল্প, প্রতিবন্ধীদের স্বাভাবিক জীবনে ফিরিয়ে আনা, হস্তশিল্প, কৃষিক্ষেত্র, হাঁস-মুরগি ও গবাদিপশু পালন, মৌচাষ, রেশম চাষ, মৎস্য চাষ, ঘূর্ণায়মান ঋণের ক্ষেত্রেও প্রতিষ্ঠানটি প্রশংসনীয় সাফল্য দেখিয়েছে।

কাজের স্বীকৃতি স্বরূপ ১৯৯৯ সালে এশিয়ার মর্যাদাশীল ম্যাগসাইসাই পুরস্কার, বেগম রোকেয়া পদক, কিট বিশ্ববিদ্যালয়ের ডি-লিট উপাধিসহ পেয়েছেন অসংখ্য পুরস্কার ও সম্মাননা।

সংগ্রামী নারী অ্যাঞ্জেলা গোমেজের ইচ্ছা - নারীর অধিকার প্রতিষ্ঠায় আজীবন কাজ করে যাওয়া। বিভিন্ন সম্মাননা থেকে পাওয়া টাকা দিয়ে গড়তে চান গ্রামীণ বিশ্ববিদ্যালয়।


ঢাকা, মঙ্গলবার, মার্চ ১৩, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ৪০৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন