সর্বশেষ
মঙ্গলবার ১০ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

স্টার সানডে পালনের টাকা জোগাড় করতেই জোড়া খুন: র‌্যাব

বৃহস্পতিবার, মার্চ ২২, ২০১৮

2c0a03ae6b785a07492b9ac3ef08db32-5ab37f1395ab9.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :

খালার সুজাতার বাসায় টাকা চুরি করে ‘স্টার সানডে’ উদযাপন করবে বলে এক মাস ধরে পরিকল্পনা করেছিল সঞ্জিব চিরান বলে জানিয়েছে র‌্যাব। খালা সুজাতার পরিবারের সবাই চাকরিজীবী হওয়ায় ওই বাসা থেকে পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা পাওয়া যাবে বলেও ধারণা ছিল সঞ্জিব চিরানের।

বৃহস্পতিবার দুপুরে রাজধানীর কাওরানবাজারের র‌্যাবের মিডিয়া সেন্টারে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এসবক কথা বলেন র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান।

কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন,  গত ২০ মার্চ গুলশানের কালাচাঁদপুরে শিশু মালঞ্চ স্কুল রোডের ক-৫৮/২ নম্বর বাড়ির চতুর্থ তলার একটি বাসায় সুজাতা চিরান ও তার মা বেসেত চিরানকে হত্যা করা হয়। তাদের মধ্যে সুজাতা চিরানকে ধারালো অস্ত্র দিয়ে কুপিয়ে ও গলা কেটে এবং বেসেত চিরানকে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়। এ ঘটনায়  গত ২১ মার্চ গুলশান থানায় একটি হত্যা মামলা করা হয়। মামলা নম্বর-২৫।

র‌্যাব জানিয়েছে, ওই বাড়িতে সুজাতা চিরান, তার মা বেসেত চিরান, দুই মেয়ে মায়াবী ও সুরভী এবং মায়াবীর এক বছরের বাচ্চা বসবাস করত। এছাড়াও জামাই পেলেস্তা সপ্তাহে এক থেকে দুই দিন এই বাসায় রাত্রিযাপন করত। মেজ মেয়ে মাধবী তার কর্মস্থল পার্লারের মেসে থাকত। তাদের গ্রামের বাড়ি ময়মনসিংহে হালুয়াঘাটে। পরিবারের সদস্যদের মধ্যে মায়াবী বিক্রয়কর্মী, হাশিষ ও পেরেস্তা দারোয়ান, মাধবী পার্লারের কর্মী এবং সুরভী একটি ব্যাগ তৈরির কারখানার কর্মী। ঘটনার দিনে সুজাতা ও বেসেত চিরান ছাড়া পরিবারের অন্য সকল সদস্য বাসার বাইরে নিজ নিজ কর্মস্থলে ছিল। সুজাতার মেয়ে জামাই পেলেস্তা ওই দিন সন্ধ্যায় কর্মস্থল থেকে বাসায় ফিরলে ঘরের মেঝেতে সুজাতার রক্তাক্ত লাশ এবং কিছু সময় পর খাটের নিচে ভিকটিম বেসেত চিরানের লাশ দেখতে পায়।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক বলেন, গত ২১ মার্চ র‌্যাব-১ এর একটি দল জানতে পারে যে, শেরপুর জেলার নলিতাবাড়ি এলাকায় হত্যাকান্ডে জড়িত আসামিরা আত্মগোপনের উদ্দেশ্যে অবৈধভাবে ভারতে যাওয়ার জন্য অবস্থান করছে। র‌্যাব ওইদিন বিকাল সাড়ে পাঁচটার সময়ে সঞ্জীব চিরান (২১), রাজু সাংমা ওরফে রাসেল (২৪), প্রবীণ সাংমা (১৯) এবং শুভ চিসিম  ওরফে শান্ত (১৮), কে গ্রেপ্তার করে। এ সময়ে তাদের কাছ থেকে একটি ছোরা উদ্ধার করা হয়।

কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, গ্রেপ্তারকৃত আসামিদের জিজ্ঞাসাবাদে জানা যায়, গত এক মাস পূর্বে আসামি সঞ্জীব, শান্ত ও প্রবীণ তিন বন্ধু মিলে শেরপুরের ঝিনাইগাতী এলাকায় বসে পরিকল্পনা করে যে, ঢাকায় আসামি সনজিবের খালা সুজাতার বাসায় এসে তারা টাকা চুরি করে আসন্ন ‘স্টার সানডে’ উদ্যাপন করবে। যেহেতু সনজিবের খালা সুজাতার পরিবারের সকলে চাকুরীজিবি, সেহেতু তাদের নিকট পাঁচ থেকে ছয় লাখ টাকা সঞ্চিত থাকতে পারে বলে তারা ধারণা করে এবং বাসায় সাধারণত সকালের দিকে সঞ্জিবের বৃদ্ধ নানী বেসেত একা থাকায় তাদের কাজ সহজ হবে। পরিকল্পনামতে গত ১৯ মার্চ তারা তিনজন ঢাকায় এসে কুড়িলে তাদের বন্ধু রাজুর কাছে আসে। রাজুর ওই দিন রাতে ডিউটি ছিল। পরে সঞ্জিব, শান্ত ও প্রবীণ উত্তরায় রাজুর বন্ধুর বাসায় রাত্রি যাপন করে।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক বলেন, পরদিন ২০ মার্চ সকালে সঞ্জিব, শান্ত এবং প্রবীণ কুড়িলে অবস্থিত রাজুর কর্মস্থলে গিয়ে রাজুর সাথে সাক্ষাৎ করে। রাজুকে তারা পরিকল্পনাটি জানায়। রাজু সবসময় একটি ধারালো অস্ত্র (ছোরা) বহন করত বলে সঞ্জিব জানত। তখন সঞ্জিব রাজুকে ছোরাটি দিতে বললে রাজু ধারালো অস্ত্রটি (ছোরা) সঞ্জিবের কাছে হস্তান্তর করে। তারপর কুড়িল থেকে সবাই মিলে কালাচাঁদপুরে ভিকটিমদের বাসার সামনে আসে। সকাল  নয়টার সময়ে প্রথমে রাজু ও প্রবীণ ভিকটিমের বাসায় গেলে তারা বাসার ভেতরে ভিকটিম সুজাতা বেসেত এবং সুজাতার মেয়ে মায়াবীকে দেখে ফিরে এসে নিচে সঞ্জিব ও শান্তকে জানায়। বাসায় তিনজন থাকলে তাদের পক্ষে চুরি করা সম্ভব হবে না। এরপর আসামিরা  পাঁচ থেকে ছয় ঘন্টা যাবৎ কালাচাঁদপুর এলাকায় ঘোরাঘুরি করে কাটায়। কিছু সময় পর ভিকটিম বেসেত বাসা থেকে নিচে নেমে আত্মীয়ের বাসায় যাওয়ার জন্য বাইরে চলে যায়।

কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, ঘটনার দিন বিকাল তিনটার সময়ে সঞ্জিব শান্ত, রাজু ও প্রবীণকে নিয়ে ভিকটিমের বাসায় যায়। ওই সময়ে সুজাতা ও তার মেয়ে মায়াবী অবস্থান করছিল। এছাড়া মায়াবীর এক বছরের একটি মেয়ে সন্তানও ছিল। সঞ্জিব ও তার বন্ধুরা বাসায় গেলে সুজাতা তাদের নাস্তার জন্য চা-বিস্কুট দেয়। নাস্তা শেষে সঞ্জিব তার খালা সুজাতাকে দুইশত টাকা দিয়ে দেশীয় মদ ‘‘চু’’ আনতে বলে। সুজাতা দেশীয় মদ আনলে সকলে মিলে পান করে এবং আসামিরা পরিকল্পিতভাবে সুজাতাকে বেশি মদ খাইয়ে নেশাগ্রস্থ করে ফেলে। একই সময় মায়াবি তার কর্মস্থলের উদ্দেশ্যে বাসা থেকে বের হয়ে যায়।

র‌্যাবের আইন ও গণমাধ্যম শাখার পরিচালক বলেন, তারপর আসামিরা চুরির উদ্যোগ নিলে বিকাল সাড়ে চারটার সময়ে সঞ্জিবের নানী বেসেত বাসায় আসে এবং খাটের উপর বসে। চুরির পরিকল্পনা বাধাগ্রস্থ হবে বুঝতে পেরে আসামিরা বিকল্প পরিকল্পনা করতে থাকে একপর্যায়ে রাজু ও প্রবীণ বেসেতের পা চেপে ধরে ও শান্ত বালিশ দিয়ে বেসেতের মুখে চাপা দেয়। এসময় সঞ্জিব তার নানীর গলায় ওরনা পেচিয়ে শ্বাসরোধ করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। তারপর সঞ্জিবের নির্দেশে শান্ত, প্রবীণ ও রাজু বসেতের লাশ খাটের নীচে রাখতে বলে। তারপর তারা সুজাতাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করে। পরিকল্পনার অংশ হিসেবে তারা প্রবীণকে বাসার নীচে পর্যাবেক্ষণ করার জন্য  পাঠায়।

কমান্ডার মুফতি মাহমুদ খান বলেন, এরপর সঞ্জিব, রাজু এবং শান্ত সুজাতাকে মেরে ফেলতে উদ্যত হয়। ওই  সময়ে সুজাতা মদ্যপ অবস্থায় শুয়ে ছিল। আসামি রাজু সুজাতার মুখের উপর বালিশ চাপা দেয় ও সঞ্জিব দুই পায়ের উপর বসে তার হাতে থাকা রাজুর ধারালো ছোরা দিয়ে সুজাতার পাজরে আঘাত করতে থাকে। এসময় আসামি শান্ত ওই বাসা থেকে অপর একটি ছোরা নিয়ে সুজাতার গলা কাটতে উদ্যত হয়। কিন্তু ছোরাটি কম ধারালো হওয়ায় সঞ্জিব তার হাতে থাকা ধারালো ছোরা দিয়ে সুজাতার গলায় জখম করে মৃত্যু নিশ্চিত করে। পরে তারা পুরো বাসায় অনেক খোঁজাখুজি করেও কোন টাকা পয়সা না পেয়ে বিকাল সোয়া পাঁচটার সময়ে ওই বাসা ত্যাগ করে। বাসার দরজা বাইরে থেকে বন্ধ করে।

র‌্যাব কর্মকর্তা বলেন, বাসা থেকে সঞ্জিব, রাজু এবং শান্ত নেমে তারা নিচ থেকে প্রবীণসহকারে শেওড়া বাসস্ট্যান্ডে যায়। শেওড়া বাসস্ট্যান্ড থেকে তারা আবদুল্লাহপুর আসে ও শেরপুরের নালিতাবাড়ির বাসের টিকেট কাটে এবং হত্যাকান্ডে ব্যবহৃত ছোরাটি বাস কাউন্টারের পিছনে ফেলে দিয়ে নালিতাবাড়ি চলে যায়। সেখান থেকে তারা ভারতে অবৈধভাবে নিয়মিত যাতায়াতকারী মোস্ত নামে তাদের পূর্ব পরিচিত একজনের সাথে যোগাযোগ করে এবং আত্মগোপনের জন্য ভারতে যাওয়ার উদ্দেশ্যে নালিতাবাড়ি অবস্থান করে।   


ঢাকা, বৃহস্পতিবার, মার্চ ২২, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৯০৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন