সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ৫ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গুলি লাগার পর জালাল উদ্দিন চিৎকার করে ‘স্যার, আমাকে বাঁচান’

পলাতক হাসানের স্ত্রীর জবানবন্দি

বৃহস্পতিবার, মার্চ ২২, ২০১৮

image-74198.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

রাজধানীর মিরপুরের পীরেরবাগে ডিবির ইন্সপেক্টর জালাল উদ্দিনকে হত্যার প্রধান অভিযুক্ত হাসান তার হাতে থাকা পিস্তল দিয়ে দুটি গুলি করে বলে জানিয়েছেন তার স্ত্রী তানিয়া। গুলি লাগার পর জালাল উদ্দিন চিৎকার করে ‘স্যার, আমাকে বাঁচান’ বলেন। এরপর হাসান ও তার বন্ধু মানিক পালিয়ে যায়।

ডিবির ইন্সপেক্টর জালাল উদ্দিনকে কীভাবে গুলি করে হত্যা করা হয়েছিল—সন্দেহভাজন খুনি হাসানের স্ত্রী তানিয়ার ১৬৪ ধারা জবানবন্দিতে এ বর্ণনা উঠে এসেছে। ঢাকা মেট্রোপলিটন ম্যাজিস্ট্রেটের আদালতে বৃহস্পতিবার (২২ মার্চ) বিকালে স্বাক্ষী হিসেবে এই জবানবন্দী দেন তানিয়া।

তানিয়া জবানবন্দিতে বলেছেন, “ঘটনার দিন রাত সাড়ে ১১টায় আমি দুই মেয়েসহ নিজ ঘরে ঘুমাতে যাই। আমাদের ভাড়া বাসাটা দুই তলা বিল্ডিংয়ের ছাদের ওপর টিনশেড। এ সময় আমার স্বামী হাসান (২৬) ও তার বন্ধু মানিক (২২) ঘরের বাইরে ছাদের উপর মাদুর বিছিয়ে বসে ছিল। এর কিছু সময় পর কুকুরের ডাক শব্দ শুনতে পাই। আমি ঘর থেকে বের হয়ে দেখি যে আমার স্বামী ও তার বন্ধু মানিক ছাদের কোনায় দাঁড়িয়ে, একজন লোককে লক্ষ্য করে আমার স্বামীর হাতে থাকা কালো রংয়ের পিস্তল দিয়ে গুলি করছে। গুলি লাগার পর গুলিবিদ্ধ লোকটি বলেন, ‘স্যার, আমাকে বাঁচান’। আমি ভয় পেয়ে তাড়াতাড়ি ঘরের ভেতরে চলে যাই। ওই সময় আরও কয়েক রাউন্ড গুলির শব্দ শুনি। আমার স্বামী হাসান ও তার বন্ধু মানিক ছাদের দক্ষিণ পাশ দিয়ে নিচে নেমে পালিয়ে যায়। পরে জানতে পারি হাসান যে লোকটিকে গুলি করেছে তিনি পুলিশের লোক এবং গুলিবিদ্ধ হয়ে তিনি মারা গেছেন।”

দক্ষিণ পীরেরবাগের ১০৫/এ/১ নম্বর বাড়িতে গত বছরের নভেম্বরে ভাড়ায় ওঠেন বলে জানিয়েছেন হাসানের স্ত্রী। জবানবন্দিতে তিনি বলেন, ‘আমার স্বামী হাসান একজন ইলেক্ট্রিক মিস্ত্রি। মাঝে মাঝে মোবাইল ফোন মেরামতের কাজ করতো বলে জানি। গত নভেম্বর মাসে আমার স্বামী আমাদের নিয়ে বর্তমান দক্ষিণ পীরেরবাগ ভাড়া বাসায় নিয়ে আসে। আমাদের দুইটি মেয়ে আছে। কিছুদিন আগে থেকে আমার স্বামী হাসান নেশা করত, আমি বুঝতে পারি।’

গত ১১ জানুয়ারি মিরপুরের মধ্য পীরেরবাগের ২৯৯/৯/১/এ নম্বর বাসার চতুর্থ তলার ফ্ল্যাট থেকে দুই সার্জেন্ট মামুনুর রশীদ ও সোহেল রানার সরকারি দুটি আগ্নেয়াস্ত্র (পিস্তল) চুরি হয়। এ ঘটনার প্রায় আড়াই মাস পর চুরি হওয়া ওই পিস্তল দুটি উদ্ধার করতে গত ১৯ মার্চ রাতে পীরেরবাগের ১০৫/১/এ নম্বর বাড়ির দোতালায় ছাদের টিনশেড বাসায় অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেয় মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের দক্ষিণ বিভাগ। অভিযান চালানোর আগে বাসাটি রেকি করতে যান ডিবি পুলিশের সদস্যরা। দোতলা বাড়ির ছাদের পরিস্থিতি দেখার জন্য ভবনের কার্নিশ বেয়ে ওঠার চেষ্টা করেন পরিদর্শক জালাল উদ্দিন ওরফে জাহাঙ্গীর। বিষয়টি টের পেয়ে সন্ত্রাসীরা প্রথমে ইট দিয়ে জালাল উদ্দিনের মাথায় আঘাত করে এবং পরে তার মাথা বরাবর দুই রাউন্ড গুলি করে। এসময় জালাল উদ্দিন কার্নিশের রড থেকে নিচের দিকে পড়ে গিয়ে ঝুলে থাকেন। ডিবির সদস্যরাও পাল্টা গুলি চালান। ঘটনার কিছু সময় পর গুরুতর আহত অবস্থায় ডিবির পরিদর্শক জালাল উদ্দিনকে স্কয়ার হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। সেখানে চিকিসাধীন অবস্থায় মধ্যরাতে তিনি মারা যান।

এদিকে হাসান ও তার সহযোগী মানিককে ধরতে ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের একাধিক টিম ঘটনার পর থেকে অভিযান চালাচ্ছে। গোয়েন্দা পুলিশের একজন কর্মকর্তা জানান, তারা হাসানের অবস্থানের বিষয়ে কিছু তথ্য পেয়েছেন। এমনকি হাসানের কাছে পুলিশ সার্জেন্টের অস্ত্র দুটিও রয়েছে বলে তথ্য পেয়েছেন। পুলিশ পরিদর্শক জালালকে সার্জেন্টের অস্ত্র দিয়েই গুলি করে হত্যা করা হয়।

ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা পুলিশের উপ-কমিশনার (পশ্চিম) মোখলেছুর রহমান বলেন, ‘আমরা মূল আসামি এবং তার সহযোগীদের ধরতে চেষ্টা করছি। আশা করছি তাদের খুব কম সময়ের মধ্যেই ধরতে পারবো।’

গোয়েন্দা পুলিশ ও স্থানীয় সূত্র জানিয়েছে, ডিবি ইন্সপেক্টর হত্যাকাণ্ডের ঘটনায় অভিযুক্ত হাসান ও মানিকের মূল কাজ ছিল রাতের বেলা বিভিন্ন বাসায় গ্রিল কেটে চুরি করা। তার এই চক্রের সঙ্গে আরও চার-পাঁচ জন জড়িত। এই চক্রটি প্রতিদিন দিনের বেলা ঘুমিয়ে থাকতো। রাতের বেলা বিভিন্ন বাসার কার্নিশ বেয়ে উপরে উঠে গ্রিল কেটে চুরি করতো। হাসান-মানিকসহ এই চক্রের অনেক সদস্যের বিরুদ্ধে মিরপুর ও আশেপাশের থানায় একাধিক চুরির মামলা রয়েছে। এমনকি পুলিশের হাতেও সে গ্রেফতার হয়েছে একাধিকবার।

মামলার এজাহার এবং সংশ্লিষ্ট সূত্রে জানা গেছে, মূল অভিযুক্ত হাসানের বাবার নাম মৃত আব্দুল মান্নান। মায়ের নাম রহিমা বেগম। গ্রামের বাড়ি ভোলা সদরের দুই নম্বর ওয়ার্ডের বাপতা ফলপান বাড়ি। প্রায় ৩০ বছর ধরে তার পরিবারের সদস্যরা উত্তর পীরেরবাগের কামালের দোকানের মোড় এলাকার একটি বাসায় থাকতো। এখানেই হাসানের জন্ম ও বেড়ে ওঠা। ছোটবেলা থেকেই হাসান চুরি ও ছিনতাইয়ের সঙ্গে জড়িত। তার বড় ভাই ফরিদ গাজীপুরের কাশিমপুর এলাকায় থাকেন। মেজ ভাই হোসেন থাকেন পীরেরবাগেই। আর এক বোন আমেনা ও তার স্বামী শাহ আলম পীরেরবাগে মায়ের বাড়িতে থাকেন। আরেক বোন কুলসুম বিদেশে থাকেন। বাংলাট্রিবিউন


ঢাকা, বৃহস্পতিবার, মার্চ ২২, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৯১৮৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন