সর্বশেষ
বুধবার ১১ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৬ সেপ্টেম্বর ২০১৮

স্ত্রীর পরকীয়ার জেরে জীবন দিলেন আইনজীবী রথিশ

বুধবার, এপ্রিল ৪, ২০১৮

image-67378_4.jpg
রংপুর প্রতিনিধি :

রংপুরের জজ আদালতের বিশেষ পিপি রথিশ চন্দ্র ভৌমিক ওরফে বাবু সোনাকে ২৯ মার্চ রাতেই শ্বাসরোধে হত্যা করা হয়েছে। এ হত্যাকাণ্ডে জড়িত তার স্ত্রী রিতা ভৌমিক ও তার ‘কথিত প্রেমিক’ কামরুল কামরুল ইসলাম। পরিকল্পনা অনুযায়ী রাতে হত্যা করে পরদিন সকালে আলমারিতে ভরে লাশটি নিয়ে গুম করা হয়। রংপুরে আয়োজিত এক সংবাদ সম্মেলনে এ তথ্য জানিয়েছেন র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ।

আজ বুধবার দুপুর সোয়া ১২টায় রংপুর নগরীর স্টেশন এলাকায় র‌্যাব-১৩ এর কার্যালয়ে প্রেস ব্রিফিংয়ে র‌্যাবের মহাপরিচালক বেনজির আহমেদ বলেন, ‘পারিবারিক কলহ, সন্দেহ ও পরকীয়া প্রেমে লিপ্ত হয়ে স্ত্রী দীপা ভৌমিক তার স্বামী রথিশ চন্দ্রকে হত্যা করে। এই কাজে সহায়তা করেন তার কথিত প্রেমিক কামরুল মাস্টার।’

র‌্যাব ডিজি বলেন, ‘দুই মাস ধরে পরিকল্পনা করে গত ২৯ মার্চ রাত আনুমানিক ১০টায় শয়নকক্ষে রথিশ চন্দ্রকে ভাতের সঙ্গে ১০টি ঘুমের বড়ি খাওয়ানো হয়। খাওয়ার পরে তিনি অচেতন হলে স্ত্রী দীপা ভৌমিক ও তার প্রেমিক কামরুল ওড়না পেঁচিয়ে শ্বাসরোধে তাকে হত্যা করে। হত্যার পর তার লাশ শয়নকক্ষেই রাখা হয়।’

র‌্যাব ডিজি আরো বলেন, ‘হত্যার পরের দিন শুক্রবার কামরুল মাস্টার ভোর ৫টায় ওই বাসা থেকে বের হয়ে সকাল ৯টায় কামরুল একটি রিকশাভ্যান নিয়ে আসে। পরে তারা লাশ গুম করার উদ্দেশে একটি আলমারি পরিবর্তনের নাম করে সেখানে লাশ ভরে রংপুর নগরীর তাজহাটের মোল্লাপাড়ার নির্মাণাধীন বাড়িতে বালু খুঁড়ে পুঁতে রাখে। আলমারি বহন ও লাশ ভ্যানে তোলার কাজের জন্য তিন জন ব্যক্তি কামরুল মাস্টার আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিলেন।’

বেনজির আহমেদ বলেন, ‘মঙ্গলবার রাতে গোপন সংবাদের ভিত্তিতে রথিশ চন্দ্রের স্ত্রী দীপা ভৌমিককে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য নিয়ে আসে র‌্যাব। জিজ্ঞাসাবাদের একপর্যায়ে তিনি হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে তার সম্পৃক্ততার কথা স্বীকার করেন। পরে তার দেয়া তথ্যের ভিত্তিতে মঙ্গলবার তাজহাট মোল্লাপাড়ার এলাকায় সেই নির্মাণাধীন ভবনের ভেতর থেকে মাটি খুঁড়ে একটি লাশ উদ্ধার করা হয়। পরবর্তীতে রথিশের ছোট ভাই সুশান্ত ভৌমিককে ঘটনাস্থলে নেয়া হলে সে তার ভাইয়ের লাশ শনাক্ত করে।’

র‌্যাবের মহাপরিচালক বলেন, 'এই কাজে সবুজ ইসলাম ও রোকনুজ্জামান নামে আরো দুজন তাদের সহযোগীতা করে।তারা ২৬ মার্চ কামরুল মাস্টারের নির্দেশে ৩০০ টাকার বিনিময়ে মোল্লাপাড়ার নির্মাণাধীন ভবনের নিচে বালু খুঁড়ে রাখে। পরবর্তীতে ৩০ মার্চ শুক্রবার সকাল ১১টার দিকে ওই লাশ বালু দিয়ে গর্তে ঢেকে রাখে তারা। কামরুল মাস্টার তাদের শিক্ষক হওয়ায় তারা আদেশ পালন করেছে বলে জানায়।’

বেনজির আহমেদ বলেন, ‘এই ঘটনায় রথিশের স্ত্রী দীপা ভৌমিক ও কথিত প্রেমিক কামরুল এবং লাশ লুকিয়ে রাখার সঙ্গে জড়িত মোট চারজনকেমামলায় গ্রেফতার করা হয়েছে।’


ঢাকা, বুধবার, এপ্রিল ৪, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ৩৪৬৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন