সর্বশেষ
রবিবার ৮ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

আদিবাসী নারীদের আশার আলো মিনতি রানী

বুধবার, এপ্রিল ৪, ২০১৮

DVk6IVLUMAILSOV_0.jpg ছবি উৎস : বিডিলাইভ২৪
সোহেল রানা সোহাগ, সিরাজগঞ্জ থেকে :

আদিবাসী অধ্যুষিত তাড়াশ উপজেলার আদিবাসী নারীদের উন্নয়নের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে নিরলস ভাবে কাজ করে যাচ্ছেন আদিবাসীদের দিদি খ্যাত মিনতি রানী। সমাজের পশ্চাৎপদ আদিবাসী নারীদের সাবলম্বী করতে যথাযথ প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন মিনতি রানী।

উপজেলার প্রত্যান্ত জনপদ দেশী গ্রাম ইউনিয়নের গুরপিপুল গ্রামের জ্ঞানেন্দ্র নাথ বসাক এর স্ত্রী মিনতি রানী বসাক। দারিদ্রতার কারণে এস এস সি পাশের বেশী লেখা পড়া করতে পারেননি তিনি। কিন্তু তার ছিল একটা পরোপকারী মন, অদম্য ইচ্ছা শক্তি ও কর্মস্পৃহা।

জানা গেছে, ২০০২ সালে তিনি নিজ গ্রামের আদিবাসী নারীদের সংগঠিত করে আশার প্রদীপ নামে একটি সমিতি গঠন করেন। এ সমিতির মাধ্যমে তিনি শিক্ষা, স্বাস্থ্য, স্যানিটেশান ও পুষ্টি বিষয়ে আদিবাসী নারীদের সচেতন করে থাকেন।

পরবর্তীতে তিনি হস্তশিল্প, তাতশিল্প, সেলাই মেশিন, ছাগল ও হাস-মুরগি পালনের মাধ্যমে দরিদ্র আদিবাসী নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের পথে এগিয়ে নিতে থাকেন। এ কর্মের জন্য ২০০৪ সালে তিনি জেলার শ্রেষ্ঠ জয়ীতার পুরষ্কার পান। এরপর উদ্দ্যোগী নারী মিনতি রানীকে সহায়তার জন্য এগিয়ে আসেন ওর্য়াল্ড ভিশন বাংলাদেশ নামক একটি বেসরকারি সংস্থা। তার সাহাযার্থে ১০ লাখ ৫০ টাকা ব্যয়ে ২০০৫ সালে গুরপিপুল গ্রামে নির্মান করেদেন একটি আধা পাকা ঘর।

নিজ কর্মের স্বীকৃতি পেয়ে মিনতি রানীর কর্ম-উদ্দ্যম আরো দ্বিগুণ বেড়ে যায়। তিনি ২০১২ সালে গড়ে তোলেন তাড়াশ ক্ষুদ্র নৃ-তাত্বিক মহিলা উন্নয়ন সংস্থা নামের আরো একটি সংস্থা। যার মাধ্যেমে তিনি এক হাজার আদিবাসী অস্বচ্ছল মেয়েদের সেলাই প্রশিক্ষণ দেন। একই সাথে তিনি গুরপিপুল আদিবাসী তাত-শিল্প প্রশিক্ষণ কেন্দ্রও গড়ে তোলেন। ২০১৩ সালে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয় থেকে এ সংস্থাকে ২৮ লাখ ২৫ হাজার টাকা অনুদান দেয়া হয়।

সরোজমিনে মিনতি রানীর প্রশিক্ষণ কেন্দ্রে গিয়ে দেখা গেছে হস্ত চালিত ও বিদুৎ চালিত তাঁত-শিল্পের প্রশিক্ষণ নিচ্ছেন অনেক নারী। কেউ নিচ্ছেন সেলাই মেশিনের প্রশিক্ষণ আবার কেউবা এমব্রোডারী মেশিনে নকশা তৈরর কাজ। আর ওদের গা ও মাথায় হাত বুলিয়ে সাহস যোগাচ্ছেন ওদের প্রিয় মিনতি দিদি।

মিনতি রানীর অনুপ্রেরণায় তাঁত, সেলাই মেশিন ও নকশা তৈরির প্রশিক্ষণ নিয়ে স্বাবলম্বী হয়েছেন প্রায় ২ হাজার আদিবাসী নারী। মিনতির সংস্থা থেকে হাঁস, মুরগি ও ছাগল সহায়তা পেয়ে ভাগ্য বদলে গেছে প্রায় এক হাজার হত দরিদ্র আদিবাসি নারীর। এদেরই কয়েকজন কাঞ্চন বালা, ননী বালা ও জেসমিন উরাঁও। জেসমিন বলেন, মিনতি দিদি আমাদের ভাগ্যের চাকা বদলে দিয়েছেন। এখন আমরা হত দরিদ্র নই,স্বচ্ছল মানুষ।

আদিবাসী নারীদের আশার আলো মিনতি রানী বসাক জানান, তিনি জীবনের শেষ দিন পর্যন্ত এই আদিবাসী নারীদের নিয়েই কাজ করে যাবেন। গুরপিপুল গ্রামে একটি বৃহৎ তাঁত-শিল্প কারখানা গড়ে তুলবো-যা ব্যাপক সংখ্যক ক্ষুদ্র নৃ-গোষ্ঠী নারীদের ভাগ্য বদলাতে ভূমিকা রাখবে বলেও তিনি জানান।

উপজেলা মহিল বিষয়ক কর্মকতা মাহফুজা বেগম বলেন, এ ধরনের উদ্দ্যোগী নারী সমাজের জন্য আর্শীবাদ স্বরূপ।

তাড়াশ উপজেলা নির্বাহী অফিসার (ভারপাপ্ত) আহসান হাবিব জিতু জানান, মিনতী রানী অবহেলিত দরিদ্র আদিবাসী নারীদের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মাধ্যমে সমাজের মূল স্রোতধারায় সম্পৃক্ত করতে যে প্রচেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছেন তা সত্যি প্রসংশনীয়।



ঢাকা, বুধবার, এপ্রিল ৪, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ১৪২১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন