সর্বশেষ
মঙ্গলবার ১০ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

নদী শুকিয়ে মরা খাল ভদ্রাবতী

পানি শূন্য চলনবিল

সোমবার, এপ্রিল ৯, ২০১৮

9_0.jpg ছবি উৎস : বিডিলাইভ২৪
সোহেল রানা সোহাগ, সিরাজগঞ্জ থেকে :

দেশের বৃহত্তম বিল চলনবিল এখন পানি শূন্য। চলনবিলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত এক সময়ের খরস্রোতা ভদ্রাবতী নদী শুকিয়ে এখন মরা খালে পরিণত হয়েছে। মাছ তো দূরের কথা নদীতে পানি নেই, নদীর তলায় ইরি-বোরো আবাদ হচ্ছে।

কোথাও কোথাও ভদ্রাবতী নদীর তলা হয়েছে শিশুদের ক্রিকেট খেলার মাঠ। সূত্র মতে, এ নদীটি বগুড়ার করতোয়া নদী থেকে উৎপন্ন হয়ে, বগুড়া জেলার শেরপুর, নাটোরের সিংড়া, ও সিরাজগঞ্জে তাড়াশ উপজেলার বৃহত্তম চলনবিলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত হয়ে চাটমোহরের আত্রারাই নদীতে পড়েছে।

জানা গেছে, চলনবিলের মধ্যে দিয়ে প্রবাহিত এই ভদ্রবতী নদীটি ছিল এক সময়ের সবচেয়ে খরস্রোতা নদী। এ নদীকে কেন্দ্র করে গড়ে উঠেছিল বহু শহর-বন্দর ও ব্যবসা কেন্দ্র। দেশ স্বাধীনের পর নদীটি বাঁচিয়ে রাখার জন্য আত্রারাই নদীর নুরপুর দিয়ে একটি সাইড খালের সাথে ভদ্রাবতী নদীর সংযোগ দেওয়া হয়। কিন্তু তাতেও শুষ্ক-মৌসুমে এ নদীর পানি শূন্যতা নিয়ন্ত্রণ রাখা সম্ভব হয়নি।

জলবায়ু ও আবহাওয়ার পরিবর্তনে ও কালের বিবর্তনে ভদ্রাবতী নদী আজ পরিণত হয়েছে মরা খালে। চলনবিলের তাড়াশ উপজেলার কামারশোন গ্রামের প্রবীণ ব্যক্তি ও মুক্তিযোদ্ধা আব্দুল কুদ্দুস জানান, এক সময় নদী বিধৌত অঞ্চলে মানবসভ্যতা গড়ে উঠতো। পণ্য পরিবহনের একমাত্র পথ হিসেবে ব্যবহৃত হতো নদী।

চলনবিলের ভদ্রাবতী নদীতে পাওয়া যেত প্রচুর মাছ। শুষ্ক মৌসুমে ফসলি জমিতে পানি সেচের একমাত্র আশ্রয়স্থল ছিল এই নদী। কিন্তু সময়ের পরিবর্তনে ও আবহাওয়ার তারতম্যের কারণে পলি জমে এবং নদী খননেন কোন কার্যক্রম না থাকায় খরস্রোতা ভদ্রাবতী নদী আজ পানি শূন্য মরা খাল।

এলাকাবাসীর দাবি ড্রেসিং কার্যক্রমের মাধ্যমে ভদ্রাবতীকে খনন করে নাব্যতা নিশ্চিত করে, পানি প্রবাহের পথ উন্মুক্ত করে নদীর সৌন্দর্য ফিরিয়ে আনা হলে চলনবিল ফিরে পাবে তার সৌন্দর্য এবং এ নদী থেকে উপকৃত হবে হাজারো মানুষ।


ঢাকা, সোমবার, এপ্রিল ৯, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ১৩০৩ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন