সর্বশেষ
বুধবার ৩০শে কার্তিক ১৪২৫ | ১৪ নভেম্বর ২০১৮

বিদেশে গিয়ে তারকাখ্যাতি পেয়েছেন যেসব বাংলাদেশি

সোমবার, এপ্রিল ৯, ২০১৮

Capture_4.JPG
বিডিলাইভ ডেস্ক :

বাংলাদেশের অনেক সন্তান, কারো জন্ম কিংবা পৈত্রিক সূত্রে এই বাংলার রক্ত তার শরীরে বয়ে চলছে। বিশ্বের নানান দেশে এমন বিখ্যাত মানুষ ছড়িয়ে ছিটিয়ে আছে। বিশেষ করে ভারতে রয়েছে সবচেয়ে বেশি। তার রাজনৈতিক অনেক কারণও রয়েছে। সেই বিখ্যাত ব্যক্তিদের মধ্যে শোবিজ অঙ্গনের তারকার সংখ্যাই বেশি। এমন কয়েকজন তারকার জন্ম-পরিচয় নিয়ে আজকের লেখা।

ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ (সঙ্গীতজ্ঞ)-
প্রথম যে-বাঙালি সত্যিকার অর্থে ভারতবর্ষ জুড়ে খ্যাতি অর্জন করেছিলেন তিনি হলেন ওস্তাদ আলাউদ্দিন খাঁ। তিনি বাংলাদেশের ব্রাহ্মণবাড়িয়া জেলার একটি প্রত্যন্ত গ্রাম শিবপুরে জন্মগ্রহণ করেন।

সত্যজিত রায় (চিত্র পরিচালক)-
বিংশ শতাব্দীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ চলচ্চিত্র পরিচালক। তার পূর্বপুরুষের ভিটা ছিল বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জ জেলার কটিয়াদী উপজেলার মসূয়া গ্রামে।

কিশোর কুমার (গায়ক)-
১৯২৯ সালে ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বিখ্যাত গাঙ্গুলী পরিবারে জন্ম নিয়েছেন এই তারকা। বিখ্যাত চিত্রাভিনেতা অশোক কুমার ছিলেন কিশোর কুমারের বড়ভাই।

মিঠুন চক্রবর্তী (অভিনেতা)-
ওপার বাংলার ডিস্কো ড্যান্সার খ্যাত অভিনেতা মিঠুন চক্রবর্তী। অভিনয় করেছেন হিন্দি ছবিতে। বাংলাদেশের বরিশাল জেলার বাকেরগঞ্জে জন্মগ্রহণ করেন এই হিরো। তিনি বরিশাল জিলা স্কুলেও পড়েছিলেন।

সুচিত্রা সেন (অভিনেত্রী)-
কিংবদন্তি ভারতীয় বাঙালি অভিনেত্রী। একজন ভারতীয় চলচিত্র অভিনেত্রী, ষাটের দশক থেকে ভারতীয় বাংলা চলচিত্রের কিংবদন্তি তিনি। ১৯৩১ সালের ৬ এপ্রিল পাবনা জেলায় তিনি জন্মগ্রহণ করেন। তাদের বাড়ি আজও রয়েছে বাংলাদেশে। তার আসল নাম ছিল রমা দাশগুপ্ত।

ঋত্বিক ঘটক (চিত্র পরিচালক)-
ঢাকা শহরের ঋষিকেশ দাস লেনে তার এই চিত্র পরিচালকের জন্ম। ১৯৪৭ এর ভারত বিভাগের পরে তার পরিবার কলকাতায় চলে যায়।

মিতালী মুখার্জি (গায়িকা)–
জন্ম ময়মনসিংহ শহরের নতুন বাজারে। সেখানেই কেটেছে শৈশব। ভারতে পড়তে গিয়ে বিয়ে হয় পাঞ্জাবি ছেলের সঙ্গে। বিয়ের পর ঠিকানা হয় শ্বশুরবাড়ি। আর ফিরে আসেননি বাংলাদেশে।

মৃণাল সেন (চিত্র পরিচালক) –
১৯২৩ সালের ১৪ মে মৃণাল সেন বর্তমান বাংলাদেশের ফরিদপুরে জন্মগ্রহণ করেন। তিনি পড়াশোনার জন্য কলকাতায় গেলে সেখানেই নাম ডাক করেন। চিত্র পরিচালক হিসাবেও বেশ খ্যাতি অর্জন করেন।

এস ডি বর্মন (গায়ক ও সুরকার)-
উপ-মহাদেশের কিংবদন্তি গায়ক ও সুরকার শচীন দেববর্মণ ১৯০৬ সালের ১ অক্টোবর কুমিল্লার চর্থায় এক বিশাল রাজপ্রাসাদসম অট্টালিকায় জন্মগ্রহণ করেছিলেন। চর্থার বাসভবনেই শচীন বাবু তার জীবনের প্রথম ১৯টি বছর অতিবাহিত করেন।

জয়া বচ্চন (অভিনেত্রী)-
পৈতৃক আদি নিবাস নেত্রকোণা জেলার পূর্বধলা উপজেলায়। ১৯৪৭-৪৮ সালের দেশ বিভাগের পুর্বে তার বাবা তরুণ কুমার ভাদুরী কলকাতায় চলে যান।

সাগর সেন (গায়ক)-
১৯৩২ সালের ১৫ মে বাংলাদেশের ফরিদপুর জেলায় জন্মগ্রহণ করেন। কিন্তু তিনি বড় হয়েছেন কলকাতায়।

ভানু ব্যানার্জি (কমেডিয়ান)-
ভানু জন্মেছিলেন মুন্সীগঞ্জ জেলার বিক্রমপুরে ১৯২০ সালের ২৬শে অগাস্ট। ঢাকার সেন্ট গ্রেগরি’স হাই স্কুল এবং জগন্নাথ কলেজে শিক্ষা শেষ করে ১৯৪১ সালে কলকাতায় পাড়ি জমান। তিনি এমনই কমেডিয়ান ছিলেন যখন মারা যান তখন তার মৃতদেহ দেখেও নাকি লোকে হেসে ফেলছিলেন!

হিরালাল সেন ( চলচ্চিত্রকার)-
ভারতীয় উপমহাদেশের প্রথম বাংলা চলচ্চিত্রকার হিরালাল সেনের জন্ম মানিকগঞ্জের বগজুরী গ্রামে ১৮৬৬ সালে ,এক সম্ভ্রান্ত জমিদার বংশে।

শ্রেয়া ঘোষাল (গায়িকা)-
বিক্রমপুরের হাসাড়া গ্রামে তার দাদার বাড়ি। ১৯৪৭ সালের দেশ ভাগের আগেই তার দাদা কলকাতা চলে যান। সেখানেই তার বাবা জন্মগ্রহণ করেন।

শ্রাবন্তী (অভিনেত্রী)-
দাদু ও বাবার বাড়ি বরিশালে। সে হিসেবে তিনি বরিশালেরই মেয়ে। নিজেও সে কথা স্বীকার করেছেন।

নচিকেতা (গায়ক)-
বরিশালের ঝালকাঠি জেলার কাঁঠালিয়া উপজেলার উত্তর চেঁচরী গ্রামে রয়েছে তার বাপের ভিটা। কিছুদিন আগে সেখানে গিয়ে অঝোড়ে কেঁদেছেনও।

উৎপল দত্ত (অভিনেতা) –
১৯২৯ সালের ২৯ মার্চ বরিশালে জন্মগ্রহণ করেন এ অভিনেতা। হীরক রাজার দেশের রাজা,জয়বাবা ফেলুনাথএর মগনলাল মেঘরাজ,আগন্তুকএর মনোমোহন মিত্র,পদ্মা নদীর মাঝির হোসেন মিয়া,অমানুষএর মহিম ঘোষাল,দো আনজানের চিত্র পরিচালক,জনঅরণ্যে`র বিশুদা এমনি কত চরিত্রেই না অবিস্মরণীয় হয়ে আছেন তিনি।

এছাড়া বলিউডের জনপ্রিয় মিউজিশিয়ান প্রীতম চক্রবর্তী, বাপ্পি লাহিড়ী, হারাধন বন্দোপাধ্যায়েরও আদি নিবাস বাংলাদেশে বলে জানা যায়।


ঢাকা, সোমবার, এপ্রিল ৯, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এস এই লেখাটি ২৯১৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন