সর্বশেষ
মঙ্গলবার ৬ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ২০ নভেম্বর ২০১৮

আমিন জুয়েলার্সে চুরি: 'বিশ্বস্ত' কর্মচারীর শরীরের কাটা দাগে মিলল ক্লু

বুধবার, এপ্রিল ১৮, ২০১৮

Untitled-8-5ad6458a7ffef.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

রাজধানীর গুলশান-২ নম্বরে আমিন জুয়েলার্সের ডিসিসি মার্কেট শাখায় দীর্ঘ আট বছর ধরে নিরাপত্তারক্ষীর কাজ করেন আবদুস সোবহান। বিশ্বস্ততার সঙ্গে দায়িত্ব পালন করে আসা সেই রক্ষকই লোভে পড়ে অবতীর্ণ হলেন ভক্ষকের ভূমিকায়!

সাদ্দাম হোসেন নামে এক ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠানের কর্মীকে সঙ্গী করে সোবহানই ছাদ কেটে চুরি করেন আমিন জুয়েলার্সের প্রায় ৭০০ ভরি স্বর্ণ ও ২৪ লাখ টাকা। সোবহানের এমন কীর্তি বিশ্বাস করতে কষ্ট হচ্ছে পরিচিতদের; তবে দোকান কর্মীদের দেওয়া ক্লু ধরে পুলিশি তদন্তে এমন সত্যই উঠে এসেছে। সংশ্নিষ্ট একাধিক দায়িত্বশীল সূত্র থেকে এসব তথ্য জানা গেছে।

আমিন জুয়েলার্সের গুলশান শাখার ম্যানেজার সাখাওয়াত হোসেন বলেন, চুরির ঘটনার পর দোকানের সব কর্মচারীকে ডাকা হয়। এ সময় সোবহানের গলাসহ শরীরে কাটাছেঁড়া দাগ দেখে সন্দেহ হলে পুলিশকে জানানো হয়। পুলিশের জিজ্ঞাসাবাদে বেরিয়ে আসে চুরির আসল রহস্য।

ডিসিসি মার্কেট সমিতির সভাপতি সালাউদ্দিন আহমেদ বলেন, সাদ্দাম নামে এক ঠিকাদারের সহযোগী আর আমিন জুয়েলার্সের নিরাপত্তা রক্ষী ওই চুরিতে অংশ নেয়। পুলিশি তদন্তের পর সব কিছু খোলাসা হবে।

তদন্ত সংশ্নিষ্টরা জানান, বিশ্বব্যাংকের অর্থায়নে একটি ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ডিসিসি মার্কেট সংস্কারের কাজ করেছে। ওই প্রতিষ্ঠানের কর্মী সাদ্দাম হোসেনকে ফুসলিয়ে স্বর্ণ চুরির পরিকল্পনা করেন নিরাপত্তারক্ষী সোবহান। তার পরিকল্পনায় মার্কেটের দোতলার ছাদ ঢালাইয়ের সময় আমিন জুয়েলার্সের ওপরে একটি ছোট্ট অংশ কৌশলে খোলা রাখেন সাদ্দাম। পানির ট্যাঙ্ক দিয়ে ওই অংশটি ঢেকে রাখা হয়েছিল। গত শনিবার ওই অংশ দিয়ে বৃষ্টির পানি ঢোকার পর দোকানের লোকজন বিষয়টি সাদ্দামকে জানান। সাদ্দাম তাদের ভুলভাল বুঝিয়ে দেওয়ার চেষ্টা করেন। পরে আবার বৃষ্টি শুরুর পর সাদ্দাম ওই অংশ সংস্কার শুরু করেন।

শনিবার মধ্যরাতে সোবহান ও সাদ্দাম ওই কাটা অংশ দিয়ে দোকানে ঢুকে জুয়েলার্সের ভেতরে প্যাকেটে থাকা প্রায় ৭০০ ভরি স্বর্ণ ও ক্যাশ থেকে ২৪ লাখ টাকা হাতিয়ে নেন। তারা দোকানের মূল ডিসপ্লে বোর্ডের কোনো স্বর্ণে হাত দেননি। তবে দোকানের যে অংশে স্বর্ণ মজুদ থাকে, সেখান থেকেই স্বর্ণ গায়েব করেন তারা।

পুলিশের সংশ্নিষ্ট কর্মকর্তারা জানান, চুরির অভিযোগ পাওয়ার পরপর কিছু আলামত বিশ্নেষণ করে তাদের সন্দেহের তীর যায় সোবহানের ওপর। এরপর তাকে ব্যাপক জিজ্ঞাসাবাদের পর ধীরে ধীরে বেরিয়ে আসতে থাকে চুরির রহস্য। চুরির অভিযোগ পাওয়ার পর তারা আশপাশ এলাকার সিসিটিভি ফুটেজ সংগ্রহ করে তা বিশ্নেষণ করে দেখেন। এ ছাড়া দোকানকর্মী ও আশপাশ এলাকার নিরাপত্তারক্ষীদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হয়।

তদন্তকারী কর্মকর্তারা আরও জানান, দোকানের ভেতরেই চুরি করা স্বর্ণ ভাগ করেন সোবহান-সাদ্দাম। সোবহান ভাগে পাওয়া স্বর্ণ মিষ্টির প্যাকেটে করে তার স্ত্রীর মাধ্যমে গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে পাঠিয়ে দেন। এরপর আমিন জুয়েলার্সে যথারীতি দায়িত্ব পালন করতে আসেন। সাদ্দাম তার ভাগের স্বর্ণ নিয়ে চলে যান চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে তার গ্রামের বাড়িতে। গতকাল মঙ্গলবার চাঁদপুরের ফরিদগঞ্জে অভিযান চালিয়ে গুলশান থানা পুলিশের একটি দল ২১৭ ভরি স্বর্ণ ও ১১ লাখ ২৪ হাজার টাকা উদ্ধার করলেও সাদ্দামকে গ্রেফতার করা যায়নি। অন্যদিকে গুলশান থানা পুলিশের পৃথক একটি দল সোবহানের গ্রামের বাড়ি গোপালগঞ্জে অভিযান চালিয়েও বিপুল পরিমাণ স্বর্ণ উদ্ধার করে।

গতকাল সরেজমিন গুলশানের ডিসিসি মার্কেটে গিয়ে দেখা যায়, দোতলার ছাদের একটি অংশে ১৫ ইঞ্চি দৈর্ঘ্য আর ১২ ইঞ্চি প্রশস্তের কাটা দাগ। তবে চুরির পর এমনভাবে ছাদের কাটা অংশ ঢালাই করা হয়েছে- দেখে কারও বোঝার উপায় নেই সেখান দিয়েই দুই ব্যক্তি দোকানে ঢুকেছিল। ছাদে পাহারায় ছিলেন দুই পুলিশ সদস্য। আমিন জুয়েলার্স খোলা রয়েছে। দোকানের সামনেও রয়েছে ৫-৬ জন পুলিশ।

আমিন জুয়েলার্সের গুলশান শাখার ম্যানেজার সাখাওয়াত হোসেন জানান, চাঁদপুর ও গোপালগঞ্জে অভিযান চালিয়ে উদ্ধার করা স্বর্ণ ও নগদ টাকার পরিমাণ এখনও নিশ্চিতভাবে জানতে পারেননি। এ ঘটনায় আমিন জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষ গুলশান থানায় মামলা করেছে।

ফরিদগঞ্জ (চাঁদপুর) প্রতিনিধি নাসির উদ্দিন পাঠান জানান, সাদ্দামের বাবার নাম আমানত উল্লাহ। তার গ্রামের বাড়ি পৌর এলাকার বড়ালী গ্রামে। সাদ্দাম দীর্ঘদিন ধরে নির্মাণ শ্রমিকের কাজ করতেন। মাঝে মধ্যে ঢাকা থেকে গ্রামে যেতেন। ফরিদগঞ্জ পৌরসভার চরহোলা গ্রামের আবদুল হানিফের ঘরে অভিযান চালিয়ে চোরাই স্বর্ণ ও নগদ টাকা উদ্ধার করা হয়। আবদুল হানিফের ভায়রার ছেলে সাদ্দাম। একটি বসতঘরের চালের ড্রামে স্বর্ণ ও টাকা লুকিয়ে রাখা হয়েছিল। পুলিশ জিজ্ঞাসাবাদের জন্য সাদ্দামের বাবাকে হেফাজতে নিয়েছে। অভিযানের বিষয়টি টের পেয়ে সটকে পড়েন সাদ্দাম।

চাঁদপুর জেলা পরিষদের সদস্য সাইফুল ইসলাম বলেন, আমিন জুয়েলার্স কর্তৃপক্ষ পুলিশের অভিযানের সময় তাকে উপস্থিত থাকার অনুরোধ করেন। তার উপস্থিতিতেই সাদ্দামের খালার বাসায় অভিযান চালানো হয়। সূত্র: সমকাল


ঢাকা, বুধবার, এপ্রিল ১৮, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৯৫৬১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন