সর্বশেষ
রবিবার ৮ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৩ সেপ্টেম্বর ২০১৮

গাজীপুর সিটি নির্বাচন: আপিলের শুনানি বৃহস্পতিবার

বুধবার, মে ৯, ২০১৮

8.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

সীমানাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচনে হাইকোর্টের দেওয়া স্থগিতাদেশের বিরুদ্ধে বিএনপি ও আওয়ামী লীগের দুই মেয়র প্রার্থীর আবেদন এবং নির্বাচন কমিশনের আপিলের শুনানি হবে আগামীকাল বৃহস্পতিবার।

আজ বুধবার নির্বাচন কমিশনের আবেদনের পরিপ্রেক্ষিতে প্রধান বিচারপতি সৈয়দ মাহমুদ হোসেনের নেতৃত্বে আপিল বিভাগের চার সদস্যের বেঞ্চে এই দিন ঠিক করে দেয়।

বিএনপির মেয়র প্রার্থী হাসান উদ্দিন সরকার  এবং আওয়ামী লীগের জাহাঙ্গীর আলম হাই কোর্টের আদেশের বিরুদ্ধে যে আবেদন করেছেন- সোমবার তা শুনানির জন্য আপিল বিভাগের নিয়মিত বেঞ্চে পাঠিয়েছিলেন চেম্বার বিচারপতি হাসান ফয়েজ সিদ্দিকী।

আদালতে নির্বাচন কমিশনের পক্ষে আইনজীবী ওবায়দুর রহমান মোস্তফা জানান, আজই নির্বাচন স্থগিতের বিরুদ্ধে নির্বাচন কমিশন (ইসি) আপিল বিভাগে আবেদন করবে। এ কারণে একসঙ্গে আবেদনগুলো শুনানির জন্য আর্জি জানান।

এ পর্যায়ে আদালত বলেন, অন্যরা চলে এসেছে। আপনারা বিলম্ব করেছেন কেন।

আইনজীবী বলেন, গতকাল শুনানির জন্য পাওয়ার পেয়েছি। বৃহস্পতিবার তিনটি আবেদনের ওপর শুনানির দিন ধার্য করে দেন। পরে আদালত শুনানির জন্য আগামীকাল নির্ধারণ করে আদেশ দেন।

আদালতে রিটকারীর পক্ষে ব্যারিস্টার রোকন উদ্দিন মাহমুদ, বিএনপির মেয়র প্রার্থীর পক্ষে ব্যারিস্টার মওদুদ আহমদ, অ্যাডভোকেট জয়নুল আবেদীন, ব্যারিস্টার মাহবুব উদ্দিন খোকন এবং আওয়ামী লীগের মেয়র প্রার্থীর পক্ষে এস এম শফিকুল ইসলাম বাবু উপস্থিত ছিলেন।

গত ৭ মে সিটি করপোশনের নির্বাচন স্থগিতের বিরুদ্ধে দুই মেয়র প্রার্থী আপিল বিভাগের সংশ্লিষ্ট শাখায় আবেদন করেন।

গত ৬ মে সীমানাসংক্রান্ত জটিলতার কারণে গাজীপুর সিটি করপোরেশনের নির্বাচন ৩ মাসের জন্য স্থগিত করেছেন হাইকোর্ট। বিচারপতি নাঈমা হায়দার ও বিচারপতি জাফর আহমদের সমন্বয়ে গঠিত হাইকোর্ট বেঞ্চ এই আদেশ দেন।

একই সঙ্গে সাভারের শিমুলিয়া ইউনিয়নের ছয়টি মৌজাকে গাজীপুর সিটি করপোরেশনে অন্তর্ভুক্ত করা কেন অবৈধ ঘোষণা করা হবে না- এ মর্মে রুলও জারি করা হয়েছে। প্রধান নির্বাচন কমিশনারসহ সংশ্লিষ্টদের ৪ সপ্তাহের মধ্যে রুলের জবাব দিতে বলা হয়েছে। আদালতে রিটের পক্ষে শুনানি করেন অ্যাডভোকেট বি এম ইলিয়াস কচি। রাষ্ট্রপক্ষে ছিলেন ডেপুটি অ্যাটর্নি জেনারেল মো. মোখলেছুর রহমান।

আদালতে ৬ এপ্রিল রিট আবেদনটি দায়ের করেন সাভার উপজেলার আশুলিয়া থানার শিমুলিয়া ইউনিয়নের চেয়ারম্যান এ বি এম আজহারুল ইসলাম সুরুজ। ৫৭টি সাধারণ ও ১৯টি সংরক্ষিত ওয়ার্ড নিয়ে গাজীপুর সিটি করপোরেশন গঠিত। এখানে ভোটার সংখ্যা ১১ লাখ ৬৪ হাজার ৪২৫ জন। গত ৪ মার্চ সিটি করপোরেশনের সীমানা নিয়ে গেজেট জারি হয়। যেখানে শিমুলিয়া ইউনিয়নের দক্ষিণ বড়বাড়ী, ডোমনা, শিবরামপুর, পশ্চিম পানিশাইল, পানিশাইল ও ডোমনাগকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়।

রিটের পক্ষে আইনজীবী জানান, ২০১৩ সালে এ ছয়টি মৌজাকে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছিল। তখন বিষয়টি নিয়ে এ বি এম আজহারুল ইসলাম সুরুজ আবেদন করেন। কিন্তু সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষ গ্রাহ্য না করায় হাইকোর্টে রিট করার পর আদালত আবেদনটি পুনর্বিবেচনা করতে নির্দেশ দেয়। এর মধ্যে ২০১৬ সালে শিমুলিয়া ইউনিয়ন পরিষদের নির্বাচন হয়। ওই নির্বাচনে এ ছয়টি মৌজা শিমুলিয়ার মধ্যেই ছিল। নির্বাচনে আজহারুল ইসলাম চেয়ারম্যান নির্বাচিত হন। এখন আবার এ ছয় মৌজাকে সিটিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়। যেহেতু তিনি ছয়টি মৌজার ভোটেও নির্বাচিত হয়েছিলেন। তাই এ ছয়টি মৌজাকে সিটিতে অন্তর্ভুক্ত করার বৈধতা চ্যালেঞ্জ করে রিট আবেদন করেন। রিটের প্রাথমিক শুনানি নিয়ে আদালত উক্ত আদেশ দেন।

গাজীপুর সিটি করপোরেশনের মেয়র এবং সাধারণ ও সংরক্ষিত কাউন্সিলর পদে নির্বাচন আগামী ১৫ মে হওয়ার কথা ছিল।


ঢাকা, বুধবার, মে ৯, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ৬৭২ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন