সর্বশেষ
বুধবার ৩০শে কার্তিক ১৪২৫ | ১৪ নভেম্বর ২০১৮

ঝগড়া এড়িয়ে চলার কৌশল

শনিবার, মে ১২, ২০১৮

4.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

পার্টনার, সহকর্মী, প্রতিবেশী কিংবা পরিবারের সদস্যদের সাথে নানা কারণে ঝগড়া হতে পারে৷ তবে মনোবিজ্ঞানীরা বলেন, কিছু বিষয়ের দিকে লক্ষ্য রাখলে ঝগড়া এড়িয়ে শান্তিতে থাকা সম্ভব বলে ডয়েচে ভেলের এক প্রতিবেদনে জানানো হয়েছে৷

শান্ত থাকুন:
‘শান্ত থাকুন’ বলা যত সহজ, সেই কথা মেনে চলা ততটা সহজ নয়৷ তবে যে বিষয়গুলোতে সঙ্গীর সাথে মিল হচ্ছে না বা ঝগড়া হতে পারে মনে হচ্ছে, সেগুলো সুন্দর করে গুছিয়ে নিন৷ আপনার পার্টনার বা জীবনসঙ্গীর সাথে আলাপ করুন৷ তবে অপরপক্ষ রেগে যাচ্ছে মনে হলে প্রথমেই থেমে যান৷ এবার নিজে জোরে জোরে নিঃশ্বাস নিন এবং অপর পক্ষকে রাগতে দিন৷ এক সময় সে কিন্তু এমনিতেই শান্ত হয়ে যাবে৷

সহকর্মীর সাথে মতবিরোধ এড়াতে:
সহকর্মীর সাথে কোনো কারণে মতের অমিল হতেই পারে৷ এক্ষেত্রে ‘আপনি সবসময় আমাকে দোষ দেন, এটা একদম ঠিক না’, এরকম না বলে বরং বলুন, ‘আমি বুঝতে পারছি আপনি কি বোঝাতে চাইছেন’ বা এ ধরনের কিছু৷ পরে ঝগড়ার আসল কারণ খুঁজে বের করুন৷ এবার একজন বলুন আরেকজন শুনুন৷ তাহলে কোনো ব্যাপারই ঝগড়া পর্যন্ত যাবে না৷

ঘর থেকে চলে যান:
কেউ কেউ প্রচন্ড রাগ হলে উলটো-পালটো কথা বলেন, যা তারা হয়ত বিশ্বাস করে বা মন থেকে বলেন না৷ এক্ষেত্রে একজন রাগ হলে অপরজনের ‘পরে কথা বলবো’ বলে ঘর থেকে চলে যাওয়াই শ্রেয়৷ এই ধৈর্য ধরা কিন্তু বৃথা যাবে না! হয়ত একটু সময় লাগবে, তবে অপর পক্ষ এক সময় অবশ্যই শান্ত হবে৷

শতকরা ২৮জন কর্মজীবীই মানসিকচাপে ভোগেন:
অপরপক্ষ শান্ত হলে তার সাথে স্বাভাবিকভাবে কথা বলুন৷ বলতে পারেন, ‘হ্যাঁ, তোমার কথাই হয়ত ঠিক, চলো বিষয়টি আবার চেক করে নেয়া যাক৷’ দেখবেন, এই কথাটি ঠিক জাদুর মতো কাজ করবে৷ আসলে একটি বন্ধুত্বপূর্ণ আলোচনায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ‘সদিচ্ছা’ এবং ‘পারস্পরিক সম্মানবোধ’৷ এক সমীক্ষায় দেখা গেছে কর্মস্থল বা টিমে আচরণ বন্ধুত্বপূর্ণ না থাকার কারণে শতকরা ২৮ জন কর্মজীবীই মানসিকচাপে ভোগেন৷

‘বিজয়ী’ মনোভাব ত্যাগ করতে হবে:
সংসারে শান্তিপূর্ণভাবে কিছু পেতে চান বা ইচ্ছাপূরণ করতে চান যে মানুষ, তার ঝগড়ায় জড়ানো মাত্রই বিজয়ী মনোভাব ত্যাগ করতে হবে৷ 'কিছু পেতে হলে কিছু ছাড় দিতে হবে' এই মনোভাব নিয়ে চললে জীবনে ঝগড়া ছাড়াই অনেককিছু পাওয়া সম্ভব৷

যা করতে পারেন:
ঝগড়ার সময় প্রতিটি বাক্যের শুরুতে ‘তুমি’ বা ‘আপনি’ বললে আক্রমণাত্বক মনে হতে পারে৷ তাই এরকম ক্ষেত্রে বিস্তারিত আলোচনায় না গিয়ে শুধু জানান, আপনি তার কাছে কী চান৷

প্রতিবেশীর সাথে ঝগড়া এড়াতে:
কর্মস্থল থেকে বাড়ি ফেরার সাথে সাথে কখনো কোনো ঝগড়ার কারণ নিয়ে প্রতিবেশীর কাছে যাবেন না৷ কিছুক্ষণ অপেক্ষা করুন এবং তার তখন সময় আছে কিনা জেনে নিয়ে কথা শুরু করুন৷ দেখবেন, হয়ত ঝগড়া ছাড়াই সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে৷

নারী পুরুষের অনুভূতি:
স্বামী-স্ত্রী বা পার্টনারের মধ্যে ঝগড়ার পর কথা বন্ধ থাকলে মানসিকভাবে কষ্ট পান শতকরা ৪৮ জন নারী৷ আর পুরুষদের মধ্যে শতকরা ৫২ ভাগ৷ ঝগড়ার সময় চিৎকার বা চেচামেচি করা ঘৃণা করেন শতকরা ৪০ ভাগ নারী-পুরুষ৷ আর রাগের সময় জোরে দরজা ধাক্কা দেওয়া খুবই অপছন্দ ২২ থেকে ২৪ জন নারী ও পুরুষের৷ এ তথ্যও জানা গেছে এক সমীক্ষা থেকে৷


ঢাকা, শনিবার, মে ১২, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এইচ এই লেখাটি ১৯১৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন