সর্বশেষ
সোমবার ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৯ নভেম্বর ২০১৮

জার্মান ভক্ত আমজাদের পতাকার দৈর্ঘ্য এবার সাড়ে ৫ কি.মি

রবিবার, মে ২৭, ২০১৮

8.jpg
মাগুরা প্রতিনিধি :

গত বিশ্বকাপে সাড়ে তিন কিলামিটার দৈর্ঘ্যের জার্মান পতাকা প্রদর্শন করে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমের শিরোনাম হয়েছিলেন মাগুরার আমজাদ হোসেন।

রাশিয়া বিশ্বকাপকে ঘিরে আবারও নতুন প্রস্তুতিতে ৫৫ বছর বয়সী এই কৃষক। এবার সাড়ে ৫ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের পতাকা নির্মাণ করছেন জার্মান এই ভক্ত!

মাগুরা সদর উপজেলার ঘোড়ামারা গ্রামের আমজাদ গত বিশ্বকাপে সাড়ে ৩ কিলোমিটার দৈর্ঘ্যের জার্মান পতাকা তৈরি করতে জমি বিক্রি করেছিলেন। এবার পতাকার আকার তার চেয়েও বড়। প্রায় সাড়ে পাঁচ কি.মি. পতাকা তৈরি করতে অনেক কষ্ট হলেও তার স্বপ্ন পতাকার দৈর্ঘ্য হবে ২২ কি.মি! সব কিছুর বিনিময়ে হলেও দীর্ঘ এই পতাকা তৈরির স্বপ্ন দেখছেন আমজাদ।

জার্মান ভক্ত আমজাদ হোসেন জানান, ছোটবেলা থেকেই ফুটবলের প্রতি আমার খুব ভালোবাসা। বিশ্বকাপ ফুটবল এলেই আমি খেলার দেখতে ছুটে যেতাম বিভিন্ন স্থানে। জার্মানির খেলা খুব আমার খুব ভালো পছন্দ বিধায় আমি জার্মানির পক্ষে অনেক আগে থেকেই। কারণ তাদের খেলার ধরণ ও কৌশল খুবই চমৎকার।

পতাকা সম্পর্কে তিনি বলেন, আমি সামান্য একজন কৃষক। কৃষিকাজ করে আমি জীবিকা নির্বাহ করি। আমার সংসারে ১০ সন্তানের জনক। তার পরেও ফুটবলের প্রতি অকৃত্রিম ভালোবাসা আর জার্মান দেশকে ভালোবাসি বিধায় ২০১৪ সালে নিজের ৩০ শতক জমি বিক্রি সাড়ে তিন কিলোমিটার পতাকা তৈরি করেছিলাম। সেই পতাকাটি আমি যখন মাগুরা শহরের প্রদর্শিত করি তখন ব্যাপক আলোচিত হয়েছিলাম। সেই সময় এ পতাকাটি তৈরি করতে আমার খরচ হয়েছিল ৫ লক্ষ টাকা। আর ২০১৪ সালে যখন ব্রাজিলের মাঠে জার্মানি বিশ্বকাপ চ্যাম্পিয়ন হলো তখন আমি নিজেকে সার্থক মনে করলাম। জার্মানির এ চ্যাম্পিয়নে আনন্দে উচ্ছ্বাসে নেচে গেয়ে আমরা জার্মান ভক্ত জেলার মানুষকে জানিয়েছিলাম।'

এবারের আসন্ন ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ আয়োজন সম্পর্কে বলেন, আমি এবার জার্মানির পতাকাটি আরো ২ কিলোমিটার বৃদ্ধি করেছি। এখন পতাকাটির দৈর্ঘ্য দাঁড়িয়েছে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটার। আগামী ৫ জুন আমি সদরের নিশ্চিতিপুর হাইস্কুল মাঠে সাড়ে পাঁচ কিলোমিটারের পতাকাটি জনসম্মুখে উন্মুক্ত করবো।

এবারও তিনি পতাকা তৈরি করেছেন নিজের ফসলাদি বিক্রি করে। এবার বাড়তি ২ কিলোমিটার এ পতাকা তৈরিতে খরচ হয়েছে প্রায় দেড় লক্ষ টাকা। ২০১৮ সালের বিশ্বকাপ জেতার জন্য তিনি দেশবাসীর কাছে দোয়া প্রার্থনা কামনা করেছেন।

সদরের ঘোড়ামারা গ্রামের এক ফুটবল ভক্ত নাসির হোসেন বলেন, আমজাদ ভাই আমাদের গ্রামের একজন ফুটবলপ্রেমী মানুষ। তিনি নিজের জমি পতাকা করেছেন ।যেটি আমাদের জেলায় সব সারাদেশে আলোড়িত হয়েছে। আবার অনেকে তাকে পাগলও বলেছেন। কারণ ফুটবলের প্রতি তার এ ভালোবাসা আসলে অকৃত্রিম।

মাগুরার বিশিষ্ট ফুটবল ক্রীড়া সংগঠক বারিক আনজাম বারকি বলেন, 'আমজাদ নিজের জমি বিক্রি করে পকাতা তৈরি করেছেন তা বিরল দৃষ্টান্ত হয়ে থাকবে। আমরা দোয়া করি তার কষ্ট ও চেষ্টা সফল হোক।'

মাগুরার অন্যতম জাতীয় ক্রীড়া ধারাভাষ্যকার প্রদ্যুত কুমার রায় বলেন, তিনি পতাকাটি তৈরি করে শুধু নিজে সম্মানিত হননি মাগুরা জেলাকে সম্মানিত করেছেন। আমি আশা রাখছি এবারও জার্মানি চ্যাম্পিয়ন হয়ে তার স্বপ্ন বাস্তবায়ন করুক।

জার্মানির সমর্থক আমজাদ সব দলের সমর্থকদের ছাপিয়ে তার প্রিয় দল জার্মানিকে সবার উপরে মেলে ধরতে চান পতাকা দিয়ে। গত বিশ্বকাপে সাড়ে তিন কিলোমিটার দীর্ঘ পতাকা প্রদর্শন করে তিনি সারাদেশে আলোচনায় আসেন। জার্মানি চ্যাম্পিয়ন হওয়ার পর জার্মানের বাংলাদেশ অবস্থানকারী রাষ্ট্রদূত স্বয়ং আমজাদের বাড়িতে এসে তাকে জার্মান ফ্যান ক্লাবের সম্মানিত সদস্য করে নেন। মাগুরা স্টেডিয়ামে পতাকাটি প্রদর্শনের মাধ্যমে তাকে সংবর্ধনাও দেওয়া হয়।


ঢাকা, রবিবার, মে ২৭, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ৩৭১৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন