সর্বশেষ
শুক্রবার ৬ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

মাত্র ১০ হাজার টাকায় ১ লাখ টাকার সুবিধা!

শনিবার, জুন ৯, ২০১৮

dmp-1.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

মাত্র ১০ হাজার টাকায় সুবিধা পাওয়া যাবে ১ লাখ টাকার। ঈদকে সামনে রেখে জাল টাকার নোট ছাপিয়ে সাধারন মানুষকে প্রতারণা করতে এমনই অপকর্ম করার উদ্দেশ্য ছিল জাল টাকার উৎপাদক ও কারবারিদের।

শুক্রবার ডিএমপির মিডিয়া সেন্টারে দুপুরে এক সংবাদ সম্মেলনে বিস্তারিত জানান ঢাকা মহানগর গোয়েন্দা বিভাগের অতিরিক্ত পুলিশ কমিশনার দেবদাস ভট্টাচার্য।

বৃহস্পতিবার ঢাকা মেট্রোপলিটন পুলিশের গোয়েন্দা উত্তর বিভাগের একটি টিম বিশেষ অভিযান পরিচালনা করে প্রায় ১ কোটি জাল টাকা ও টাকা তৈরীতে ব্যবহৃত বিভিন্ন সরঞ্জামসহ এই জাল টাকা প্রস্তুতকারী একটি ১০ জনের দলকে গ্রেফতার করেছে। বৃহস্পতিবার বিকালে রাজধানীর বিভিন্ন এলাকা থেকে অভিযান পরিচালনা করে তাদেরকে গ্রেফতার করা হয়।

গ্রেফতারকৃতরা হল- রফিক, জাকির, হানিফ, রাজন শিকদার ওরফে রাজা ওরফে রাজু, খোকন ওরফে শাওন, রিপন, মনির, সোহরাব, জসিম ও লাবনী। এসময় তাদের হেফাজত হতে প্রায় ১ কোটি জাল টাকার নোট ও জাল টাকা তৈরীর সরঞ্জাম ১ টি কালো রংয়ের এসার ব্র্যান্ডের ল্যাপটপ, এপসন ব্র্যান্ডের কালো রংয়ের ২ টি কালার প্রিন্টার, এ ফোর সাইজের এক পৃষ্ঠায় জাল টাকার প্রিন্টকৃত ১৬ টি পাতা, স্ক্রীন বোর্ড ১০ টি যার সাহায্যে জালনোটে জলছাপ হলগ্রাম লেখার প্রিন্ট দেওয়া হয়, স্ক্রীন বোর্ডের ০১ টি পিড়া, জালটাকা তৈরী করার আইপিআই কালির সাদা প্লাষ্টিকের কৌটা ২৭ টি, ওচও কালির লাল টিনের কৌটা ৮ টি, পিভিসি মিডিয়াম প্রিন্টিং ইংকের ১ টি ব্যবহৃত খালি কৌটা, গোল্ড মিডিয়াম  কালির সাদা প্লাষ্টিকের কৌটা ২ টি, কালার কার্টিজ ৩০০টি ও জালটাকা তৈরীর জন্য ব্যবহৃত সূতা তৈরীর ৩ টি রোল উদ্ধার করা হয়।

সংবাদ সম্মেলনে দেবদাস ভট্টাচার্য বলেন, জাল টাকার তৈরীর মূলহোতা গ্রেফতারকৃত রফিক প্রথম জীবনে নোয়াখালী ছগির মাষ্টার নামক এক ব্যক্তির সহযোগী হিসেবে জাল টাকা তৈরী করত। এক পর্যায়ে সে নিজেই সরঞ্জামাদি ক্রয় করে রাজধানীর কদমতলী থানাধীন পূর্ব জুরাইন বৌ-বাজার এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে জাল টাকা তৈরীর কার্যক্রম শুরু করে। সে তার অন্যতম সহযোগী রাজন, লাবনী ও অন্যদেরকে নিয়ে দীর্ঘদিন ধরে কদমতলীসহ ঢাকা মহানগরীর বিভিন্ন এলাকায় বাসা ভাড়া নিয়ে জাল টাকার ব্যবসা করে আসছিল। গ্রেফতারকৃত জাকির জাল টাকার তৈরীর উদ্দেশ্যে বিশেষ ধরনের কাগজে বিভিন্ন রকমের জলছাপ এবং নকল নিরাপত্তা সূতা স্থাপন করত।

ডিবি প্রধান বলেন, উৎপাদকের এক লাখ টাকা তৈরি করতে খরচ হয় প্রায় ১০ হাজার টাকা, পরবর্তীত সময়ে সে পাইকারী বিক্রেতার নিকট ১ লাখ টাকা ১৪-১৫ হাজার টাকায় বিক্রয় করে। পাইকারী বিক্রেতা ১ম খুচরা বিক্রেতার নিকট বিক্রয় করে ২০-২৫ হাজার টাকা, ১ম খুচরা বিক্রেতা ২য় খুচরা বিক্রেতার নিকট বিক্রয় করে ৪০-৫০ হাজার টাকায় এবং ২য় খুচরা বিক্রেতা মাঠ পর্যায়ে সেই টাকা সমমূল্যে অর্থাৎ আসল এক লাখ টাকায় বিক্রয় করে।

তিনি আরো জানান, মাঠ পর্যায়ে কর্মীরা বিভিন্ন নিত্য প্রয়োজনীয় পন্য/দ্রবাদি ক্রয়ের মাধ্যমে এই জালনোট বাজারে বিস্তার করে থাকে। আসন্ন পবিত্র ঈদ-উল্-ফিতর উপলক্ষে এই চক্র বাজারে প্রায় ১/২ কোটি টাকা ছাড়ার পরিকল্পনা নিয়ে মাঠে নেমেছিল বলে গ্রেফতারকৃতরা প্রাথমিক ভাবে স্বীকার করেছে।


ঢাকা, শনিবার, জুন ৯, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ২২২৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন