সর্বশেষ
সোমবার ৫ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৯ নভেম্বর ২০১৮

চিরিরবন্দরে ব্রি-ধান-৫০ চাষে কৃষকের সাফল্য

সোমবার, জুন ১১, ২০১৮

7_0.jpg ছবি উৎস : বিডিলাইভ২৪
চিরিরবন্দর প্রতিনিধি, দিনাজপুর :

দিনাজপুরের চিরিরবন্দরে নতুন জাতের সুগন্ধি ধান ব্রি-ধান-৫০ চাষ করে ভালো ফলন অর্জন করায় অধিকাংশ কৃষকদের মাঝে এ ধান চাষে ব্যাপক আগ্রহ জাগিয়ে তুলেছে। ফলে আগামীতে এ ধানের চাষ ব্যাপক হারে হবে বলে আশা করছেন কৃষি সম্প্রসারণ বিভাগ।

উপজেলা কৃষি অফিস সূত্রে জানা গেছে, ২০১৭ সাল হতে পল্লী কর্ম-সহায়ক ফাউন্ডেশন (পিকেএসএফ) এর আর্থিক সহায়তায় বেসরকারি সংস্থা গ্রাম বিকাশ কেন্দ্র (জিবিকে) সুগন্ধি ধান ভ্যালু চেইন প্রকল্প বাস্তবায়ন করে। সে লক্ষ্যে প্রকল্পের আওতায় কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর এর সহযোগিতায় প্রকল্প অন্তর্ভুক্ত কৃষকদের ২ দিন ব্যাপী সুগন্ধি ধান চাষের উন্নত পদ্ধতি ও রোগ-পোকা দমনের উপর প্রশিক্ষণ প্রদান করা হয়।

এর ফলে কৃষকেরা ধান উৎপাদনের আধুনিক প্রযুক্তিগত জ্ঞান বিশেষ করে সুষম সারের ব্যবহার, সিঙ্গেল হিল মেথড, পার্চিং এবং রোগ ও পোকা মাকড় দমন ব্যবস্থাপনা বিষয়ে জানতে পারে। যা ঐ অঞ্চলের কৃষকেরা আগে জানত না। তারা শুধুমাত্র সনাতন পদ্ধতির উপর নির্ভর করে ধান চাষ-আবাদ করত ফলে কৃষকেরা আর্থিকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হতো। এ বছর বোরো মৌসুমে উন্নত প্রযুক্তি ও কলা কৌশল ব্যবহার করে প্রায় ২৭ একর জমিতে ব্রি ধান-৫০ জাতের ধান চাষাবাদ করা হয়েছে।

আব্দুলপুর ইউনিয়নের চৌধুরীপাড়া গ্রামের কৃষক রেজাউল করিম জানান, এবার ৩৩ শতক জমিতে ব্রি-ধান-৫০ চাষ করেছেন। চারা লাইন করে রোপণ করার ফলে চারার পরিমাণ কম লাগার পাশাপাশি ফলন বৃদ্ধি ও রোগ পোকা-মাকড় কম হয় ও অন্তর্বর্তীকালীন পরিচর্যা করতে সহজ হয়। তিনি চলতি বোরো মৌসুমে ব্রি ধান ৫০ চাষ করে ২৬ মণ ধান উৎপন্ন করেছেন যার বাজার মূল্য ১৮ হাজার ২শ' টাকা। উৎপাদন খরচ বাদ দিয়ে তার লাভ হয়েছে ১০ হাজার ৪ শত টাকা। কিন্ত সনাতন পদ্ধতিতে ওই জমিতে চাষ করতে তার ব্যয় হতো প্রায় ৮ হাজার টাকা। ধান উৎপাদন হতো ২০ থেকে ২২ মণ যার বাজার মূল্য ১২ থেকে ১৩ হাজার টাকা এতে তার উদ্বৃত্ত লাভ হতো ৬ হাজার ৩শ' টাকা।

আউলিয়াপুকুর ইউনিয়নের জগদীশপুর গ্রামের সুগন্ধি ধান উৎপাদক দলের কৃষক মোঃ সাইদুর রহমান বলেন, গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের নিকট হতে প্রশিক্ষণ নিয়ে তারা আধুনিক পদ্ধতিতে চাষাবাদ করছেন এতে তাদের উৎপাদন খরচ যেমন কমেছে পাশাপাশি তাদের আয়ও বেড়েছে।

গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের সুগন্ধি ধান ভ্যালু চেইন প্রকল্পের প্রকল্প প্রধান কৃষিবিদ মোঃ লিয়াকত আলী জানান, ব্রি-ধান-৫০ সিঙ্গেল হিল পদ্ধতিতে লাইন করে চারা রোপণ করার ফলে মাজরা ও অন্যান্য ক্ষতিকর পোকা সহজে দমন করা যায়। ফলে তুলনামূলক ভাবে জমিতে কম কীটনাশক ব্যবহার করতে হয়।

এছাড়া ইউরিয়া অপচয় রোধের জন্য এলসিসি ও সেচ পানির অপচয় রোধের জন্য এডাব্লিউডি ব্যবহার করা হয়।

এ ব্যাপারে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা কৃষিবিদ মাহমুদুল হাসান জানান, উপজেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের সার্বিক পরামর্শ ও গ্রাম বিকাশ কেন্দ্রের পেইস প্রকল্পের আওতায় সুগন্ধি ধান ভ্যালু চেইন প্রকল্পের সহযোগিতায় কৃষকরা বর্তমানে ধানের ভাল ফলন ও দাম বেশি পাওয়ায় আনন্দিত। এ প্রকল্প চালু থাকলে পরবর্তীতে সুগন্ধি ধান চাষে কৃষকদের আগ্রহ দিনদিন বাড়বে বলেও আশা প্রকাশ করেন তিনি।

মানিক হোসেন, চিরিরবন্দর প্রতিনিধি


ঢাকা, সোমবার, জুন ১১, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ১৩৮৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন