সর্বশেষ
মঙ্গলবার ২৯শে কার্তিক ১৪২৫ | ১৩ নভেম্বর ২০১৮

দেড় যুগেও সংস্কার হয়নি টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধ

রবিবার, জুলাই ৮, ২০১৮

10.jpg
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :

দীর্ঘ দেড় যুগেও সংস্কার হয়নি টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধ। হল্যান্ড সরকারের আর্থিক সহযোগিতায় ১২০ কোটি টাকা ব্যয়ে ২০০০ সালে কম্পার্টমেন্টালাইজেশন পাইলট প্রজেক্ট(সিপিপি) এর আওতায় ৪৭ কিলোমিটার দীর্ঘ এই বাঁধটি তৈরি করা হয়। যা ছিলিমপুর-করটিয়া বাঁধ নামে পরিচিত।

দীর্ঘ দিন সংস্কার না করায় বর্তমানে হুমকির মুখে টাঙ্গাইল শহর রক্ষার এই বাঁধ। বিশেষ করে বাঁধের পূর্বাংশ পুংলী ব্রিজ থেকে মহেলা, আগবেথর পাছবেথর, শালিনা, বার্থা হয়ে করটিয়া পর্যন্ত বাঁধের বিভিন্ন অংশ পৌলী নদীর পানি বৃদ্ধির কারণে ইতিমধ্যে ভেঙ্গে গেছে। অনেক অংশে ছু্ইঁ ছুঁই করছে নদী। বাঁধের এই অংশটি ভাঙ্গানের শিকার হলে টাঙ্গাইল শহর, গালা, ঘারিন্দা, করটিয়া ইউনিয়নসহ বাসাইল উপজেলার বিস্তীর্ণ এলাকার বাড়িঘর, ফসলি জমি, সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান ও মসজিদ মাদ্রাসা নদী গর্ভে বিলীন হয়ে যাবে।

এছাড়া ঢালান শিবপুরঘাট হতে যুগনি পর্যন্ত প্রধান স্লুইসগেট এলাকাসহ শিবপুর ও শ্যামার ঘাট এলাকাস্থ বাঁধের বিভিন্ন অংশের স্থানে ভাঙ্গন দেখা দিয়েছে। একইভাবে প্রতিনিয়ত শহর রক্ষা এই বাঁধের বিভিন্ন অংশে যানবাহন চলাচলের কারণে ডেবে গেছে। গত বছর বন্যার সময় রামদেবপুর এলাকার বাসিন্দারা নিজ উদ্যোগে মাটি ফেলে কোন রকমে বাঁধের রামদেবপুর অংশটিকে রক্ষা করেছিল।

পানি উন্নয়ন বোর্ড অফিস সূত্রে জানা যায়, এই বাঁধে পানি প্রবেশের জন্য প্রধান ইনলেট ১টি (যুগনী স্লুইসগেট), পানি প্রবেশের সাব-ইনলেট ১৬টি, পানি নিষ্কাশনের জন্য ১৫টি আউটলেট রাখা হয়েছে। বাঁধ নির্মাণসহ ৯৬ কিলোমিটার খাল খনন করা হয়। এ বাঁধটি শুধু বন্যা মুক্ত টাঙ্গাইল শহর রাখার জন্যই নয়, কৃষিকাজে পানি সরবরাহের জন্যও এ বাঁধটি সহায়তা করছে।

মহেলা আদর্শ গ্রামের রিক্সা চালক মোঃ বাদশা মিঞা শহর রক্ষা বাঁধ দ্রুত মেরামত করার দাবি জানিয়ে বলেন, 'এই বাঁধটা ভেঙ্গে গেলে টাঙ্গাইল শহর ডুবে যাবে। আমরা রিক্সা চালাতে পারবো না, তাহলে আয় হবে ক্যামনে। সরকার যেন দ্রুত এই বাঁধ ঠিক করার উদ্যোগ নেন।'

টাঙ্গাইল পৌর এলাকার বাসিন্দা ও ব্যবসায়ি রতন মিয়া জানান, শহর রক্ষা বাঁধটি শুধু শহরই রক্ষা করছে না, বছর বছর সৃষ্ট বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত মানুষের উপার্জনেও ব্যাপক সহায়তা করছে। নিম্ন আয়ের মানুষ গুলো শহরে উপার্জন করে পরিবার পরিজন নিয়ে দিনাতিপাত করতে সক্ষম হচ্ছে। শহর রক্ষা বাঁধটি নির্মাণের ফলে এর আশপাশের ইউনিয়ন গুলো ভয়াবহ বন্যার শিকার হলেও শহর কেন্দ্রিক জীবনযাপনের সহায়তা পাচ্ছেন বলেও জানান তিনি।

তবে স্থানীয়দের অভিযোগ, এ বাঁধটির উপর দিয়ে প্রতিনিয়ত বালু বহনকারী ট্রাক চলাচলের ফলে এর ক্ষতি আরো ব্যাপক আকার ধারণ করেছে।

টাঙ্গাইল শহর রক্ষা বাঁধ হুমকির মুখে এ কথা স্বীকার করে টাঙ্গাইল পানি উন্নয়ন বোর্ডের নির্বাহী প্রকৌশলী মোঃ শাহজাহান সিরাজ জানান, 'টাঙ্গাইল শহর রক্ষায় ৪৭ কিলোমিটার বাঁধ রয়েছে। তবে এরই মধ্যে কিছু কিছু জায়গায় ভাঙ্গন পরিলক্ষিত হচ্ছে। ভাঙ্গন কবলিত গ্রাম গুলোর মধ্যে মহেলা, পাছবেথর, রানাগাছা, বার্থা অন্যতম। এই সব এলাকায় স্থায়ী প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা বাস্তবায়নের লক্ষ্য ইতিমধ্যে একটি প্রকল্প প্রস্তাবনা দাখিল করা হয়েছে। এই প্রকল্পটি অনুমোদিত হলে স্থায়ী প্রতিরক্ষা বাধ বাস্তবায়ন সম্ভব হবে। তখন এই সব এলাকায় আর ভাঙ্গন থাকবে না।'

উল্লেখ্য, ২০০৬ সালের বন্যায় ক্ষতিগ্রস্ত এ বাঁধটির ৪৭ কিলোমিটারের মধ্যে মাত্র ১৫ কিলোমিটার বাঁধ সংস্কার করা হয়েছিলো।

টাঙ্গাইল থেকে,
মুক্তার হাসান


ঢাকা, রবিবার, জুলাই ৮, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ৪২৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন