সর্বশেষ
বুধবার ৪ঠা আশ্বিন ১৪২৫ | ১৯ সেপ্টেম্বর ২০১৮

হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সতর্কতা

সোমবার, জুলাই ১৬, ২০১৮

10.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

হজের বিভিন্ন আনুষ্ঠানিকতা পালন করতে সংশ্লিষ্ট এলাকায় জনসমাগমে বাড়তি চাপে বিভিন্ন স্বাস্থ্য সমস্যা দেখা দেয়। ভৌগোলিক, জলবায়ু ও আবহাওয়াগত পরিবর্তনে পরিবেশের সঙ্গে খাপ খাওয়াতে হজযাত্রীদের বেশকিছু অসুবিধা দেখা যায়।

জেনে নিন হজযাত্রীদের স্বাস্থ্য সতর্কতা সম্পর্কে-

ভ্রমণকালীন সমস্যা :
হজযাত্রীরা বিমান ভ্রমণে অনভ্যস্ততার কারণে বমি, মাথাব্যথা, শ্বাসকষ্ট, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগের সমস্যায় ভুগে থাকেন। বিমান সুউচ্চ পর্বত ও মেঘমালা এড়ানোর জন্য ভূপৃষ্ঠ থেকে অনেক উচ্চতা অতিক্রম করে চলতে হয়। তখন ঊর্ধ্বাকাশে বায়ুমণ্ডলে অক্সিজেনের চাপ কম থাকায় রক্তের অক্সিজেনের মাত্রা নিচে নেমে আসে। ফলে অ্যাজমা রোগীদের শ্বাসকষ্ট এবং তীব্র মাথাব্যথা অনুভব হয়।

তাপমাত্রার পার্থক্য :
জেদ্দা বিমানবন্দরে নামার পরপরই আবহাওয়াগত পরিবর্তন লক্ষ্য করা যায়। আমাদের দেশের তাপমাত্রার সঙ্গে মরু অঞ্চলে তাপমাত্রার ব্যাপক পার্থক্য রয়েছে। আমাদের দেশের আবহাওয়ায় জলীয় বাষ্পের আর্দ্রতায় একটা ভারসাম্য রয়েছে। অন্যদিকে সৌদি আরবের তাপমাত্রা সাধারণত ৪০-৫০ ডিগ্রি সেলসিয়াস পর্যন্ত হয়ে থাকে, সেইসঙ্গে বাতাসে জলীয় বাষ্পের আর্দ্রতাও কম থাকে।

স্কিনের সমস্যা :
সরাসরি সূর্যের আলো গায়ে লাগায় এর ক্ষতিকর অতি বেগুনি রশ্মির প্রভাবে মুখমণ্ডল, বাহু ও বুকের চামড়ায় সানবার্ন হতে পারে।

সংক্রামক ব্যাধি :
পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত থেকে আগত লোকজন একত্রে ঘন পরিবেশে বসবাস, বাতাসে হাঁচি-কাশি এবং হাতের স্পর্শে বিভিন্ন ফ্লু'র সংক্রমণ ঘটতে পারে। কখনও কখনও তা মহামারী আকারে ছড়াতে পারে। সাধারণত ম্যানিনগোকক্কাল ইনফেকশন, হেপাটাইটিস-এ এবং হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস, মৌসুমি ইনফ্লুয়েঞ্জা, টাইফয়েড ফিভার, ইয়েলো ফিভার, ম্যালেরিয়া জ্বর এবং ১৫ বছরের কমবয়সীদের ক্ষেত্রে পলিও ভাইরাসের সংক্রমণের ঝুঁকি থাকে।

বয়স্ক ও জটিল রোগীদের ক্ষেত্রে :
বয়স্ক ব্যক্তি, উচ্চ রক্তচাপ, হৃদরোগ ও ডায়াবেটিসসহ অন্যান্য জটিল রোগীরা অনাকাক্সিক্ষত পরিস্থিতিতে নানা রকম শারীরিক জটিলতার শিকার হন। অনেকের ক্ষেত্রে হাইপো ও হাইপার গ্লাইসোমিয়া দেখা দেয় এবং কারো কারো ক্ষেত্রে জটিলতার কারণে রোগী কোমায় চলে যায়।

পরামর্শ:
ফুসফুসে রোগ বিশেষ করে যারা নিউমোথোরাক্স রোগে আক্রান্ত তাদের ক্ষেত্রে চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া বিমান পরিভ্রমণ অনুচিত। ঊর্ধ্বাকাশে বিমান পরিভ্রমণকালে অক্সিজেনের স্বল্পতায় হাঁপানি রোগীদের ক্ষেত্রে তীব্র শ্বাসকষ্ট হয়, তাই ইনহেলার অবশ্যই কাছে রাখতে হবে।

ডিহাইড্রেশন ও কোষ্ঠবদ্ধতা এড়ানোর জন্য প্রতি দু-তিন ঘণ্টা পর পর প্রচুর পানি পান করতে হবে। বদহজমজনিত সমস্যায় কারমিনেটিভজাতীয় ওষুধ সেবন করা।

সরাসরি সূর্যের আলো গায়ে না লাগানো, একটানা দীর্ঘক্ষণ না হেঁটে কিছুক্ষণ বিশ্রাম নিয়ে হাঁটা, অত্যধিক জনবহুল পরিবেশ এড়িয়ে চলা, প্রয়োজন অনুপাতে বিশ্রাম ও ঘুমানো। শরীর ঠাণ্ডার রাখার জন্য শীতল খাদ্যদ্রব্য ও প্রচুর পানি পান করা। সূর্যের ভয়াবহ তাপ ও ক্ষতিকর আলোক রশ্মি থেকে ত্বক রক্ষা করার জন্য মুখের ওপর সাদা কাপড় সানস্ক্রিন লোশন ও ছাতা ব্যবহার করা।

নিয়মিত হাঁটার অভ্যাস করতে হবে। চশমা বা কন্ট্রাক্ট লেন্স ব্যবহার করলে সতর্কতামূলক অতিরিক্ত আরও একটি সঙ্গে নেয়া ভালো। পুরুষের ক্ষেত্রে মাথা মুণ্ডনকালীন সময়ে একই ব্লেড ব্যবহার করায় হেপাটাইটিস-বি ভাইরাস সংক্রমণ হওয়ার আশংকা রয়েছে, তাই অন্যের ব্যবহৃত রেজার বা ক্ষুর ব্লেড ব্যবহার না করা। ব্যক্তিগত নিরাপত্তার প্রতি নজর দিতে হবে।

বিশেষ করে হ্যান্ড-ল্যাগেজ, পাসপোর্ট ও প্রয়োজনীয় ওষুধ এবং সরঞ্জামাদি যথাযথভাবে সংরক্ষণ করা। ভ্যালিড ট্রাভেল ইন্স্যুরেন্স কার্ড থাকলে তা সঙ্গে রাখতে হবে।


ঢাকা, সোমবার, জুলাই ১৬, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ২৭৩ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন