সর্বশেষ
শনিবার ৭ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২২ সেপ্টেম্বর ২০১৮

ক্যানসারের সতর্কীকরণ উপসর্গ

রবিবার, জুলাই ২২, ২০১৮

image.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

অনেক সাধারণ শারীরিক উপসর্গ রয়েছে, যা সম্পূর্ণ স্বাভাবিক হতে পারে অথবা উদ্বিগ্ন হওয়ার কারণও হতে পারে। এসব উপসর্গ অবহেলা না করে, চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। রিডার্স ডাইজেস্ট এর বরাত দিয়ে এ বিষয়ে বিস্তারিত জানিয়েছে রাইজিংবিডি।

* কাশির সঙ্গে রক্ত
যদি লক্ষ্য করেন যে আপনার কাশির সঙ্গে রক্ত যাচ্ছে, তাহলে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। অগাস্টা ইউনিভার্সিটির মেডিক্যাল কলেজ অব জর্জিয়ার প্রফেসর মার্থা কে. টেরিস বলেন, ‘প্রস্রাব কিংবা কাশির সঙ্গে রক্ত বের হতে পারে অথবা মলের সঙ্গে রক্ত কিংবা মেনোপজের পর যোনিতে রক্তপাত হতে পারে। নারীদের মেনোপজ হোক কিংবা না হোক, তাদের অপ্রত্যাশিত রক্তপাত উপেক্ষা করা উচিত নয়- এটি ক্যানসারের অন্যতম লক্ষণ হতে পারে।

* নিউমোনিয়ার পুনরাবৃত্তি
ক্রনিক সমস্যা হচ্ছে আপনার মনোযোগ আকর্ষণ করার জন্য আপনার শরীরের একটি পন্থা। নিউ ইয়র্ক-প্রেসবিটেরিয়ান ব্রুকলি মেথডিস্ট হসপিটালের অনকোলজিস্ট মেন্ডেল গোল্ডফিনগার বলেন, ‘আমি একটি প্যাটার্ন লক্ষ্য করেছি যে অনেক রোগীর এমন উপসর্গ থাকে, যা কাঙ্ক্ষিত এবং চিকিৎসার মাধ্যমে উপশম করা যায়। কিন্তু তারা এসব কেন হচ্ছে তা জানার চেষ্টা না করে উপসর্গকে পুনরাবৃত্তিমূলক করে তোলে। উদাহরণস্বরূপ, ৪০ বছর বয়স্ক একজন লোকের কখনো নিউমোনিয়া হয়নি, কিন্তু হঠাৎ করে একবছরে দুইবার নিউমোনিয়া বিকশিত হয়, তাহলে তার চিকিৎসককে জিজ্ঞেস করা প্রয়োজন যে কেন এখন এটি ঘটছে, এমনকি অ্যান্টিবায়োটিক চিকিৎসায় নিউমোনিয়া প্রশমিত হলেও।’

* লাম্প অথবা বাম্প
যদি আপনার শরীরের কোথাও অনাকাঙ্ক্ষিত লাম্প বা বাম্প বা নট বা পিণ্ড দেখেন, তাহলে অবহেলা না করে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হোন। ডা. টেরিস বলেন, ‘ত্বকে বা কুঁচকি, বগল, ঘাড়, স্তন অথবা পেটের ত্বকের নিচে লাম্প বা পিণ্ড বিকশিত হতে পারে।’ যদি তারা লেগে থাকে অথবা নিয়মিত ফিরে আসে, তাহলে তা ক্যানসারের একটি লক্ষণ হতে পারে।

* জ্বর
অপ্রত্যাশিত জ্বর (আপনার জ্বর হওয়ার মতো কোনো ইনফেকশন বা ভাইরাস নেই) উদ্বেগের কারণ হতে পারে, বিশেষ করে বারবার হলে। আটলান্টায় অবস্থিত ক্যানসার ট্রিটমেন্ট সেন্টারস অব আমেরিকার মেডিক্যাল অনকোলজিস্ট লোয়ানা বোন্টা বলেন, ‘যদি আপনার ২৪ বা ৪৮ ঘণ্টা ধরে জ্বর থাকে এবং কিছু টাইলিনল গ্রহণের পর চলে যায়, তাহলে তা ক্যানসার জ্বর নয়। কিন্তু এক সপ্তাহ অথবা দুই সপ্তাহ ধরে বিদ্যমান নিম্নমাত্রার জ্বর টাইলিনল বা ইবুপ্রোফেন গ্রহণের পরও দূর না হলে তা দুশ্চিন্তা করার মতো জ্বর।’

* অপ্রত্যাশিত ওজন হ্রাস
ডা. বোন্টা সতর্ক করেন, ‘অনাকাঙ্ক্ষিত ওজন হ্রাস কখনো ভালো কিছু নয়।’ তিনি যোগ করেন, ‘ক্যানসার হরমোন নিঃসরণ করে, যা ওজন অত্যধিক কমিয়ে ফেলে। সাধারণত ক্যানসারে আক্রান্ত লোকদের ওজন হ্রাস পায়- আপনার ডায়েট কিংবা এক্সারসাইজে কোনো পরিবর্তন না আনা সত্ত্বেও।’

* রাতে ঘাম
জ্বরের সঙ্গে রাতে ঘাম আপনার শরীর যে কোনো ক্যানসার বা ভাইরাসে ভুগছে তার একটি লক্ষণ হতে পারে। কানাডায় অবস্থিত স্টুডিও সিটির হলিস্টিক ও ইন্টিগ্রেটিভ মেডিসিন প্র্যাকটিশনার জোয়েল ওয়ার্শ বলেন, ‘আপনার শরীর ক্যানসার কোষকে অপরিচিত হিসেবে গণ্য করে এবং ইমিউন রেসপন্স বৃদ্ধি করে, যার ফলে জ্বর ও রাতে ঘামের মতো উপসর্গ প্রকাশ পেতে পারে।’ ডা. বোন্টা বলেন, ‘এটি লিম্ফোমা বা লিউকেমিয়ায় ভোগা লোকদের ক্ষেত্রে বিশেষভাবে কমন।’ তিনি যোগ করেন, ‘লিউকেমিয়ার রোগীরা আমাকে বলে যে তারা মধ্যরাতে জেগে ওঠেন এবং ঘামে ভিজে যায়। তাদেরকে বেডশিট ও পাজামা পরিবর্তন করতে হয়।’ ডা. বোন্টা উল্লেখ করেন, ‘এসব রাতের ঘাম হরমোন সম্পর্কিত হট ফ্ল্যাশ থেকে ভিন্ন। যদি আপনি এর কারণ শনাক্ত করতে পারেন এবং প্রতিকার করতে পারেন, তাহলে এটি ক্যানসার নয়। কিন্তু রাতের ঘাম কয়েক প্রকার ক্যানসারের লক্ষণ হতে পারে।’

* অনবরত বুকজ্বালা
যদি আপনাকে প্রতিনিয়ত অ্যান্টাসিড খেতে হয়, তাহলে অধিকতর কার্যকরী ওষুধ পেতে এবং ক্যানসার আছে কিনা নির্ণয় করতে চিকিৎসকের শরণাপন্ন হওয়ার প্রয়োজন হবে। ডা. বোন্টা বলেন, ‘গ্যাস্ট্রিক ক্যানসার সর্বাধিক কমন ক্যানসার নয়, কিন্তু এর প্রকোপ বৃদ্ধি পাচ্ছে।’ তিনি যোগ করেন, ‘রিফ্লাক্স অথবা গ্যাস্ট্রোএসোফাজিয়েল রিফ্লাক্স ডিজিজে ভোগা লোকেরা এটি অনুধাবন নাও করতে পারে যে তাদের খাদ্যনালীর স্তরের পরিবর্তন হচ্ছে।’ দীর্ঘস্থায়ী রিফ্লাক্সের ক্ষেত্রে খাদ্যনালীর স্বাভাবিক ও সুস্থ কোষ অস্বাভাবিক কোষ দ্বারা প্রতিস্থাপিত হতে পারে, যা ক্যানসারাস হতে পারে। ডা. বোন্টা বলেন, ‘এই দশা (যাকে ব্যারেট’স এসোফ্যাগাস বলে) ক্যানসারের প্রিকার্সর হতে পারে।’ তিনি আরো বলেন, ‘লেগে থাকা বুকজ্বালা প্রকৃতপক্ষে ক্যানসারের অন্যতম প্রাথমিক লক্ষণ হতে পারে, বিশেষ করে যদি বুকজ্বালার সঙ্গে গিলতে সমস্যা বা ব্যথা হয়।’


ঢাকা, রবিবার, জুলাই ২২, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ২০৭৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন