সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ৫ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৮

পরিচয় লুকাতে থেঁতলে দেওয়া হয় পায়েলের মুখ

শুক্রবার, জুলাই ২৭, ২০১৮

payel-5b5b449a9c9ba.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

পায়েলের মামা গোলাম সরওয়ার্দী বিপ্লব জানান, বাসের সুপারভাইজার জনি গ্রেফতার হওয়ার পর থানায় তার সঙ্গে কথা বলে ঘটনার বর্ণনা জানতে পারেন তারা।

তিনি বলেন, চট্টগ্রাম থেকে ঢাকা যাওয়ার পথে ভাটেরচর সেতুর আগে বাস যানজটে পড়লে প্রস্রাবের জন্য চালককে বলে গাড়ি থেকে নামে পায়েল। সে ফেরার আগেই বাস সামনের দিকে এগিয়ে যায় এবং সেতুর ওপর উঠে দাঁড়ায়। পায়েল দৌড়ে এসে দরজার কাছে দাঁড়ালে চালক গাড়ির দরজা খুলতে সুইচ টিপ দেন। দরজা খোলার সময় ধাক্কা লেগে পায়েল নাক-মুখে আঘাত পায় এবং পড়ে যায়। তার নাক-মুখ থেকে রক্ত ঝরতে দেখে চালক কিছুটা সামনে এগিয়ে যান। এরপর আবার থামেন। তখন সুপারভাইজার পায়েলকে দেখে এসে চালককে বলেন, 'ওস্তাদ অজ্ঞান হয়ে গেছে, উঠাই নিব?' 'তখন জামাল হোসেন চালকের আসন থেকে উঠে এসে বলেন, 'বিপদে পড়ে যাবি।' তারপর নিজেই পায়েলের মাথার দিকের অংশ ধরেন এবং সুপারভাইজারকে পায়ের দিকের অংশ ধরতে বলেন। তার মুখমণ্ডল রাস্তায় আছড়ে ফেলেন এবং দুর্ঘটনার দায় এড়াতে সেতু থেকে নিচে নদীতে ফেলে দেন। আসামিদের তিনজনই মুন্সীগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক হাকিম আদালতে এ নিয়ে ১৬৪ ধারায় স্বীকারোক্তিমূলক জবানবন্দিও দেন।

মুন্সীগঞ্জের পুলিশ সুপার মো. জায়েদুল আলম বলেন, আহত পায়েলকে হাসপাতালে নিলে বাঁচানো যেত। কিন্তু তা না করে দায় এড়াতে মুখ থেঁতলে ছুড়ে ফেলা হয় নদীতে। ময়নাতদন্ত রিপোর্ট বলছে, নদীতে ফেলার পরও জীবিত ছিল পায়েল। তাই তার পেটে প্রচুর পানিও ঢুকেছে। কোনো কারণ ছাড়া কেন বাসের চালক, হেলপার ও সুপারভাইজার এ হত্যাকাণ্ড ঘটাল, তা খুঁজে বের করব।

বৃহস্পতিবার রাতে হালিশহর আই ব্লকে পায়েলদের বাসায় গিয়ে দেখা যায়, ছেলের নানা স্মৃতির কথা মনে করে অঝোরে কাঁদছেন মা কোহিনুর বেগম। এ সময় পায়েলের মামা কামরুজ্জামান চৌধুরী ভাগ্নের সঙ্গে থাকা বিভিন্ন ছবি দেখান।

পায়েলের বাবা গোলাম মাওলা ২৬ বছর ধরে কাতারের দোহায় চাকরি করেন। বড় ছেলে গোলাম মোস্তফাও সেখানে থাকেন। পায়েলের মৃত্যু খবর পেয়ে দেশে ফিরেছেন তারা। ভাই মোস্তফার মেয়ে হওয়ার খবর পেয়ে তাকে দেখতে চট্টগ্রামের বাসায় ফিরেছিলেন পায়েল।

পায়েলের বাবা গোলাম মাওলা বলেন, ছেলেটার তো কোনো অপরাধ ছিল না। তাকে কেন এভাবে খুন করা হলো? নাক-মুখ থেকে রক্ত পড়ছিল বলে কি কেউ একটা মানুষকে পানিতে ফেলে দিতে পারে? যারা তাকে খুন করেছে, তারা কি মানুষ? আদরের সন্তানের মুখ দেখার সুযোগও না রাখায় এ ব্যাপারে হত্যাকারীদের সরাসরি প্রশ্ন করার সুযোগ চান তিনি।

চট্টগ্রামে মানববন্ধন : পায়েল হত্যায় জড়িতদের ফাঁসির দাবিতে শুক্রবার নগরীর প্রেস ক্লাবের সামনে মানববন্ধন করা হয়। এতে স্বজনসহ রাজনৈতিক, সামাজিক ও মানবাধিকার সংগঠনের নেতৃবৃন্দ অংশ নেন। বক্তারা হত্যায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি, পরিবারকে ১০ কোটি টাকা ক্ষতিপূরণ, হানিফসহ সব পরিবহন সংস্থাকে সুষ্ঠু নীতিমালার আওতায় এনে যাত্রীসেবা নিশ্চিত করার দাবি জানান।

সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি একেএম বেলায়েত হোসেনের সভাপতিত্বে মানববন্ধন কর্মসূচিতে অন্যান্যদের মধ্যে বক্তব্য রাখেন পায়েলের বড় মামা কামরুজ্জামান চৌধুরী টিটু, মেজো মামা গোলাম সোহরাওয়ার্দী বিপ্লব, ছোট মামা বাহার চৌধুরী শিপন, চট্টগ্রাম চেম্বারের পরিচালক সারওয়ার হাসান জামিল, সমকালের চট্টগ্রাম ব্যুরো প্রধান সারোয়ার সুমন, মানবাধিকারকর্মী আমিনুল হক বাবু, সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক আবু ইউছুপ রিপন, উত্তর জেলা মহিলা আওয়ামী লীগের সহ-সভাপতি রুমানা নাসরিন প্রমুখ।

মানববন্ধনে একাত্মতা প্রকাশ করে অংশগ্রহণ করেন সাবেক ছাত্রলীগ নেতা রফিকুল ইসলাম, সন্দ্বীপ অ্যাসোসিয়েশনের সাংগঠনিক সম্পাদক জিয়াউল হাসান শিবলু, প্রচার সম্পাদক কাজী জিয়া উদ্দিন সোহেল, সাংবাদিক এম শামসুল হুদা, চেয়ারম্যান মিজানুর রহমান মিজান, সন্দ্বীপ উপজেলা আওয়ামী লীগের ক্রীড়া ও সাংস্কৃতিক সম্পাদক শাহেদ সরওয়ার শামিম প্রমুখ।

মানববন্ধনে উপস্থিত ছিলেন মগধরা ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান এসএম আনোয়ার হোসেন, মুছাপুর ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আবুল খায়ের নাদিম, সন্দ্বীপ এডুকেশন সোসাইটির সভাপতি মো. হেলাল উদ্দিন, রেডিও টু ডে’র সাংবাদিক মো. সালেহ নোমান, উত্তর জেলা জাসদের সভাপতি বেলায়েত হোসেন, সন্দ্বীপ ছাত্র ফোরাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় সাধারণ সম্পাদক রাশেদ মারফী, সন্দ্বীপ থানা ছাত্রলীগের সহ-সভাপতি জিকু।

এছাড়াও লিও ক্লাব অব চিটাগাং সন্দ্বীপ, লায়ন্স ক্লাব অব চিটাগাং সন্দ্বীপ, বঙ্গবন্ধু ছাত্র পরিষদ, সন্দ্বীপ জনকল্যাণ পরিষদ, ব্যান্ডিং ক্লাব হালিশহর, প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদ কাজী আফাজ উদ্দিন আদর্শ উচ্চ বিদ্যালয়, হালিশহর আই-ব্লক বাসী, হালিশহর থানা ছাত্রলীগ, ইয়ূথ ক্লাব অব চিটাগাং সন্দ্বীপ, সন্দ্বীপ ছাত্র ফোরাম চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়, আলোকিত সংঘ, মগধরা উচ্চ বিদ্যালয় প্রাক্তন ছাত্র-ছাত্রী পরিষদ, লিও ক্লাব অব চিটাগাং ইমার্জিন সন্দ্বীপ, সন্দ্বীপ স্টুডেন্ট এফিনিটি আইআইইউসি, সন্দ্বীপ ল’স্টুডেন্ট ফোরাম, সন্দ্বীপ কবি-লেখক ফোরাম, চট্টগ্রাম মুসলিম হাই স্কুলের প্রাক্তন ও বর্তমান ছাত্র-ছাত্রীসহ আরও অনেক সংগঠন মানববন্ধনে অংশগ্রহণ করে। সূত্র:সমকাল


ঢাকা, শুক্রবার, জুলাই ২৭, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ২১৭১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন