সর্বশেষ
শুক্রবার ৬ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

বাসা ভাড়া নেওয়ার আগে জেনে নিন কিছু তথ্য

রবিবার, আগস্ট ১২, ২০১৮

13.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

নগরায়ন ও বিশ্বায়নের এ যুগে মানুষ শহরমুখী। জীবিকার তাগিদে আমরা নিজেদের বসতবাড়ি ছেড়ে বসবাস করি ভাড়াটিয়া বাসায়। রাজধানীসহ বেশিরভাগ জেলা শহরগুলোতে মানুষ ভাড়াবাড়িতে থাকছেন। কিন্তু এক্ষেত্রে পোহাতে হচ্ছে নানা ঝামেলা।

তাই বাসা ভাড়া নেয়ার পূর্বে ভাড়াটিয়া হিসেবে আপনার কি করণীয় সম্পর্কে জেনে নিন-

মালিকপক্ষের সাথে সরাসরি কথা বলুন:

বাসা ভাড়া নেয়ার সময় অবশ্যই মালিক পক্ষের সাথে সরাসরি কথা বলে নেয়া ভালো। যদি তিনি ওই বাড়িতেই থাকেন, তবে সুবিধা। আর না থাকলে জানতে হবে, তিনি কত দিন পরপর ভাড়াটিয়াদের অবস্থা দেখতে আসেন? তাদের সমস্যা-অভিযোগের দেখভাল করা মালিকের অন্যতম দায়িত্বের মধ্যে পড়ে।

তথ্য ফরমে নাম নিবন্ধন:

বর্তমান প্রতিটি বাড়িওয়ালা তার নিজের ও ভাড়াটিয়ার তথ্য নির্ধারিত ফরমে পূরণ করে সংশ্লিষ্ট থানায় জমা দিতে বাধ্য। বাড়ি ভাড়া নেয়ার পর বিলম্ব না করে বাড়িওয়ালার সাথে সাথে ভাড়াটিয়া হিসেবে আপনি নিজে আন্তরিক হয়ে নিরাপত্তার স্বার্থে তথ্য ফরম পূরণ করুন।

ভাড়া নিয়ে চুক্তিপত্র:

অনেক সময় বাড়িওয়াল কিছু না বলে যখন-তখন বাড়ির ভাড়া বৃদ্ধি করে। এই বিড়ম্বনা থেকে মুক্ত থাকতে করে নিন ভাড়া নেয়ার চুক্তিপত্র। চুক্তিতে বাড়ি ভাড়ার পরিমাণ, অন্যান্য ইউটিলিটি সুবিধার বিবরণসহ যাবতীয় বিষয় লিপিবদ্ধ আছে কি না দেখে নিন।

পানি ও গ্যাস: 

আমাদের জীবনযাপনে সবচেয়ে গুরুত্বপর্ণ চাহিদার মধ্যে রয়েছে পানি ও গ্যাস। বাড়িতে সব সময় পানি থাকে কি না এবং বাসার সব সংযোগ থেকে পানি আসে কি না তা দেখে নিন। নির্দিষ্ট সময় পানি সরবরাহ বন্ধ থাকলে জেনে নিতে হবে। ওই বাড়ির পানির মূল উৎস কী, গ্যাসের কী অবস্থা, তা জেনে নিতে হবে।

বাড়িওয়ালা সম্পর্কে জানুন:

ভাড়াটিয়া সম্পর্কে বাড়িওয়ালার যেমন জানার প্রয়োজন রয়েছে ঠিক তেমনি বাড়িওয়ালা সম্পর্কে ভাড়াটিয়ার জানার প্রয়োজন রয়েছে। বাড়িওয়ালার চারিত্রিক গুনাবলী, আপনার আগের ভাড়াটিয়া কেন চলে গিয়েছিল? সে সব জানার চেষ্টা করুন।

বাড়িটি বিক্রির জন্য কি না:

বিড়ম্বনা এড়ানোর জন্য বাসা ভাড়া নেয়ার পূর্বে জেনে নিন যে বাড়ি বা অ্যাপার্টমেন্টে উঠছেন তা বিক্রির চেষ্টা চলছে কি না। যদি তাই হয়, তাহলে বিক্রি হওয়া মাত্রই আপনাকে দ্রুত বাসা ছেড়ে দেওয়ার তাগাদা দেবেন মালিক।

বাসা মেরামতের বিষয়:

বাসায় ওঠার আগে বেসিনের কল নষ্ট বা দেয়ালের রং ও প্লাস্টার কেমন আছে দেখে নিন। নষ্ট থাকলে বাড়িওয়ালাকে দিয়ে এগুলো মেরামত করিয়ে নিন। যদিও এসব ঠিকঠাক করে দেওয়া বাড়িওয়ালার দায়িত্বের মধ্যে পড়ে। তবুও কথা বলে নিশ্চিত করে নিন।

কতটি বৈদ্যুতিক আউটলেট রয়েছে:

আমাদের আধুনিক জীবন ব্যবস্থায় প্রয়োজন প্রযুক্তিগত পণ্যের ব্যবহার। টেলিভিশন, ফ্রিজ বা অন্যান্য কাজে বাসায় বৈদ্যুতিক সংযোগের দরকার। দেখে নিন, ওই বাসায় মোট কয়টি বৈদ্যুতিক সকেট বসানো রয়েছে। যদি লম্বা তার টেনে বৈদ্যুতিক সংযোগ নিতে হয়, তাহলে বিপদ। দুর্ঘটনা এড়ানো কঠিন হবে।

গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গা :

গাড়ি পার্কিংয়ের জায়গাটার আকার কেমন হবে। আপনার যদি গাড়ি বা মোটরসাইকেল থাকে তাহলে ওই বাড়িতেই পার্কিং করা যাবে কি না, তাতে নিরাপত্তা ও পর্যাপ্ত স্থানের ব্যবস্থা রয়েছে কি না দেখে নিন। খোলা স্থান হলে প্রহরী ও সিসি ক্যামেরার দিকে নজর দিন।

প্রতিবেশী কেমন তা জানুন:

প্রতিবেশীর সাথে সুসম্পর্কের মাধ্যমে নিরাপদ ও সুন্দর পরিবেশে বসবাস করা যায়। বাসা ভাড়া নেয়ার সময় দেখে দিন আপনার বাসার চারপাশে যাঁরা রয়েছেন তাঁরা কে, কেমন ও কি করে। এসব বিষয় সম্পর্কে জেনে নেয়া ভালো। যেকোনো সময় কাজে লাগবে।


ঢাকা, রবিবার, আগস্ট ১২, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ৭৫৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন