সর্বশেষ
মঙ্গলবার ১০ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সাতক্ষীরায় ৩৯-৪৬ জাতের আখ চাষে সাফল্য চাষিরা

সোমবার, আগস্ট ২০, ২০১৮

Pic12.jpg
সাতক্ষীরা প্রতিনিধি :

দেশের উপকূলীয় জেলা হিসেবে পরিচিত সাতক্ষীরায় পরীক্ষামূলক ভাবে লবণ সহিষ্ণু নতুন জাতের আখ চাষ করে বেশ সফল হয়েছে কৃষকেরা। বাংলাদেশ আখ গবেষণা ইন্সটিটিউট ইশ্বরদী‘র ব্যবস্থাপনায় সাতক্ষীরার চলতি বছর পরীক্ষামূলক ভাবে লবনাক্ততা এলাকাতে উচ্চ মাত্রার লবণ সহিষ্ণু ৩৯ ও ৪৬ জাত চাষ করা হয়েছে। আখের ফলন ভালো হওয়ায় আখ চাষিরাও বেশ খুশি।

কৃষকেরা জানায়,  ১০ বছর আগেও সাতক্ষীরার তালা, কলারোয়া ও সাতক্ষীরা সদরে আখের চাষ হতো। কিন্তু জলবায়ু পরিবর্তনের ফলে এসব এলাকার ফসলি জমিতে দেখা দিয়েছে মাত্রা অতিরিক্ত লবনাক্ততা। আর লবনাক্ততার কারণে এসব এলাকা থেকে আখ চাষ উঠে গেছে বললে ভুল হবে না।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে জানা গেছে, চলতি মৌসুমে সাতক্ষীরা জেলায় ১৫০ হেক্টর জমিতে চাষ করা হয়েছে। এর মধ্যে সদর উপজেলায় ৫ হেক্টর, কলারোয়ায় ২ হেক্টর, তালায় ৭৫ হেক্টর, দেবহাটায় ৩৫ হেক্টর, কালিগঞ্জে ২৫ হেক্টর, আশাশুনিতে ৫ হেক্টর এবং শ্যামনগর উপজেলাতে ৪ হেক্টর পরিমাণ জমিতে আখ চাষ করা হয়েছে। যেসব জমিতে আখ চাষ করা হয়েছে তা সবই লবনাক্ততা সহিষ্ণু জাতের ।

সাতক্ষীরা সদর উপজেলার বালিথা গ্রামের আখ চাষি আল-আমিন হোসেন  জানান, তার এলাকার অধিকাংশ জমিতে লবনাক্ততা বেড়ে গেছে। দানাদার জাতীয় ফসল আগের মত আর ফলে না। তাই আখ গবেষণা ইন্সটিটিউটের পরামর্শে চলতি মৌসুমে ২ বিঘা জমিতে পরীক্ষামূলক ভাবে লবণ সহিষ্ণু নতুন ৩৯ জাতের আখ রোপণ করে তিনি সাফল্য অর্জন করেছেন। তিনি বলেন, গত ডিসেম্বরে আখের ডগা রোপণ করার পর বর্তমানে ক্ষেতে বড় বড় ঝাড়ে পরিণত হয়েছে। তাছাড়া তেমন কোনো রোগবালাইও এখনো পর্যন্ত দেখা দেয়নি । তিনি আরো বলেন, আগামীতে আরো বেশি পরিমাণ জমিতে এই লবণ সহিঞ্চু ৩৯ জাতের আখ চাষ করবেন।। বিঘা প্রতি ২২ হাজার টাকার মত খরচ হয়েছে তার আখ চাষ করতে।

একই গ্রামের আখ চাষি জোসনা বেগমও পাবনা ইশ্বরদী‘র আখ গবেষণা ইন্সটিটিউটের লোকজনের পরামর্শে তার ৩ বিঘা পরিমাণ জমিতে লবণ সহিষ্ণু নতুন ৩৯ জাতের আখ চাষ করেছেন। তিনি বলেন, এমন ভালো ফলন হবে জানলে আরো বেশি পরিমাণ জমিতে আখ রোপণ করতেন।

বি.এস.আর.আই-এর সমন্বিত গবেষণা কার্যক্রম জোরদারকরণ প্রকল্পের অধীনে সাতক্ষীরার লবনাক্ততা প্রবণ সাতক্ষীরা সদর, তালা, কালিগঞ্জ, আশাশুনি ও শ্যামনগর উপজেলাতে লবণ সহিষ্ণু জাতের আখ চাষ করা হয়েছে।

প্রকল্পটি বাস্তবায়ন করবে কৃষিতত্ত্ব ও ফার্মিং সিস্টেম বিভাগ বাংলাদেশ সুগারক্রপ গবেষণা ইন্সটিটিউট ইশ্বরদী,পাবনা।

প্রকল্প পরিচালক ঊর্ধ্বতন বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ড. সমজিত কুমার পাল জানান, উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলার ৭টি উপজেলার সবচেয়ে বেশি লবনাক্ততা এমন ৫টি উপজেলাতে পরীক্ষামূলক ভাবে লবণ সহিষ্ণু নতুন ৩৯ ও ৪৬ জাতের আখ চাষ করা হয়েছে। তিনি বলেন, এই নতুন ৩৯ ও ৪৬ জাতের আখ যেমন উচ্চমাত্রার লবণ সহ্য করতে পারবে তেমনি অধিক পরিমাণ ফলন দেবে। বিঘা প্রতি সব্বোর্চ ২২ থেকে ২৫ হাজার টাকা খরচ হয়। আর বিঘা জমির আখ বিক্রি হবে কমপক্ষে ৬৫ থেকে ৭০ হাজার টাকা। ফলে কৃষক লাভবান হবে এই লবণ সহিষ্ণু জাতের আখ চাষ করে। তিনি বলেন, ৩৯ ও ৪৬ জাতের আখ ১৫ থেকে ১৬ মাত্রার লবণ সহ্য করতে পারবে অনায়াসে। তাছাড়া রোগবালাইয়ের প্রাদুর্ভাব খুবই কম। তিনি আরো বলেন, প্রান্তিক পর্যায়ের কৃষক এ জাতের আখ চাষ করে লাভবান হতে পারবে।

সাতক্ষীরা জেলা কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তরের উপ-পরিচালক কৃষিবিদ কাজী আব্দুল মান্নান জানান, জলবায়ু পরিবর্তনের পাশাপাশি লবনাক্ততা বেড়ে যাওয়ায় উপকূলীয় সাতক্ষীরা জেলার বিভিন্ন অঞ্চলে আখ উৎপাদন কমে যাচ্ছে আশংকাজনকভাবে। তবে লবণ সহিষ্ণু নতুন ৩৯-৪৬ জাতের আখ চাষে সাফল্য এসেছে সাতক্ষীরায়। আগামীতে জেলার সব অঞ্চলেই এ জাতের আখ চাষ করতে পারলে কৃষক লাভবান হবে জানান তিনি।

জি এম কামরুজ্জামান
সাতক্ষীরা


ঢাকা, সোমবার, আগস্ট ২০, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // উ জ এই লেখাটি ৫৬০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন