সর্বশেষ
মঙ্গলবার ২৯শে কার্তিক ১৪২৫ | ১৩ নভেম্বর ২০১৮

ঈদের ছুটিতে ঘুরে যেতে পারেন বিশ্বকবির কাচারি বাড়ি

মঙ্গলবার, আগস্ট ২১, ২০১৮

Pic13.jpg
ফারুক হাসান কাহার, শাহজাদপুর প্রতিনিধি :

পবিত্র ঈদ উল আযহা মুসলিম উম্মার ২য় বৃহৎ ধর্মীয় উৎসব। বুধবার(২২আগষ্ট) ত্যাগের মহিমায় পবিত্র ঈদ উল আযহা পালিত হবে।বুধবার(২২আগষ্ট) এর পর দেশ পাঁচদিনের ছুটির ফাঁদে পরেছে।ঈদের এই ছুটিতে পরিবার পরিজন নিয়ে ঘুরতে যেতে পারেন সিরাজগঞ্জের শাহজাদপুরে অবস্থিত বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের কাচারি বাড়িতে। স্থানীয়রা একে কাচারি বাড়ি বলে থাকেন।

সিরাজগঞ্জ জেলার শাহজাদপুরে মাথা উঁচু করে দাঁড়িয়ে আছে রবীন্দ্র কাচারি বাড়ি। শাহজাদপুরের সঙ্গে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সম্পর্ক অবিচ্ছেদ্য। তার মানস গঠনেও এ অঞ্চলের প্রভাব অনস্বীকার্য। ১৯৪০ সালে ‘বাণী সম্মেলনীতে' তিনি স্বহস্তে লিখে পাঠান সে কথা।১৯৯৬ সালে এই কাচারি বাড়ীকে পরিছন্ন করে সরকার প্রত্নতত্ত্ব অধিদপ্তরের আওতায় এনে সংরক্ষণের উদ্যোগ নেয় এবং ১৯৯৯ সালে কাছারি বাড়ীর পশ্চিম আঙ্গিনায় ৫০০ আসন বিশিষ্ট উত্তর বঙ্গের সবচেয়ে নান্দনিক অডিটরিয়াম নির্মাণ করে। প্রতি বছর ২৫, ২৬, ২৭ বৈশাখ কবির জন্মজয়ন্তী সরকারীভাবে উদযাপন করা হয় নানা অনুষ্ঠান মালার মাধ্যমে । এ উপলক্ষে ৫দিন ব্যাপী বসে মেলা। এসময় দেশের বিভিন্ন প্রান্ত থেকে কবি ভক্তরা ভিড় করে কবির কাছারি বাড়ীতে। বর্তমানে কাছারি বাড়ীটি আধুনিকতায় বাহারি গাছ ও ফুলের সমারোহে সুসজ্জিত করার ফলে পর্যটকদের দারুণভাবে আকর্ষিত করছে ।

শাহজাদপুরের পৌর শহরের দ্বাড়িয়াপুর মৌজার শাহজাদপুর কাপড়ের হাট সংলগ্ন উপজেলা পরিষদের উত্তরে প্রায় দশ বিঘা জমির ওপর পুরো কাচারি বাড়ির অবস্থান।স্মৃতি যাদুঘর হলুদ রঙের দোতলা ভবন। ভবনের দৈর্ঘ্য ২৬.৮৫ মিটার, প্রস্থ ১০.২০ মিটার, উচ্চতা ৮.৭৪ মিটার। প্রতি তলায় সাতটি করে ঘর। উত্তর ও দক্ষিণে প্রশস্থ বারান্দা। কুঠি ভবনের পাশেই কাছারি বাড়ি, মালখানা পুরোটাই ‘রবীন্দ্র -কাছারি‍‍'।

জানা যায় ১৯৩৯ সালে  তের টাকা দশ আনায় জমিদারি কিনে নেন কবির পিতামহ দারকানাথ ঠাকুর। তার আগে এখানে ছিল নীলকরদের নীলকুঠি। তবে নীলকুঠি বর্তমান পরিত্যক্ত। ১৮৯০ সালে লন্ডন থেকে ঘুরে আসার পর রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের ওপর জমিদারি তদারকির ভার ন্যস্ত হয়। কাচারি বাড়ির পেছন দিকের গেইটটি বর্তমানে প্রধান গেইট করা হয়েছে।কাচারি বাড়ির গেটে দাঁড়ালেই চোখ জুড়িয়ে যায়, বড় বাগান। নানা রঙের ফুল, বাগানের পরই তার হলুদ রঙের দোতলা কুঠি। নিচের তলা জুড়ে রবীন্দ্রনাথের নিজের বিভিন্ন ছবি, তার আঁকা ছবি এবং তার হাতে লেখা পাণ্ডুলিপির পাতার অংশ বাধাই করে দেয়ালে টানানো রয়েছে। কিছুদিন আগেও এখানে লাইব্রেরি ছিল। অডিটরিয়াম হওয়ার পর লাইব্রেরিটি তারই একটি কক্ষে স্থানান্তরিত হয়েছে। উত্তরদিকের বারান্দার একেবারে পশ্চিমে সিঁড়িঘর। গোল-প্যাঁচানো সিঁড়িটি যেন সবাইকেই উপরে উঠার জানান দেয়। ওঠার সময় পশ্চিমে একটি জানালা। সিঁড়ির মুখেই দুটি দরজা একটি দরজা খোলা শুরুতেই একটি পালকি। ঠাকুর বাড়ির পালকি। বংশ পরম্পরায় ব্যবহার হয়েছে এটি, পড়ার টেবিল, চিঠি লেখার ডেস্ক, আলনা, গোল টি-টেবিল। এরপর এঘর থেকে সেঘর। সেগুলোতে রক্ষিত রয়েছে রবীন্দ্রনাথের ব্যবহৃত নানারকম আসবাব-তৈজসপত্র।প্রতিদিন গড়ে ৪০০ থেকে ৫০০ শত দর্শনার্থী বেড়াতে আসেন এই কাচারি বাড়িতে।

#যেভাবে যাবেন :

সিরাজগঞ্জ  রোড থেকে শাহজাদপুর বিসিক বাস স্ট্যান্ডে পৌঁছালেই চোখে পড়বে কবিগুরুর ভাস্কর্য।ওখান থেকে রিক্সাযোগে অথবা গাড়ি যোগে সরাসরি কবি গুরুর কাছারি বাড়িতে যাওয়া যায়।তবে চলাচলের সুবিধার্থে দিলরুবা বাস স্ট্যান্ড হয়ে আসতে পারেন।

যাদুঘর পরিদর্শনের সময় সূচী:

মঙ্গলবার-শনিবার সকাল ১০টা হতে বিকেল ৬টা পর্যন্ত।দুপুর ১টা থেকে ১ঃ৩০ পর্যন্ত বিরতি
শুক্রবার সকাল ১০টা থেকে দুপুর ১২ঃ৩০ পর্যন্ত এবং দুপুর ২টা থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত।
সোমবার: ২ঃ৩০ থেকে বিকেল ৬টা পর্যন্ত।

সাপ্তাহিক ছুটি: রবিবার পূর্ণ দিবস ও সোমবার অর্ধদিবস বন্ধ থাকে,অন্যান্য সরকারি ছুটির দিন বন্ধ থাকে।

প্রবেশ:
টিকেট মূল্য- দেশি পর্যটক ২০টাকা এবং সার্কভুক্ত বিদেশী পর্যটকের টিকেট মূল্য ১০০টাকা কিন্তু সার্কের বাইরের বিদেশী পর্যটকের টিকেট মূল্য ২০০টাকা। এক টিকিটে সারাদিন কাচারিবাড়ি পরিদর্শন করার সুযোগ আছে।

পার্কিং- বাস/ট্রাক ১০০টাকা
মাইক্রোবাস -৫০টাকা এবং মোটর সাইকেল ১০টাকা।


ঢাকা, মঙ্গলবার, আগস্ট ২১, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // উ জ এই লেখাটি ৮৫৪ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন