সর্বশেষ
মঙ্গলবার ১০ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২৫ সেপ্টেম্বর ২০১৮

টাঙ্গাইলে শিক্ষক শামছুল আলম রাসায়নিক মুক্ত ফল চাষে সফল

শনিবার, আগস্ট ২৫, ২০১৮

Tangail1.png
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :

টাঙ্গাইলের ঘাটাইল উপজেলার রসুলপুর ইউনিয়নে রাসায়নিক মুক্ত মিশ্র ফল চাষ করে স্বাবলম্বী হয়েছেন  শিক্ষক শামছুল আলম । তার ৭ একর জমির ওপর প্রায় দেশি-বিদেশি ৫০ জাতের ফলদ গাছ লাগিয়ে ব্যাপক সাড়া জাগিয়েছেন তিনি। পেশায় শিক্ষক হলেও কৃষি কাজের প্রতি রয়েছে তার প্রবল আগ্রহ ও অদম্য চেষ্টা। তারই ধারাবাহিকতায় দীর্ঘ পাঁচ বছর ধরে পাহাড়ি মাটিতে রাসায়নিক মুক্ত  জৈবিক প্রক্রিয়ায় লটকন, মালটা, আনারস ও আম, জাম্বুরা, বড়ই, জামরুল সহ বিভিন্ন জাতের ফল চাষ করে এই বছর ব্যাপক  সাফল্য পেয়েছেন শামছুল আলম।

উপজেলার এস ই পাইলট বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের কৃষি বিষয়ক সহকারী শিক্ষক হিসেবে কর্মরত আছেন শামছুল আলম। কৃষি শিক্ষক হওয়ার সুবাদে শ্রেণীকক্ষে শিক্ষার্থীদের পুঁথিগত শিক্ষার পাশাপাশি হাতেকলমে শিক্ষাদানের জন্য একটি ফলের বাগান করেন। এই বাগান থেকেই মনে প্রবল আগ্রহ দেখা দেয় বাণিজ্যিকভাবে কেমিক্যাল মুক্ত ফল চাষ করার। পরবর্তীতে উপজেলা কৃষি কর্মকর্তার পরামর্শে ৭ একর জায়গার উপরে প্রায় ৭ লাখ টাকা ব্যয়ে নিজ হাতে বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে গড়ে তোলেন দেশি-বিদেশি প্রায় ৫০ প্রজাতির ফলদ বৃক্ষের বিশাল বাগান। এই ফলদ বৃক্ষের মধ্যে  দেশি জাতের লটকনের পাশাপাশি রয়েছে বিভিন্ন প্রজাতির আম গাছ, সৌদি খেজুর, মালটা, কমলা লেবু, বাতাবি লেবু, আনারস, কাঠ লিচু, চেরিসহ অন্যান্য ফল।

  

চাষি শামছুল আলম বলেন ,আমার ৭ একর জমিতে কেমিক্যাল মুক্ত, জৈবিক প্রক্রিয়ায় এই ফল চাষ করি। আমি যে ভাবে লাভবান হয়েছি, আমার দেখাদেখি এলাকার অনেক লোক এই লটকন, মালটা সহ বিভিন্ন ফলের চাষ করবে।  প্রথমে সরকার আমাকে ৬০টি মালটার চারা দিয়েছিল। সরকার যদি আমাকে  আরো সহযোগিতা করে, আমি ব্যাপক আকারে এই ফল চাষ এখানে ছড়িয়ে দিতে পারবো।

রসুলপুর ইউপি সদস্য ফজলুল হক আকন্দ বলেন, বাজার থেকে যেসব ফল আমরা খাই তা কেমিক্যাল যুক্ত। কিন্তু আমাদের এলাকায় শামছুল আলম মাস্টার তার বাগানে কেমিক্যাল মুক্ত বিভিন্ন ধরনের ফলের চাষ করে। আমরা তার বাগান থেকে যে ফল পাই তা স্বাস্থ্যসম্মত।আমি তার সাফল্য কামনা করি।

শিক্ষক শামছুল আলম এই ব্যতিক্রধমী উদ্যোগ প্রসঙ্গে  কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর  টাঙ্গাইল এর উপ-পরিচালক আব্দুর রাজ্জাক বলেন,ঘাটাইল উপজেলার শামছুল আলম একজন আদর্শ কৃষক। তিনি নিরাপদ খাদ্য চাষি। তিনি ফল বাগানে যে ফল উৎপাদন করে সেটা কীটনাশক মুক্ত। এই ফল মানুষের শরীরের জন্য নিরাপদ। আমরা  তাকে কৃষি বিভাগের মাধ্যমে নিরাপদ খাদ্য উৎপাদনের প্রশিক্ষণ দিয়েছি। সে তাতে উদ্বুদ্ধ হয়ে  এই নিরাপদ খাদ্য উৎপাদন করছে।  এতে তিনি আর্থিক ভাবে লাভবান হচ্ছেন।

মূলত কেমিক্যাল মুক্ত লটকন, আম, আনারস ও মালটা বাণিজ্যিকভাবে চাষ করাই মিশ্র ফল চাষি শামছুল আলমের মুখ্য উদ্দেশ্য।বাজারে তার ফলের ব্যাপক চাহিদাও রয়েছে। তবে সরকারি ভাবে আরো সহযোগিতা পেলে দেশের বিভিন্ন স্থানে রাসায়নিক মুক্ত ফলের  চাষ বিস্তার ঘটাতে পারবেন বলে মনে করছেন সফল মিশ্র ফল চাষি শামছুল আলম।

মুক্তার হাসান
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি


ঢাকা, শনিবার, আগস্ট ২৫, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // উ জ এই লেখাটি ৯৭৩ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন