সর্বশেষ
মঙ্গলবার ২৯শে কার্তিক ১৪২৫ | ১৩ নভেম্বর ২০১৮

বড় বোনের লেখায় হৃতিকের অজানা গল্প

সোমবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮

11.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

প্রচণ্ড রকমের লাজুক, একান্তপ্রিয়, আর একগুঁয়ে; আজকের বলিউড সুপারস্টারের নামের পাশে এমনইসব বিশেষণ খুঁজে পাওয়া গেল তার বড় বোনের ব্লগে। যা নিজের টুইটার অ্যাকাউন্টে শেয়ার করে লাজুক, স্বল্পভাষী ছোট্ট হৃতিকের মতনই ছোট্ট একটা লেখা, ‘আমার মিষ্টি বোন আমাকে স্মৃতির সড়কে নিয়ে গেছে। তোমাকেও ভালোবাসি, দিদি!’

একা একা সময় কাটানোতেই তার আনন্দ, মেতে থাকতেন নিজস্ব এক জগৎ নিয়ে। বাছা বাছা কয়েকজন বন্ধু ছিল তার। চাপা স্বভাবের হলেও তার স্বচ্ছ চোখের দিকে তাকালেই টের পাওয়া যেত তার অনুভবের ব্যাপ্তি। খুব ছোট ছোট প্রাপ্তি নিয়েই অনেক বেশি সুখের মাঝে ডুবে থাকতেন ছোট্ট হৃতিক। শনিবার তার ব্যক্তিগত ব্লগে ছোট ভাইয়ের সঙ্গে কাটানো শৈশবের দিনগুলো স্মৃতিচারণা করেছেন হৃতিকের দিদি সুনাইনা।

হৃতিকের তোতলামির স্বভাব ছিল কৈশোর পর্যন্ত। সুনাইনা এভাবে স্মরণ করছিলেন, ‘আমার মনে আছে, হৃতিকের যখন ১৩ বছর বয়স, সে ঘণ্টার পর ঘণ্টা এক নাগাড়ে চিৎকার করে পড়ত। কি সকাল, কি রাত! সময়ে-অসময়ে, সারা দিন বাথরুমে, নিজের ঘরে সে নিজের কথা রেকর্ড করত, তারপর নিজেই বারবার শুনে দেখত, কোথায় ভুল হচ্ছে। বারবার অনুশীলন করত। ঠিক না হওয়া পর্যন্ত সে নড়ত না কিছুতেই।’

নিজের সঙ্গে নিজেরই যুদ্ধ। আর হৃতিক এসব বাঁধা অতিক্রম করার জন্য বেছে নিয়েছিলেন মনগড়া পথ। সুনাইনার লেখা থেকে স্পষ্টভাবে বেরিয়ে আসে সেসব কথা। আত্মনির্ভরশীল ছোট্ট হৃতিক নিজেকেই নিজে শেখাত।

অনেকটা যেন সেই সুনির্মল বসুর কবিতার মতো, ‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‌‘বিশ্বজোড়া পাঠশালা মোর…’। কখনো বিজ্ঞান, কখনো সাহিত্য, বিভিন্ন ধরনের বই ঘাঁটাঘাঁটি করা, কখনো অনুশীলন, ধীরে ধীরে এসবের সাহায্যেই নিজে নিজেই সমস্যাগুলো কাটিয়ে উঠতেন হৃতিক।

অদ্ভুত প্রাণশক্তিতে ভরপুর এক কিশোরের এ পরীক্ষা দিয়ে আসতে হয়েছে বারবার। একবার মেরুদণ্ডে খিঁচুনির মতো রোগ ধরা পড়ে। ডাক্তার বললেন, এটি জিনগত সমস্যা। শৈশব থেকে নৃত্যের প্রতি অদম্য ঝোঁক ছিল যার, তার নাকি নাচ বন্ধ করে দিতে হবে। ডাক্তারের কড়া বারণ, এখুনি সব বাদ; নয়তো যেকোনো সময় স্থায়ীভাবে বসতে হবে হুইলচেয়ারে। হৃতিক নিজের তাগিদে ছুটলেন ডাক্তারের কাছে। একসময় আত্মবিশ্বাসের জয় হল, আবার শুরু হল তার নিজের লক্ষ্যে ছোটা।

ছোটবেলা থেকেই হৃতিকের নাচের প্রতি আগ্রহ থাকলেও একা একাই চর্চা করতেন নৃত্যকৌশল। পরিবার বা কাছের বন্ধুদের সামনে কিছুতেই নাচতেন না। হৃতিক যখন অনার্স শেষ করেন, বাবা রােকশ রোশন তখন তাকে বাইরে পাঠানোর পরিকল্পনা করছেন, সেই সময় হৃতিক দৃঢ়চিত্তে জানিয়ে দেন প্রস্তুত তিনি। এবার দাঁড়াতে চান ক্যামেরার সামনে।

অভিনয়জগতে তখন হৃতিকের বিচরণ শুরু হয়েছে। এরই মাঝে একদিন ডাক্তারের প্রতিবেদনে ধরা পড়ে, হৃতিকের মস্তিষ্কে ছোট্ট পিণ্ডের মতো কী যেন আছে। পরিবারের তখন দিশেহারা অবস্থা। দিনের মাঝে তিন-চারজন ডাক্তারের কাছে ছুটছে তখন। সুনাইনার স্মৃতিময় লেখায়, ‘এই খবর শুনে আমি কিছুক্ষণের জন্য একদম নিথর হয়ে যাই। কেমন করে আমি আমার ছোট্ট ভাইটাকে এই অসহ্য যন্ত্রণা বহন করতে দেখব? সেই শক্তি আমাকে কে দেবে।’

তবে হৃতিক এমন রোগের খবর শুনেও বিচলিত হননি। সুনাইনার ভাষায়, ‘ডাক্তারের কাছে এই ভয়ংকর রোগের কথা শুনেও হৃতিক ওর স্বভাবসুলভ আচরণে শান্ত ও স্থির ছিল। যখনই যে ডাক্তারের কাছে আমরা ছুটে গেছি, হৃতিক একটা কথাই সবাইকে জিজ্ঞেস করছিল, তাকে সুস্থ হওয়ার জন্য কতখানি সময় ধরে চিকিৎসা চলবে? কারণ, তাকে খুব দ্রুত শুটিং স্পটে ফিরতে হবে।’

সুনাইনার কাছে তার ভাই, ‘হৃতিক’ নয়, আদরের ছোট ভাই ‘ডুজ্ঞু’। এই শিরোনামেই ব্লগটি লিখেছেন তিনি। ভাইয়ের প্রতি ভালোবাসার সবটুকু মায়া ছড়িয়ে দিয়ে লেখাটি শেষ হয়েছে এভাবে, ‘ডুজ্ঞু, তুই আমার জীবনের সবচেয়ে শ্রেষ্ঠতম উপহার, আমার সবচেয়ে কাছের বন্ধু তুই। আমার জীবনের অর্থে একটা সুবর্ণরেখার মতো তুই আমাকে ঘিরে আছিস। আমি তোকে অতীতে ভালোবেসেছি, বর্তমানেও বাসি, আর ভবিষ্যতেও তোকে একইভাবে ভালবাসব।’

সূত্র: মিডিয়া পোস্ট


ঢাকা, সোমবার, সেপ্টেম্বর ৩, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এইচ এই লেখাটি ৬১৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন