সর্বশেষ
বৃহঃস্পতিবার ৮ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ২২ নভেম্বর ২০১৮

সালমান শাহ'র সঙ্গে সামিরার শেষ স্মৃতি

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮

Salman_Shah_Top20180906081015.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

নব্বইয়ের দশকে বাংলাদেশের চলচ্চিত্রে ধূমকেতুর মতো সালমান শাহর আবির্ভাব। মাত্র চার বছরে ২৭টি সিনেমায় অভিনয় করে খ্যাতির শীর্ষে পৌঁছে গিয়েছিলেন তিনি। বৃহস্পতি তুঙ্গে থাকা অবস্থাতেই ১৯৯৬ সালের ৬ সেপ্টেম্বর রহস্যজনকভাবে মৃত্যুবরণ করেন। যে রহস্যের জট আজো খোলেনি। সালমান শাহর পরিবারের দাবি তাকে হত্যা করা হয়েছে। এক্ষেত্রে সন্দেহের আঙুল ওঠে স্ত্রী সামিরার দিকে। ভালোবেসে ১৯৯২ সালের ১২ আগস্ট সালমান শাহর সঙ্গে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছিলেন সামিরা। তিনি স্বামীকে নিয়ে স্মৃতিচারণ করতে গিয়ে অভিযোগের তীর ছুঁড়ে দেন এক সময়ের জনপ্রিয় চিত্রনায়িকা শাবনূরের দিকে। পাঠকদের জন্য সালমান শাহর সঙ্গে সামিরার শেষ স্মৃতিময় দিনগুলোর কথা তার জবানীতেই তুলে ধরা হলো।

সালমানের সঙ্গে শেষ ডাবিং
শাবনূরের সঙ্গে সালমান শাহ একাধিক সিনেমায় কাজ করেছে। দর্শকপ্রিয় জুটি ছিল তারা। তখন শাবনূরকে নিয়ে পত্রপত্রিকায় বিভিন্ন মুখরোচক খবর প্রকাশিত হয়। বিষয়গুলো আমি মেনে নিতে পারিনি। এ নিয়ে আমাদের মধ্যে প্রায়ই ঝগড়া হতো। এক পর্যায়ে ইমন (সালমান শাহ) আমাকে কথা দিয়েছিল শাবনূরের সঙ্গে আর কাজ করবে না। চট্টগ্রাম থেকে ঢাকায় আসার দুদিন পর অর্থাৎ ৫ সেপ্টেম্বর বিকালে ইমনের সঙ্গে এফডিসিতে ডাবিং দেখতে যাই। ইমন তখন রেজা হাসমতের ‘প্রেম পিয়াসী’ সিনেমার ডাবিং করছিল। এই সিনেমায় ইমনের বিপরীতে ছিল শাবনূর। ডাবিংয়ের মধ্যেই শাবনূর বারবার ইমনের সঙ্গে কানে কানে কথা বলার চেষ্টা করছিল। সে ইমনকে চুমু খাচ্ছিল, জড়িয়ে ধরছিল। এগুলো দেখে আমার ভালো লাগেনি। বিষয়টি আমি আব্বাকে (সালমান শাহর বাবা) প্রথমে জানাই। আব্বার সঙ্গে আমি খুব ফ্রি ছিলাম। আমি তাকে বললাম, আমি আর এক মুহূর্ত এখানে থাকব না। ইমন যখন দেখল আমি আর আব্বা বেরিয়ে এসে গাড়িতে উঠলাম তখন সে-ও দ্রুত ডাবিং প্যাকআপ করে গাড়িতে এসে বসল। ইমন বুঝতে পেরেছিল আমি ভীষণ রাগ করেছি।

শেষ দুজন একসঙ্গে খাবার খাওয়া
ইমন খুব আহ্লাদি ছিল। আমি না খাইয়ে দিলে সে প্রায়ই খেত না। সেদিনও সে এমন জেদ ধরেছিল। বাধ্য হয়ে আমি খাবারের প্লেটটা হাতে তুলে নিলাম। তারপর একবার ওকে খাওয়াতে লাগলাম, নিজেও খেতে শুরু করলাম। এভাবেই সেদিন আমরা রাতের খাবার শেষ করি। এর মধ্যে ইমনের মোবাইল ফোন বেজে উঠল। ফোনটা কেটে দিল ইমন। আবার সেকেন্ড টাইম ফোন এলো। তখন লাফ দিয়ে উঠে সে ফোন নিয়ে ওয়াশরুমে চলে গেল। আমি তখন ফোনের ওপাশ থেকে একটা মেয়ের কণ্ঠ শুনেছিলাম। মেয়েটা বলছিল, এভাবে কেন আমাকে না বলে চলে গেলে?  ইমন বিষয়টি নিয়ে উচ্চ স্বরে কথা বলছিল। আমি রুমে বসেও তখন শুনতে পাচ্ছিলাম। বিষয়টি আমার খুব খারাপ লেগেছিল। দু’দিন হলো বাবার বাসা থেকে এসেছি। এর মধ্যেই আবার এভাবে ফোন! ডাবিংয়ে গেলাম সেখানেও নিজের চোখে দেখলাম, শাবনূর এক ফোটাও চেঞ্জ হয়নি। বিষয়টি মেনে নিতে না পেরে আমি একদম এগারো তলা থেকে সোজা নিচে চলে এলাম। সিদ্ধান্ত নিলাম, আর না। বনানী ফুফুর বাসায় চলে যাব। এর মধ্যে ইমন বাথরুম থেকে বের হয়ে আমাকে রুমে না দেখে নিচে চলে এসেছে। আমাকে ও অনেক বুঝিয়ে উপরে নিয়ে এলো। তারপর ওই রাতেই ইমন মোবাইল ফোনটা ভেঙে ফেলল।
 
একসঙ্গে দুজনের গান শোনা
আমার কান্না ইমন সহ্য করতে পারত না। রুমে ফিরে আসার পর আমি কাঁদছিলাম। ইমনও কাঁদছিল। ইমন আমাকে বলল, তুমি কেন কাঁদছ? কাল সব ঠিক করে দেব। রাগ করো না। আমাকে মাফ করে দাও। আমি এত ভুল করেছি যে, তোমার চোখের দিকে তাকাতে পারছি না। আমার ভেতরে তখন অভিমানের পাহাড় জমেছিল। ও বারবার আমার কাছে আসতে চাচ্ছিল।  আমি এড়িয়ে গেছি।  রাত তখন প্রায় আড়াইটা। ইমন কিছুতেই আমার অভিমান ভাঙাতে না পেরে টেপ রেকর্ডারে আমার পছন্দের গান বাজাতে লাগল।  এক সময় আমার চোখ লেগে যায়। আমি ঘুমিয়ে পড়ি।
 
ইমনকে শেষ দেখা
ইমন সকাল ১১টার দিকে ঘুম থেকে ওঠে। আমি বুঝতে পেরেছিলাম ও বাথরুমে গেল। আমার সঙ্গে চোখাচোখি হলো। এরপর আবার আমি ঘুমিয়ে পড়ি।  তারপর কখন যে ইমন রুম থেকে বেরিয়ে যায় বুঝতে পারিনি। ওই যে ক্ষণিকের জন্য ওর সঙ্গে আমার চোখাচোখি হলো- ওটাই ছিল ওকে আমার শেষ দেখা। হঠাৎ ডলির ডাকাডাকিতে ঘুম ভেঙে গেল।  আসলে তখন আমার তন্দ্রার মতো এসেছিল। ডলি বলল, ভাইয়া তো অনেকক্ষণ হলো রুমে ঢুকেছে। বের হচ্ছে না। অনেক ডেকেছি কোনো সাড়া দিচ্ছে না। শুনেই আমি দ্রুত উঠে গিয়ে দরজায় নক করলাম, জোরে ধাক্কা দিলাম। কোনো সাড়া পাচ্ছিলাম না। পরে আবুলকে দিয়ে আরেকটা চাবি এনে দরজা খুললাম। দরজা খুলেই আমি যে দৃশ্যের মুখোমুখি হলাম তা আমার কল্পনাতেও ছিল না।

সালমান শাহর শেষ চিঠি
ইমনের প্যান্ট পরিবর্তন করতে গিয়ে আবুল ইমনের প্যান্টের পকেটে একটি চিঠি পায়। চিঠিতে লেখা ছিল: ‘আমি চৌধুরী মোহাম্মদ শাহরিয়ার, পিতা- কমর উদ্দিন আহমেদ চৌধুরী, ১৪৬/৫, গ্রীনরোড, ঢাকা-১২১৫ ওরফে সালমান শাহ এই মর্মে অঙ্গীকার করছি যে, আজ অথবা আজকের পরে যেকোনো দিন আমার মৃত্যু হলে তার জন্য কেউ দায়ী থাকবে না। স্বেচ্ছায়, সজ্ঞানে, সুস্থ মস্তিষ্কে আমি আত্মহত্যা করছি।’ -রাইজিংবিডি


ঢাকা, বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ৫১৬৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন