সর্বশেষ
শুক্রবার ৬ই আশ্বিন ১৪২৫ | ২১ সেপ্টেম্বর ২০১৮

সমকামিতাকে বৈধতা দিল ভারতের সুপ্রিম কোর্ট

বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮

_103312431_gettyimages-982828490.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

সমকামিতা ভারতে আর অপরাধ নয় বলে আজ বৃহস্পতিবার ঐতিহাসিক রায় দিয়েছে দেশটির সর্বোচ্চ আদালত।

সমকামিতাকে শাস্তিযোগ্য অপরাধ হিসাবে বর্ণনা করা ভারতীয় দণ্ডবিধির ৩৭৭ ধারা বাতিল করে দিয়েছে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট। প্রধান বিচারপতি দীপক মিশ্রের নেতৃত্বে পাঁচ বিচারপতির বেঞ্চ এই আদেশ দিয়েছেন।

ব্রিটিশ জমানার এই বিতর্কিত আইনটির সুবাদে 'অপ্রাকৃতিক যৌনতা'র অপরাধে ভারতে কোনও ব্যক্তির ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারতো। ধারাটি ২০১৩ সালে বহাল করেছিলেন সুপ্রিম কোর্টের একটি বেঞ্চ। নিজেদের সেই আদেশ আজ বাতিল করে দিল সুপ্রিম কোর্ট।

ওই আদেশ চ্যালেঞ্জ করে ভারতে এলজিবিটি শ্রেণীভুক্ত পাঁচজন ব্যক্তি সুপ্রিম কোর্টে পেশ করা তাদের আবেদনে বলেছিলেন, ভারতীয় দন্ডবিধির সেকশন ৩৭৭ এমন একটি আইন যে কারণে সব সময় তাদের ভয়ে সিঁটিয়ে থাকতে হয় - কারণ তাদের যৌনতার দোহাই দিয়ে পুলিশ যখন খুশি তাদের গ্রেফতার করতে পারে।

গত জুলাই মাসে তাদের আবেদনের শুনানি শুরু করেন সুপ্রিম কোর্ট, যা দেশটিতে স্বাধীনতা এবং গোপনীয়তার বিতর্ক তৈরি করে।

শুনানির একপর্যায়ে একজন বিচারপতি মন্তব্য করেন, ''যৌনতার কারণে কাউকে ভীতির মধ্যে জীবনযাপন করা উচিত নয়।'' যা ভারতের সমকামীদের মধ্যে আশাবাদের সৃষ্টি করে।

ভারতীয় দণ্ডবিধির (আইপিসি) সেকশন ৩৭৭ নামের ওই আইনটি বহাল রাখার বিরুদ্ধে করা আপিলের রায় দিলো সুপ্রিম কোর্ট।

সমকামিতাকে কোন অপরাধ হিসাবে গণ্য না করার জন্য ভারতে অনেকেই দাবি তুলেছেন। যদিও এখনো ভারতে সমকামিতা নিয়ে সংকোচ রয়েছে এবং অনেকেই এটিকে বেআইনি বলে গণ্য করে।

'সেকশন ৩৭৭' বহাল থাকা না থাকার প্রশ্নে ২০১৬ সালে পুনরায় শুনানি গ্রহণ করতে সম্মত হন আদালত। তিনজন জ্যেষ্ঠ বিচারক বলেন, এটা সাংবিধানিক গুরুত্বপূর্ণ বিষয় বলে তারা মনে করেন।

সেকশন ৩৭৭কী? এটি ১৫৭ বছর পুরনো ঔপনিবেশিক আমলের একটি আইন, যেখানে কিছু যৌন অপরাধকে অস্বাভাবিক অপরাধ বলে বর্ণনা করা হয়েছে, যার জন্য ১০ বছর পর্যন্ত কারাদণ্ড হতে পারে।

যেখানে বলা হয়েছে, ''স্বাভাবিক নিয়মের বাইরে মানুষ, নারী বা কোন পশুর সঙ্গে যৌন মিলন'' করা হলে তা শাস্তিযোগ্য হবে।

অ্যাকটিভিস্টরা বরাবরই অভিযোগ করছেন, দেশের সমকামী এবং তৃতীয় লিঙ্গ সম্প্রদায়কে হয়রানি করতে আইনটি ব্যবহার করা হচ্ছে।

সমঅধিকার কর্মীরা বলছেন, এ ধরণের একটি আইন থাকা মানেই প্রমাণ করে যে, যৌনতার ভিত্তিতে মানুষের মধ্যে বৈষম্য করা হচ্ছে। সূত্র: বিবিসি


ঢাকা, বৃহস্পতিবার, সেপ্টেম্বর ৬, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ২০৬৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন