সর্বশেষ
রবিবার ২রা পৌষ ১৪২৫ | ১৬ ডিসেম্বর ২০১৮

উচ্চ প্রবৃদ্ধির জন্য বাংলাদেশকে পরিবেশের দূষণ রোধ করতে হবে

সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৮

12.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

দূষণ ও পরিবেশগত ঝুঁকির দিক থেকে বাংলাদেশ বিশ্বের সবচেয়ে বেশি ক্ষতিগ্রস্ত দেশগুলোর অন্যতম। উচ্চ মধ্যম আয়ের দেশে উন্নীত হওয়ার জন্য বাংলাদেশকে এখনই বিশেষ করে শহর এলাকায় পরিবেশগত অবনতি ও দূষণ রোধে কাজ করতে হবে। আন্তর্জাতিক উন্নয়ন সহযোগী সংস্থা বিশ্বব্যাংকের এক প্রতিবেদনে এ তথ্য উঠে এসেছে।

প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, বাংলাদেশে প্রতিবছর পরিবেশ দূষণের কারণে কেবল শহরগুলোতে সাড়ে ৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলারের ক্ষতি হচ্ছে যা মোট দেশজ উৎপাদনের (জিডিপি) ৩.৪ শতাংশ। শহরগুলোতে দূষণ মারাত্মক পর্যায়ে পৌঁছেছে, শহরে পরিবেশ দূষণজনিত রোগে বছরে ৮০ হাজার মানুষ মারা যায়।বাংলাদেশে বছরে ২৮ শতাংশ মৃত্যু পরিবেশ দূষণজনিত কারণে হয়ে থাকে, যেখানে পরিবেশ দূষণে বৈশ্বিক মৃত্যুর হার ১৬ শতাংশ।

রোববার ঢাকায় একটি পাঁচতারকা হোটেলে ‘বাংলাদেশের শহরাঞ্চলে পরিচ্ছন্ন এবং পরিবেশগত অভিযোজন বৃদ্ধিকল্পে সুযোগ সম্প্রসারণ: দেশভিত্তিক পরিবেশগত পর্যালোচনা, ২০১৮’ বিষয়ক প্রতিবেদন প্রকাশ করা হয়।

এ উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানে পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী আনিসুল ইসলাম মাহমুদ, পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক সচিব আব্দুল্লাহ আল মহসীন চৌধুরী, পরিবেশ অধিদফতরের মহাপরিচালক ড. সুলতান আহমেদ, বিশ্বব্যাংকের ভারপ্রাপ্ত কান্ট্রি ডিরেক্টর রাজশ্রী পারালকার এবং পরিবেশ ও প্রাকৃতিক সম্পদ বিষয়ক প্র্যাকটিস ম্যানেজার কেসেনিয়া লভভস্কি বক্তব্য রাখেন।

আনিসুল ইসলাম মাহমুদ বলেন, পরিবেশ দূষণজনিত রোধে বাংলাদেশ বিগত এক দশকে নীতি ও আইনগত কাঠামোর অনেক উন্নতি করেছে এবং পরিবেশ সংরক্ষণে দৃঢ় পদক্ষেপ নিয়েছে। আমরা ইটের ভাটা এবং অন্যান্য দূষণকারী শিল্পগুলোতে পরিবেশবান্ধব পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তি চালু করেছি এবং প্রধান নগরগুলোতে নিরবিচ্ছন্নভাবে বায়ুর গুণমান পর্যবেক্ষণ কেন্দ্র স্থাপন করেছি।

প্রতিবেদনে তিনটি ক্ষেত্রে গুরুত্ব আরোপ করা হয়েছে: পরিবেশগত অবনতির মূল্য, পরিচ্ছন্ন ও টেকসই শহর এবং পরিচ্ছন্ন শিল্প প্রসারের জন্য প্রয়োজনীয় প্রতিষ্ঠানসমূহ।

রিপোর্টে বলা হয়েছে- এ লক্ষ্যে উল্লেখযোগ্য নীতি ও প্রাতিষ্ঠানিক সংস্কার প্রয়োজন। এছাড়াও দেশে সবুজ অর্থায়ন, পরিচ্ছন্ন প্রযুক্তির প্রসার, বিপজ্জনক বর্জ্য ব্যবস্থাপনা পদ্ধতি উন্নতকরণ এবং পরিবেশগত সুরক্ষার জন্য সচেতনতা বৃদ্ধি করা প্রয়োজন।

অপরিকল্পিত নগরায়ণ ও শিল্পায়ন বড় ও ছোট উভয় ধরণের নগরের ওপর প্রভাব ফেলছে। উদাহরণস্বরূপ, বিগত ৪০ বছরে ঢাকা প্রায় ৭৫ শতাংশ জলাভূমি হারিয়েছে। জলাভূমি ভরাট এবং বালি ভরাট করে বিভিন্ন এলাকার বহুতল বাড়ি বানানোর কারণে নগরের বিভিন্ন অংশ বন্যার সময় প্লাবিত হওয়ার ঝুঁকি রয়েছে। অপরিকল্পিত নগরায়নের কারণে ছোট ছোট নগরগুলো পরিবেশ দূষণের শিকার হচ্ছে। যেমন, ১৯৯০ সাল থেকে পাবনা তার অর্ধেক জলাভূমি হারিয়েছে এবং এর ইছামতী নদী মৃতপ্রায় অবস্থায় রয়েছে।

অবৈধ দখল রোধ এবং জলাভূমি ও খালগুলোতে বিনিয়োগ ও টেকসই ব্যবস্থাপনার জন্য ঢাকা ও অন্যান্য নগরসমূহকে এখনই ব্যবস্থা নেওয়ার পরামর্শ দেওয়া হয়েছে।


ঢাকা, সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এইচ এই লেখাটি ৩২৩ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন