সর্বশেষ
শনিবার ১লা পৌষ ১৪২৫ | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

আগুনে পোড়া ব্রাজিলের জাদুঘর যেভাবে পুনর্গঠন হচ্ছে

সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৮

16.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

আগুন লাগার পর ব্রাজিলের প্রেসিডেন্ট এক টুইট বার্তায় লিখেছিলেন, এটি ব্রাজিলের সব মানুষের জন্য দুঃখের দিন। দেশটির ইতিহাস ঐতিহ্যের সাথে সম্পর্কিত বহু জিনিস সংরক্ষিত ছিলো এই জাদুঘরে। এছাড়া অন্য দেশের বিশেষ করে দক্ষিণ আমেরিকার প্রত্নতাত্ত্বিক ও মিসরীয় নানা নিদর্শন ছিলো সেখানে।

১৮১৮ সালে রাজকীয় জাদুঘর হিসেবে স্থাপিত জাদুঘরে সব মিলে অন্তত দুই কোটি নিদর্শন সংরক্ষিত ছিল। আগুন নিভে যাবার পর এটি কিভাবে পুনর্গঠন করা হবে, তা নিয়ে অথৈ সাগরে পড়ে কর্তৃপক্ষ।

কারণ ভবনের ভেতরের ফ্লোর ছিল কাঠের, সঙ্গে ছিল বহু ঐতিহাসিক দলিলপত্র, যা ছিল মূলত কাগজের। ফলে কিছু জিনিস একেবারে পুড়ে ছাই হয়েছে, কিছু আগুন আর বাতাসে উড়ে গেছে বহুদূর। সেসব আর কখনো উদ্ধার করা যাবে না এই ভাবনাই ছিল বাস্তব। কিন্তু বাস্তব সব সময়ই কল্পনার চেয়ে অবিশ্বাস্য।

রিও ডে জেনিরোর কয়েক কিলোমিটার দূরে থাকেন শিলা ও ডগলাস আলভারেঞ্জা। এক সকালে তাদের বাড়ির উঠোনে তারা আবিষ্কার করলেন কিছু পোড়া কাগজ।

তিনি বলেন, 'প্রথমে যেটা পেলাম, সেটা একটা হাজিরা বহি বা অ্যাটেনডান্স শিটের পাতা। ওটা ছিল রিও ডে জেনিরো ফেডেরাল ইউনিভার্সিটির প্রত্নতাত্ত্বিক বিভাগ যা জাদুঘরের সঙ্গে সংশ্লিষ্ট, তাদের নৃবিজ্ঞান বিভাগের হাজিরা বহির পাতা। ঐ পাতাটি ছিল ২০০৯ সালের। এর সঙ্গে ছিল আরেকটি পাতা, আমার বিশ্বাস যেটা ছিল কীট পতঙ্গের বিবর্তন সংক্রান্ত কিছু।'

পোড়া কাগজগুলো পেয়ে শিলা ও ডগলাস একেবারে হতবাক হয়ে গিয়েছিলেন, কারণ ওগুলো কোথা থেকে এসেছে, তা নিয়ে তারা শুরুতে কিছুতেই একমত হতে পারছিলেন না। তিনি বলেন, 'ওগুলোর মধ্যে আরো অনেক রকম কাগজ ছিল, একেবারে পোড়া। হাতে ধরার সঙ্গে সঙ্গে ভেঙ্গে গুড়াগুড়া হয়ে যাচ্ছিল। সেসবের মধ্যে চিঠিপত্রও ছিল, ওগুলোর কাগজ খুব পুরনো ছিল। অবস্থা দেখে আমি টুকরোগুলো কুড়িয়ে প্রথমে একটা তোয়ালের ওপর বসাই। এরপর সেগুলোর ছবি তুলি, আর সবাইকে দেখাই।'

এরপর শিলা আর ডগলাস সেগুলো খুব যত্ন করে সংরক্ষণ করেন, যতক্ষণ না কর্তৃপক্ষ এ ধরণের জিনিসপত্র কোথায় জমা দিতে হবে, সে বিষয়ে কোন ঘোষণা দেয়। পুড়ে যাবার পর বিভিন্ন জায়গায় ছড়িয়ে ছিটিয়ে যাওয়া ঐতিহাসিক নিদর্শন সংগ্রহের জন্য কর্তৃপক্ষ কয়েকটি অস্থায়ী কেন্দ্র তৈরি করেছেন।

তাদের বেশির ভাগেরই অবস্থান রিও ডে জেনিরো শহরের আশেপাশে। সেখানে জাদুঘরের কর্মকর্তারা বাসিন্দাদের নিয়ে আসা ঐতিহাসিক দলিলপত্র পরীক্ষানিরীক্ষা করে জমা রাখছেন। জাদুঘরের ইতিহাসবিদ রেজিনা দান্তাস ছিলেন যে কেন্দ্রে ডগলাস তাদের বাড়িতে পাওয়া জিনিস জমা দিয়েছেন।

'মানুষজন বিভিন্ন দলিলের টুকরো টুকরো অংশ, অথবা জাদুঘরে সংরক্ষিত বিভিন্ন মৃত জীবজন্তুর পোড়া অংশ ফিরিয়ে দিতে আসছে। এটা খুবই আশাপ্রদ যে যে যা পেয়েছে, যত্ন করে সবাই সেটা ফিরিয়ে দিতে আসছে, সবাই এর গুরুত্ব বুঝতে পারছে।'

রেজিনা বলছিলেন সকাল বেলাতেই এক ফার্মহাউজ থেকে এক ব্যক্তি এসে পুড়ে যাওয়া স্টাফড পোকামাকড়ের দুটি সেট দিয়ে গেছেন। বেরিয়ে আসার সময় ডগলাসের সঙ্গে ঐ ব্যক্তির পরিচয় ও কথাবার্তা হয়। তারা ঠিক করেন, এখানেই শেষ নয়, তারা এখন অন্যদেরও জাদুঘরের জিনিসপত্র পেলে কিভাবে ও কোথায় জমা দিতে হবে, সে নিয়ে প্রচারণা চালাবেন।

'আমার তো মনে হয়, যারাই জাদুঘরের ধ্বংসাবশেষ জমা দিতে এসেছেন, তারা সবাই জাদুঘর পুনর্গঠনের অংশ হয়ে যাচ্ছেন। আর যেকোন নাগরিকের জন্য সেটা খুবই সম্মানের বিষয়।'

জাদুঘর পুনর্গঠনের কাজ কতদিনে শেষ হবে, আর কতদিনে সেটি আবার দর্শনার্থীদের জন্য খুলে দেয়া হবে, সেটা এখুনি বলা মুশকিল।

তবে, দুশো বছর আগে পর্তুগীজ রাজ পরিবারের বাস্তুভিটায় যে জাদুঘর গড়ে তোলা হয়েছিল, তার নিজের ঐতিহাসিক মূল্যের সঙ্গে এই অগ্নিকান্ডের ঘটনাও এখন ইতিহাসের অংশ হয়ে উঠেছে।

সূত্র: বিবিসি


ঢাকা, সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // জে এইচ এই লেখাটি ২৬৬ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন