সর্বশেষ
শনিবার ৫ই কার্তিক ১৪২৫ | ২০ অক্টোবর ২০১৮

টাঙ্গাইলের সখীপুরে লেবু ও পেঁপে চাষে ভাগ্য বদল বাদলের

সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৮

Tangail.jpg
টাঙ্গাইল প্রতিনিধি :

পেঁপে ও লেবু চাষে ভাগ্য বদলে ফেলেছেন আশিক ইকবাল বাদল (৩৫)। সে সখীপুর পৌরসভার ৯নং ওয়ার্ডের শামছুল হকের ছেলে। সখীপুর উপজেলার কালিদাশ এলাকার তার খামার।  লেবু ও পেঁপে চাষ করে অল্প সময়ে অর্থনৈতিকভাবে স্বাবলম্বী হন তিনি। এলাকার মানুষের কাছে অনুকরণীয় চাষিতে পরিণত হয়েছে বাদল। পাহাড়ি এলাকায় লেবু চাষের মাধ্যমে কৃষি জীবন শুরু করলেও ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে পেঁপে চাষে।

জানা যায়, উচ্চ মাধ্যমিক পরীক্ষায় অকৃতকার্য আশিক ইকবাল বাদলকে সইতে হয়েছে নানা গ্লানি। লজ্জা, গ্লানি ও পরিবারের আর্থিক সচ্ছলতার জন্য দীর্ঘদিন প্রবাস জীবনও কাটায় সে।  জীবিকা নির্বাহে দেশেই কিছু একটা করবেন,তবে কি করবেন তা নিয়েও নানা প্রশ্নের সম্মুখীন হয়েছেন বারবার। অবশেষে স্থানীয় সফল কৃষক মোসলেম উদ্দিনের সহযোগিতা ও পরামর্শে লেবু চাষ শুরু করেন।  প্রতি একর বছরে ২৫ হাজার টাকা দরে লিজ নেন নিজ এলাকায় ৪ একর জমি।  প্রথম বছরে তেমন লাভবান না হলেও পরের বছর খরচ বাদে ২ লাখ টাকা লাভ হয় তার। এ লাভের ফলেই কৃষি বাণিজ্যের প্রতি তার  আগ্রহ জন্মায়।

লাভের টাকা দিয়ে একই মালিকের আরো ৫ একর জমি লিজ নিয়ে শুরু করেন পেঁপে চাষ। এরই ধারাবাহিকতায় ২০১৬ সালে পরীক্ষামূলক ১৫০০ পেঁপের চারা রোপণের মাধ্যমে বাণিজ্যিকভাবে পেঁপে চাষ শুরু করেন। লাভজনক ফলন হওয়ায় এ বছরের ফেব্রুয়ারিতে ৫ একর জমিতে ৫ হাজার শাহী জাতের পেঁপে চারা লাগিয়েছেন। ওই বাগানে পেঁপের ফলন হয়েছে ৫০ টন। যার বাজার মূল্য প্রায় ১৯ লাখ টাকা। অল্প সময়ে পেঁপে চাষে আশিক ইকবাল বাদল অধিক লাভবান হওয়ায় অন্যান্য কৃষকরাও এখন উদ্বুদ্ধ হচ্ছেন সবজি জাতীয় এ ফলের বাণিজ্যিক চাষে।

এ নিয়ে কৃষক আশিক ইকবাল বাদল জানান, পেঁপে চাষই তার ভাগ্য বদলে দিয়েছে। অল্প সময়ে ও ভালো ফলনের সম্ভাবনাময়  পেঁপে ফলের চাহিদা বাজারে বেশী। চলতি বছরেও জমি লিজ, চারা, সার, কীটনাশক, শ্রমিকসহ নানা খরচ বাবদ পেঁপে চাষে এ পর্যন্ত আমার ব্যয় হয়েছে ১০ লাখ টাকা।  পেঁপের ফলনও ভালো। জানা যায়, তার বাগান থেকে আবহাওয়া ভাল থাকলে এ মাসেই ৫০ টন পেঁপে বিক্রি করা যাবে।

খামারচালা সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক আশরাফ সিদ্দিকী জানান, আশিক ইকবাল বাদল এখন স্থানীয় বেকার যুবকদের ভাগ্য পরিবর্তনের দৃষ্টান্ত। বাদলকে দেখে এলাকার অসংখ্য বেকার যুবকের পেঁপে চাষে আগ্রহ বেড়েছে।

এ প্রসঙ্গে সখীপুর উপজেলা কৃষি কর্মকর্তা ভূইয়া ফাইজুল ইসলাম জানান, পুষ্টিগুণে সমৃদ্ধ পেঁপের চাহিদা ব্যাপক। পেঁপে চাষে একদিকে যেমন পুষ্টির চাহিদা মেটায় অন্যদিকে অর্থনৈতিকভাবেও স্বাবলম্বী হওয়া সম্ভব। ৬ মাসের মধ্যে এ জাতের পেঁপে বাজার জাত করা যায়। এছাড়াও একটি গাছে চার থেকে পাঁচ মণ পেঁপে আসে।

মুক্তার হাসান,টাঙ্গাইল প্রতিনিধি।


ঢাকা, সোমবার, সেপ্টেম্বর ১৭, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // উ জ এই লেখাটি ৫৫৪ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন