সর্বশেষ
মঙ্গলবার ১২ই চৈত্র ১৪২৫ | ২৬ মার্চ ২০১৯

বাংলাদেশের নাটকীয় জয়

সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮

Bangladesh-win-5ba801b7cc48f.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

৪৯তম ওভারে মোহাম্মদ নবী ছয় মারার পর যখন সাকিব আল হাসানের শিকার হলেন, তখন হঠাৎ করে ম্যাচের মোড় পাল্টে গেল। শেষ ওভারে আফগানিস্তানের প্রয়োজন ছিল ৮ রান। বল করতে গেলেন মোস্তাফিজুর রহমান। দারুণ সব শর্ট বল, অফ কাটার ও সুইংয়ে একটি উইকেট নিলেন এই বাঁহাতি পেসার। তাতে শেষ ওভারের নাটকীয়তায় আফগানিস্তানের বিপক্ষে সুপার ফোরে জয়ের উল্লাস করল বাংলাদেশ।

৩ রানে জিতেছে বাংলাদেশ। মাহমুদউল্লাহ ও ইমরুল কায়েসের চমৎকার হাফসেঞ্চুরিতে ৭ উইকেটে ২৪৯ রান করার পর আফগানিস্তানকে তারা আটকে দিয়েছে ৭ উইকেটে ২৪৬ রানে। এই জয়ে বাংলাদেশ ফাইনালের আশা বাঁচিয়ে রাখল।

শেষ দুই ওভারে জমে উঠেছিল নাটক। ১২ বলে আফগানদের প্রয়োজন ছিল ১৯ রান। সাকিব বল হাতে নিলেন, তাতে শুরুটা ভালো হলো না। ৪৯তম ওভারে দ্বিতীয় বলে ছয় মেরে কাজটা সহজ করে দিলেন নবী। কিন্তু পরের বলে ফুল টসে আবারও বাউন্ডারি মারতে গিয়ে লং অফে সরাসরি নাজমুল হোসেন শান্তর ক্যাচ হন তিনি। তারপরও ওই ওভারে আসে ১১ রান। রশিদ খান ব্যাট হাতে নামেন। শেষ ওভারে দরকার ছিল মাত্র ৮ রান। রশিদ প্রথম বলে দৌড়ে দুটি রান নিয়ে স্ট্রাইকে এলেন। কিন্তু মোস্তাফিজের শর্ট বল এবার বুঝতে পারেননি। দ্বিতীয় বলে বাঁহাতি পেসারকে ফিরতি ক্যাচ দিয়ে সাজঘরে ফেরেন রশিদ।

শেষ চার বল ক্রিজে ছিলেন সামিউল্লাহ সেনওয়ারি ও গুলবাদিন নাইব। তৃতীয় বলটি সেনওয়ারি লেগ বাইয়ে একটি রান নিলেন। পরের দুটি বলে গুলবাদিনকে লেগ বাইয়ে একটি রান দেন মোস্তাফিজ। শেষ বলে প্রয়োজন ছিল ৪ রান। বাংলাদেশি পেসারের অফসাইডের বলটি জোরে মারতে চেয়েছিলেন সেনওয়ারি, কিন্তু তার হাত ফসকে পড়ে যায় ব্যাট। আর বাতাসে ভেসে বল চলে যায় মুশফিকুর রহিমের গ্লাভসে। ততক্ষণে জয়ের উল্লাসে মাতে বাংলাদেশ।

তার আগে ২৬ রানে ২ উইকেট তুলে নিয়ে বাংলাদেশ দারুণ শুরুর ইঙ্গিত দিয়েছিল। যদিও মোহাম্মদ শাহজাদ অস্বস্তিতে ফেলে দিয়েছিল তাদের। হাসমতউল্লাহ শহীদীর সঙ্গে পঞ্চাশ ছাড়ানো জুটি গড়ার পথে ১৩তম ফিফটি হাঁকান তিনি। অবশেষে মাহমুদউল্লাহ বল হাতে নিয়েই এই ওপেনারকে ফেরান বোল্ড করে। ৮১ বলে ৮ চারে ৫৩ রান করেন শাহজাদ।

হাসমতউল্লাহ দাঁড়িয়ে যান অধিনায়ক আসগর স্ট্যানিকজাইকে নিয়ে। তাদের জুটিতে বাংলাদেশ যেন হারই দেখতে পাচ্ছিল। তবে মাশরাফি ব্রেকথ্রু আনেন ৪০তম ওভারে। স্ট্যানিকজাইকে ৩৯ রানে মাহমুদউল্লাহর ক্যাচ বানান বাংলাদেশি অধিনায়ক। ভাঙে ৭৮ রানের জুটি। তবে হাসমতউল্লাহ একপ্রান্ত আগলে খেলতে থাকেন এবং হাফসেঞ্চুরি পান। মাশরাফি তার এক ওভার পর এই বাধা উপড়ে ফেলে স্বস্তি ফেরান। ৯৯ বলে ৭১ রানে হাসমতউল্লাহকে বোল্ড করেন তিনি।

তারপরও অস্বস্তি কাটেনি বাংলাদেশের। সেনওয়ারিকে নিয়ে নবী যতক্ষণ ক্রিজে ছিলেন, ততক্ষণ দুশ্চিন্তার বলিরেখা ছিল বোলারদের কপালে। তারপর হঠাৎ করে বদলে গেল ম্যাচের চিত্র। নিশ্চয়তা-অনিশ্চয়তার দোলাচলে থাকা বাংলাদেশই জিতে নিলো শ্বাসরুদ্ধকর এক লড়াই। দুটি করে উইকেট নিয়ে বাংলাদেশের পক্ষে সেরা বোলার মোস্তাফিজ ও মাশরাফি।

তার আগে বাংলাদেশ আগে ব্যাট করতে নেমে বিপদে পড়ে। মাহমুদউল্লাহ দলকে টেনে তোলেন, সঙ্গ দেন হঠাৎ করে ডাক পাওয়া ইমরুল কায়েস। দুজনের ফিফটি ও ১২৮ রানের ষষ্ঠ জুটিতে লড়াই করার মতো স্কোর গড়ে বাংলাদেশ। ৭৪ রানের ইনিংস খেলে ম্যাচসেরা হয়েছেন মাহমুদউল্লাহ।

পাকিস্তানের বিপক্ষে আগামী বুধবার সুপার ফোরের শেষ ম্যাচে অলিখিত সেমিফাইনাল খেলবেন মাশরাফিরা। আর আফগানিস্তানের বিপক্ষে নিয়ম রক্ষার জন্য লড়বে ফাইনালে ওঠা ভারত।


ঢাকা, সোমবার, সেপ্টেম্বর ২৪, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ১৭৫১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন