সর্বশেষ
শনিবার ১লা পৌষ ১৪২৫ | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৮

আত্মহত্যার চেষ্টা করলেই কারাদণ্ড বা জরিমানা

বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮

2_0.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

কেনিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের তথ্য অনুযায়ী, দেশটিতে প্রতিদিন অন্তত ৪জন আত্মহত্যা করছে। তা সত্ত্বেও বিষয়টিকে এখনো লজ্জার একটি বিষয় বলে মনে করা হয়, ফলে এই ঝুঁকিতে থাকা মানুষজনকে যথাযথ সেবাও দেয়া সম্ভব হয় না। এ ধরণের চেষ্টা যারা করে, উল্টো আইন করে তাদের শাস্তি দেয়া হয়। সেখানে একজন নারী বিবিসির কাছে তুলে ধরেছেন কিভাবে সেই অন্ধকার বিপদ তিনি কাটিয়ে উঠেছিলেন।

রোজেলিনের সঙ্গে যাদের প্রথম দেখা হবে, তিন সন্তানের এই মাকে মনে হবে খুবই হাসিখুশি একজন। কিন্তু কেউ যেটি জানে না, তা হলো বেশ কয়েকবার তিনি নিজের জীবন নেয়ার চেষ্টা করেছিলেন। অনেক বছর ধরে তিনি ঘনিষ্ঠ সবার কাছ থেকে এই গোপন তথ্য লুকিয়ে রেখেছেন, এমনকি তার কিশোর সন্তানদের কাছ থেকেও।

রোজেলিন বলছেন, 'চরম বিষণ্ণতার কারণে ৪বার আমি আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলাম। বাইপোলার নামের এই রোগের এটি ছিল অন্যতম একটি চ্যালেঞ্জ। প্রথমদিকে এসব নিয়ে কারো সাথে কথা বলতে আমি লজ্জা পেতাম, ...মানুষজন আমাকে দেখতে হাসপাতালে আসতো। তারা নিশ্চয়ই দুইয়ের সঙ্গে দুই মিলিয়ে নিতো যে, আমি নিশ্চয়ই কোন ওভার ডোজ নিয়েছি। কিন্তু তারা আমার সামনে এসব নিয়ে কথা বলতো না। আমরা সবকিছু নিয়েই কথা বলতাম, কিন্তু এটা নিয়ে কোন আলোচনা হতো না যে, কি জন্য আমি হাসপাতালে ভর্তি হয়েছি।'

'বিষণ্ণতাই হয়তো এর কারণ, আত্মহত্যার সেই চেষ্টার জন্য আমি অত্যন্ত লজ্জিত অনুভব করতাম, কারণ আমি তা কাটিয়ে উঠতে পারছিলাম না। মানুষ আমাকে দেখে বিচার বিশ্লেষণ করবে, সেজন্য আমি তাদের সামনেও যেতে চাইতাম না।'

কেনিয়ার স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়ের হিসাব অনুযায়ী, প্রতিবছর দেশটিতে চৌদ্দশ' মানুষ আত্মহত্যা করে। দেশটির আইনি কাঠামোর কারণে এসব মানুষকে দরকারি স্বাস্থ্য সহায়তাও দেয়া সম্ভব হচ্ছে না।

দেশটির ফৌজদারি আইন অনুযায়ী, আত্মহত্যার চেষ্টাকে হত্যার মতো অপরাধের সাথে সংযুক্ত করে রাখা হয়েছে। এরকম চেষ্টাকারীদের কারাদণ্ড, জরিমানা বা উভয় দণ্ডই হতে পারে।

স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এ ধরণের ঘটনা এড়াতে এবং আত্মহত্যা ঠেকাতে সমাজের অন্যান্য ব্যক্তিদের এগিয়ে আনতে হলে এই আইন বদলানো দরকার।

নাইরোবির মানসিক স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ ক্যাথরিন মুতিসা বলছেন, 'আমি জানি, অপরাধের তালিকা থেকে আত্মহত্যার মতো বিষয় আলাদা করার পরিকল্পনা চলছে। কিন্তু সেই প্রক্রিয়া চলতে চলতে আইনটি অন্তত বদলানো যেতে পারে।'

'আসল কারণ হলো, এটাকে অপরাধ হিসাবে বিবেচনার কারণে অনেক মানুষ কোন চিকিৎসা পায় না। আমি যদি আত্মহত্যার চেষ্টা করি, আমি কারো সঙ্গে সেটি নিয়ে কথা বলতে পারবো না, সুতরাং আমি কোন চিকিৎসাও পাবো না। এর ফলে মানুষের চিকিৎসা সেবা পাওয়ার সুযোগ কমে যাচ্ছে। যাদেরকে আত্মহত্যা করা থেকে হয়তো ঠেকানো যেতো, তাদেরকেও কোন সহায়তা দেয়া যাচ্ছে না, বলছেন মিজ মুতিসা।

'কেনিয়ার অনেক প্রশাসক এবং বিচারক এখন মনে করছেন, এ ধরণের মানুষদের মানসিক সেবা দরকার এবং তাদের চিকিৎসার জন্য হাসপাতালে পাঠানো উচিত।'

২০১৩ সালে একটি সহায়তা গ্রুপে অংশ নেয়ার জন্য রোজেলিনের একজন ঘনিষ্ঠ বন্ধু তাকে আমন্ত্রণ জানায়। এটি এমন একটি খোলামেলা কথা বলার জায়গা, যেখানে সে তার গল্প খুলে বলতে পারবে, এবং তার মতো অন্য যারা এই লড়াই করছে, তাদের কথাও জানতে পারবে।

এরপর সেখানে যেতে শুরু করেন রোজেলিন। তিনি বলছেন, 'যখন আমি আমার কথা বলতে শুরু করলাম, আমি যেন মুক্তির স্বাদ পেলাম। আমি অনুভব করলাম যে আমি একা নই। ওই সহায়তা গ্রুপের সদস্যদের সঙ্গে যেন আমি একাত্মতা বোধ করলাম, কারণ তারাও এই সমস্যাটি গভীরভাবে মোকাবেলা করছে।'

'যখন আপনি কারো সঙ্গে পরিচিত হবেন যে, আপনার মতোই অবস্থায় আছে, যে নিজেকে হত্যার চেষ্টা করেছিল, এখন সেই বলছে, চিন্তার কিছু নেই বন্ধু, এটা একদিন ঠিক হয়ে যাবে। কারণ সে একই অবস্থার ভেতর দিয়ে গিয়েছিল এবং এখন সে সেটি কাটিয়ে উঠতে পেরেছে,' বলছেন রোজেলিন।

রোজেলিনের এই আত্ম বর্ণনার মাধ্যমে এটাই পরিষ্কার হচ্ছে যে, নিজেকে তুলে ধরতে পারার সুযোগ আর এ ধরণের সমর্থন গ্রুপের ফলাফল এই মানুষদের জন্য কতটা সহায়ক হতে পারে- এই দুর্বল মনের মানুষদের জন্য তাদের কষ্টকর সময়ে এ ধরণের উদ্যোগ তাদের জীবনে কতটা পরিবর্তন এনে দিতে পারে।

তার গল্প এটাও তুলে ধরছে যে, কেনিয়া জুড়ে আত্মহত্যার চেষ্টাকারী মানুষদের দোষারোপ আর বিচারের সংস্কৃতিরও পরিবর্তন কতো জরুরী দরকার। সূত্র: বিবিসি বাংলা


ঢাকা, বুধবার, সেপ্টেম্বর ২৬, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ২৬৭ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন