সর্বশেষ
শনিবার ২০শে আষাঢ় ১৪২৭ | ০৪ জুলাই ২০২০

'দেশের জনগণের ভরসাতেই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর কাজ শুরু করি'

রবিবার, অক্টোবর ১৪, ২০১৮

image-100854-1539500536.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

পদ্মা সেতুর ৬০ শতাংশ কাজ শেষ হয়েছে, যা খুবই গৌরবের বলে মন্তব্য করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের জনগণের প্রতি ভরসা ছিল বলেই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শুরু করতে পেরেছি।

তিনি বলেন, অনেকের ধারণা ছিল বিশ্ব ব্যাংকের তহবিল ছাড়া পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ সম্ভব হবে না। কিন্তু আমার বিশ্বাস ছিল, এদেশের জনগণ আমার পাশে থাকবে। জনগণই আমার শক্তি। জনগণ আমাকে সমর্থন দিয়েছেন বলেই নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতুর ৬০ ভাগ কাজ ইতোমধ্যে সম্পন্ন হয়েছে।

রবিবার (১৪ অক্টোবর) মুন্সীগঞ্জের মাওয়া টোলপ্লাজা সংলগ্ন গোলচত্বরে দেশের বৃহত্তম অবকাঠামো পদ্মা সেতু প্রকল্পের অগ্রগতি এবং এর রেল সংযোগের নির্মাণ কাজ উদ্বোধন অনুষ্ঠানে তিনি এসব কথা বলেন।

এসময় প্রধানমন্ত্রী পদ্মা সেতুর নামফলক উন্মোচন ও রেল সংযোগসহ চারটি প্রকল্পের ভিত্তি স্থাপন করেন।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, আমাদের ইচ্ছা ছিল পদ্মা সেতুর সঙ্গে রেল সেতু নির্মাণ করার। বিশ্ব ব্যাংক ও এডিবি একাজে সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসে। কিন্তু ড. ইউনুসের প্ররোচণায় বিশ্ব ব্যাংক পদ্মা সেতুর জন্য অর্থায় বন্ধ করে দেয়। তাই সিদ্ধান্ত নিলাম আমরা কারও সাহায্য নেবো না। আমি পার্লামেন্টে ঘোষণা দলাম। বাংলাদেশের মানুষের কাছে আমার কৃতজ্ঞতা। তারা আমাকে সহযোগিতা করলেন।

শেখ হাসিনা বলেন, পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজে যারা সম্পৃক্ত তাদের ধন্যবাদ। যারা এ কাজের জন্য নিজেদের ভিটেমাটি ছেড়ে দিয়েছেন আমি তাদের কাছে কৃতজ্ঞ, যারা জমি দিয়েছেন তাদের আমরা প্লট বরাদ্দ দিয়েছি।

প্রধানমন্ত্রী বলেন, পদ্মা সেতু নির্মাণের সঙ্গে আমাদের বহুমুখী সড়ক ও রেলপথ নির্মাণের পরিকল্পনা রয়েছে। সেগুলোর নির্মাণ কাজ চলছে। পদ্মা সেতু দিয়ে যাতে নিরবচ্ছিন্নভাবে মানুষ চলাচল করতে পারেন, সে ব্যবস্থা করা হচ্ছে। এই সেতুর ওপর দিয়ে রেল চলাচলের ব্যবস্থা করা হবে। সেতুর ওপর দিয়ে চলা ট্রেন ভাঙ্গা-নড়াইল হয়ে যশোর যাবে। আবার আরেকটি লাইন ভাঙ্গা-শরীয়তপুর হয়ে বরিশাল যাবে। সেতুটি নির্মাণের ক্ষেত্রে বাংলাদেশ প্রকৌশল ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় পরামর্শ দিয়ে যাচ্ছে।

প্রধানমন্ত্রী আরও বলেন, ‘আমরা আশা করি, পদ্মা সেতু চালু হলে আমাদের প্রবৃদ্ধি আরও প্রায় ২ ভাগ বাড়বে। প্রবৃদ্ধি ১০ ভাগ হয়ে যেতে পারে। মানুষের অবস্থার আরও উন্নতি হবে। আর্থিক দুরবস্থা থাকবে না।

এর আগে, রবিবার সকাল ১১ টা ১৫ মিনিটের সময় প্রধানমন্ত্রী মাওয়ার অনুষ্ঠানস্থলে উপস্থিত হয়ে নামফলক উন্মোচন করেন। পদ্মা সেতুর চলমান কাজের উদ্বোধনের পাশাপাশি রেল সংযোগের ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন, এক্সপ্রেসওয়ে পরিদর্শন ও নদী শাসন প্রকল্পেরও উদ্বোধন করেন।


ঢাকা, রবিবার, অক্টোবর ১৪, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ১০০৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন