সর্বশেষ
বুধবার ৭ই অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ২১ নভেম্বর ২০১৮

আত্রাইয়ে ভরা মৌসুমে মাছ সংকটে উদ্বিগ্ন শুঁটকি ব্যবসায়ীরা

মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৮

14.jpg
নওগাঁ প্রতিনিধি :

উত্তর জনপদের মৎস্য ভাণ্ডার হিসেবে খ্যাত নওগাঁর আত্রাইয়ে ভরা মৌসুমে দেশীয় প্রজাতি মাছের তীব্র সংকটের মুখে শুঁটকি উৎপাদনকারীদের মাঝে হতাশার ছাপ দেখা দিয়েছে।

যে সময় শুঁটকি উৎপাদনে পরিবার পরিজন নিয়ে ব্যস্ত সময় পার করার কথা। সে ভরা মৌসুমের শুঁটকি তৈরির চাতালগুলো গুটিয়ে রাখতে দেখা যাচ্ছে। ফলে শুঁটকি ব্যবসায়ীরা পারিবার পরিজন নিয়ে উদ্বিগ্ন হয়ে পড়ছেনে এমনকি শুঁটকি উৎপাদনকারীদের মাছে চরম হতাশা বিরাজ করছে।

অন্যান্যবার এ মৌসুমে শুঁটকি উৎপাদনে ব্যাপক সরব থাকলেও এবারে নেই তাদের মাঝে আগ্রহ। তাই অনেক চাটাইগুলো দিনের পর দিন পড়ে থাকছে মাছ বিহীন। উপজেলার বেশির ভাগ শুটকি চাতাল মাছের অভাবে বন্ধ প্রায়।

জানা যায়, প্রতিদিন শত শত টন মাছ আত্রাই থেকে রেল, সড়ক ও নৌ পথে দেশের বিভিন্ন জেলায় বাজারজাত করা হয়। সে অনুযায়ী শুঁটকি উৎপাদনেও আত্রাইয়ের যথেষ্ট প্রসিদ্ধ। প্রতি বছর বর্ষা মৌসুমে বিশেষ করে আষাঢ়, শ্রাবণ, ভাদ্র, আশ্বিন ও কার্তিক মাস শুঁটকি তৈরির মূল সময়। এ সময়গুলোতে নদী ও খালবিলে প্রচুর পরিমাণ দেশী মাছ ধরা পড়ে। আর ওই মাছগুলোর শুঁটকি তৈরি করে রাজধানী সহ উত্তরাঞ্চলের রংপুর, নীলফামারী, সৈয়দপুর, কুড়িগ্রাম, দিনাজুপরসহ দেশের প্রায় ১৫/২০ জেলাতে বাজারজাত করেন আত্রাইয়ের শুঁটকি ব্যবসায়ীরা।

আর এ মাছের শুঁটকি তৈরি করে জীবিকা নির্বাহ করে প্রায় শতাধিক পরিবার। আত্রাইয়ের ভরতেঁতুলিয়া গ্রাম শুঁটকি তৈরিতে বিশেষভাবে খ্যাত। এ গ্রামের শতাধিক শুঁটকি ব্যবসায়ী এ পেশার সাথে সম্পৃক্ত। শুধু বর্ষা মৌসুমে শুটকি তৈরি করে তারা পরিবারের সারা বছরের ভরণপোষণ নিশ্চিত করতেন। কিন্তু এবার মাছের অভাবে শুঁটকি তৈরি করতে না পারায় ব্যবসায়ীরা হাতাশ হয়ে পড়েছেন। কাঁচা মাছের আমদানি কম, বাজাররে মূল্য বেশি অথচ শুঁটকির বাজারে ধস। সবকিছু মিলিয়ে তাদের এবারে চালান প্রতি লাভের স্থলে গুনতে হচ্ছে লোকসান।

উপজেলার ভরতেঁতুলিয়া গ্রামের বিশিষ্ট শুঁটকি ব্যবসায়ী মঞ্জুর মোল্লা বলেন, অন্যান্য বছর শুটকি বিক্রি করে আমরা যে পরিমাণ লাভবান হতাম। এবার ভরা মৌসুমে মাছ না পেয়ে হাত-পা গুটিয়ে বসে আছি। কাঁচা মাছের আমদানি কম, মূল্য বৃদ্ধি হওয়ায় আমরা এবার শুঁটকি তৈরিতে সাহসই পাচ্ছি না। এ পরিস্থিতিতে শুঁটকি তৈরি করলে প্রতি চালানেই আমাদের অনেক লোকসান হবে। এ জন্য অন্যান্যবার শুঁটকি মৌসুমে শুঁটকি তৈরির যে ধুম পড়তো এবার তা নেই। অনেকটা আমরা আগ্রহ হারিয়ে ফেলেছি। এ জন্য শুঁটকির চাটাইগুলোও ভরা মৌসুমে খালি পড়ে থাকছে।

এ ব্যাপারে শুঁটকি ব্যবসায়ী রাম, মাজেদুল, পঁচু, গেদা ও ছাত্তার বলেন, কয়েক বছররে মধ্যে গত বছর সব থেকে ভাল ব্যবসা হয়েছে। এবারে বন্যা না থাকায় নদী ও খালবিলে মাছের যথেষ্ট অভাব। তাই এ পর্যন্ত আমরা শুঁটকিতে হাত দিতে পারি নাই। প্রতি বছর শুঁটকির আয় দিয়ে আমরা সংসার পরিচালনা করতাম। এবারে ব্যবসা না থাকায় আমরা চরম উদ্বিগ্ন হয়ে পড়েছি।

এ ব্যাপারে উপজলা সিনিয়র মৎস্য অফিসার আরোয়ার জামান বলনে, যে সময় এ এলাকায় বেশি মাছের উৎপাদন হয় এবার সে সময় এলাকায় পানি সংকট ছিল। এ জন্য মাছের প্রজনন বাড়েনি। ফলে পর্যাপ্ত পরিমাণ মাছ বাজারে উঠছে না। তবে যতটুকু মাছ বাজারে উঠছে গতবারের তুলনায় অধিক মূল্য হওয়ায় শুঁটকি ব্যবসায়ীরা এ মাছ কিনতে পারছেন না।

নওগাঁ থেকে,

নাজমুল হক নাহিদ


ঢাকা, মঙ্গলবার, অক্টোবর ১৬, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ৭৯০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন