সর্বশেষ
সোমবার ৩রা পৌষ ১৪২৫ | ১৭ ডিসেম্বর ২০১৮

পুলিশের মাতৃত্বের প্রশংসায় সোশ্যাল মিডিয়ায় ঝড়

সোমবার, অক্টোবর ২৯, ২০১৮

image-105815-1540741448.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

সামাজিক মাধ্যমে ভাইরাল হয়েছে এক নারী পুলিশের ছবি। যাকে এখন ‘মাদার কপ’ নামে ডাকছে নেটবিশ্ব। ছবিতে দেখা গেছে, চেয়ারে বসে প্রতিদিনের অফিসের কাজ সারছেন একজন মহিলা পুলিশ। এ ছবি ভাইরাল হওয়ার কারণ একটি শিশু। যাকে দেখা যাচ্ছে ওই নারী পুলিশের সামনে উঁচু একটা টেবিলে শুয়ে আছে।

এ ছবিটি এখন গোটা ভারতে আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু হয়ে উঠেছে। ছবিটি নিজেদের ফেসবুক টাইমলাইনে শেয়ার করে প্রশংসা করছেন ভারতীয়রা। রীতিমত মাথা ঠুকে সালাম জানাচ্ছেন তারা। শুধু তাই নয় ছবিটি নিয়ে বিভিন্ন ভারতীয় অনলাইন সংবাদ মাধ্যমে খবর প্রকাশিত হয়েছে।

দেশটির জনপ্রিয় সংবাদ মাধ্যম আনন্দবাজার পত্রিকায় লিখেছে, ‘ছবির পুলিশের নাম অর্চনা জয়ন্ত। তিনি বর্তমানে দেশটির উত্তরপ্রদেশের দক্ষিণ-পশ্চিম অংশ ঝাঁসির কোতয়ালি থানায় কনস্টেবল পদে কর্মরত। অর্চনা ছয়মাস বয়সী কন্যার(অনিকা) জননী। তার স্বামী ও পরিবার রয়েছে আগ্রাতে।

পরিবার পরিজন রেখে কর্মসূত্রে অনিকাকে নিয়ে ঝাঁসিতে থাকতে হচ্ছে অর্চনাকে। এতোটুকুন বাচ্চাকে দেখভালের কেউ নেই তাই প্রতিদিন অনিকাকে অফিসে নিয়ে আসেন কনস্টেবল অর্চনা। পুলিশের গুরুদায়িত্বের ফাঁকে সন্তান লালন করে যাচ্ছে অর্চনা জয়ন্ত। মায়ের আদর, যত্নে কোনো কমতি নেই অনিকার।’

একদিকে থানার কাজ আবার সমানতালে মাতৃত্বের দিকটাও খেয়াল রাখছেন অর্চনা। আর সে কারণেই অর্চনার এমন মাতৃত্ব উদাহরণ হয়ে গেছে সামাজিক মাধ্যমে। ছবিটি ভাইরাল হওয়ার পর অর্চনার সঙ্গে কথা বলতে ছুটে গেছেন স্থানীয় সংবাদ মাধ্যম।
   
সাক্ষাৎকারে তিনি বলেছেন, ‘সমস্যা তো হয়ই। কিন্তু আমার কাছে দু’টোই সমান গুরুত্বপূর্ণ। সে কারণেই কাজ করার সঙ্গে সঙ্গে মেয়ের দেখাশোনাও করি।’

বাইরের ডিউটি পড়লে কী করেন এই প্রশ্নে অর্চনা হেসে জানান, ‘বাইরেতো যেতেই হয়। পুলিশের কাজ বলে কথা। কখনও ঘণ্টার পর ঘণ্টা লেগে যায় ফিরে আসতে। তখন তার মেয়েকে সহকর্মীরা দেখে রাখেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘অনেক সময় ইমারজেন্সিতে ডাকা হয়। তখন উপায় থাকে না। অনিকাকে সঙ্গে নিয়েই থানায় চলে আসি। ওখানেই ওকে ঘুম পাড়ানো, খাওয়ানো সব কিছুই করাতে হয়।’

ঝাঁসির শীর্ষ পুলিশকর্তারাও অর্চনার প্রশংসায় পঞ্চমুখ। সেই রাজ্যের ডিআইজি সুভাষ সিংহ বাঘেল জানান, ‘যে ভাবে অর্চনা দুটো দায়িত্বই নিখুঁত ভাবে সামলাচ্ছেন, সত্যিই প্রশংসার যোগ্য। আমরা তাকে পুরস্কৃত করার কথা ভাবছি।’

তবে নিজের এতো প্রশংসায় খুশি হলেও সংবাদকর্মীদের মাধ্যমে অর্চনা তার আর্জি জানান, ‘আগ্রায় ট্রান্সফারের জন্য আবেদন করেছি। ওখানে গেলে অনিকাকে তার পরিবার দেখাশোনা করতে পারবে। আর আমার পক্ষেও ভালোভাবে মন দিয়ে কাজ করা সম্ভব হবে।’


ঢাকা, সোমবার, অক্টোবর ২৯, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ১৯২৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন