সর্বশেষ
বুধবার ৩রা আশ্বিন ১৪২৬ | ১৮ সেপ্টেম্বর ২০১৯

কলকাতার সর্বোচ্চ ভবন ‘দ্য ৪২’–এ অগ্নিকাণ্ড

রবিবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৮

0df31a237d7e1f0ef58033b29e1a8420-5bf0e5fbabaa5.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

ভারতের কলকাতায় নির্মাণাধীন বহুতল ভবন ‘দ্য ৪২’ অগ্নিকাণ্ডের ঘটনা ঘটেছে। শনিবার বিকাল পৌনে ৫টার দিকে ভবনটিতে আগুনের সূত্রপাত ঘটে।

এক পর্যায়ে আগুন ছড়িয়ে পড়লে ভবন থেকে বেরিয়ে আসতে শুরু করে আগুনের লেলিহান শিখা। উদ্ভূত পরিস্থিতিতে ‘দ্য ৪২’-এর কর্মীরা নিজস্ব অগ্নিনির্বাপণ ব্যবস্থা দিয়ে আগুন নিয়ন্ত্রণে আনার কাজ শুরু করেন। পরে তিনটি ইঞ্জিন নিয়ে তাদের সঙ্গে যোগ দেয় দমকল বাহিনীর সদস্যরা।

পুলিশ ও দমকল বাহিনী জানায়, নির্মাণকাজে ব্যবহৃত সামগ্রী যাতে ছিটকে বাইরে না-পড়ে, সেজন্য বহুতল ভবনটির কয়েকটি দিকে সবুজ চট ঝোলানো আছে। লিটল রাসেল স্ট্রিটের দিকে ৪৫ বা তার উপরে কোনও তলার বাইরে এসি মেশিনের ‘ডাক্ট’ বসানোর কাজ চলছিল। ওয়েল্ডিং করে ‘ডাক্ট’ বসাচ্ছিলেন শ্রমিকরা।

দমকল কর্মকর্তা সমীর চৌধুরী বলেন, ‘বহুতলে নির্মাণকাজের সময় বাইরের দিকে (নিরাপত্তার জন্য) যে জাল বিছানো হয়, তাতে জ্বলন্ত ফুলকি এসে পড়লে আগুন লেগে যায়।’ আগুন ছড়িয়ে  পড়ে ওই বহুতলের বাইরে লম্বা করে ঝোলানো থাকা চটের কাপড়েও। সেই আগুন ক্রমে নিচের দিকে নামতে থাকে।

শেক্সপিয়র সরণি থানা এলাকার ওই বহুতল ভবনটির ৬৫ তলার ছাদে উঁচু ও শক্তিশালী একটি ক্রেন বসানো রয়েছে। নির্মাণকাজে নিযুক্ত দক্ষ কর্মীরা ক্রেন থেকে ঝোলানো শক্ত জালের ঝুড়িতে চেপে কার্বন-ডাই-অক্সাইড গ্যাসের সিলিন্ডার নিয়ে ধাপে ধাপে নেমে চটের আগুন নেভাতে শুরু করেন। দমকল আসার আগেই নিজস্ব কর্মীদের প্রচেষ্টায় ৫০ থেকে ৪০ তলা পর্যন্ত আগুন অনেকটাই নিয়ন্ত্রণে এসে যায়। পরে ঘটনাস্থলে পৌঁছে দমকলের ডিজি জগমোহন পরিস্থিতি খতিয়ে দেখেন। অফিসারদের সঙ্গে লিফটে চেপে ওপরেও উঠেন তিনি।

বহুতল ভবনটিতে কর্মরত কর্মীরা জানান, চটের কাপড় দিয়ে যে যে তলা ঘিরে এসি’র ডাক্ট বসানোর কাজ চলছিল, তার প্রতিটিতেই পর্যাপ্ত পানির ব্যবস্থা রয়েছে। ওই তলাগুলিতে কর্মরত শ্রমিকেরাও এ দিন পাইপ দিয়ে পানি ছিটিয়ে আগুন আয়ত্তে এনেছেন।

ঘটনাস্থল পরিদর্শন করেছেন কলকাতার মেয়র ও দমকলমন্ত্রী শোভন চট্টোপাধ্যায়। তিনি বলেন, ‘ঠিক কোন তলায় আগুন লাগে, তা এখনও নিশ্চিত নয়। কেউ বলছেন ৪০, কেউ বলছেন ৪৫ আবার কারও বক্তব্য ৫২। ডিজি ৪৫ তলায় উঠেছেন, সব কিছু খতিয়ে দেখেছেন। রয়েছেন পৌরসভার বিপর্যয় মোকাবিলা দলের কর্মীরাও।’

তিনি বলেন, এই বহুতল ভবনটি এখনও ফিটনেস সনদ পায়নি। সেখানে কেউ বসবাসও শুরু করেননি।

এদিনের ঘটনায় এরইমধ্যে প্রশ্ন উঠেছে কলকাতায় এমন একটি বহুতল ভবনে ভবিষ্যতে ফের অগ্নিকাণ্ডের মতো ঘটনা ঘটলে তা সামাল দেওয়ার সক্ষমতা রাজ্য সরকারের আছে কিনা?

বহুতলের আগুন নেভানোর জন্য দমকলের তিনটি যন্ত্রচালিত মই (ল্যাডার) রয়েছে। তার মধ্যে সব চেয়ে বড়টি পৌঁছতে পারে ৭০ মিটার পর্যন্ত উচ্চতায়।

দমকল অফিসারদের ভাষায়, ‘২৪-২৫ তলা পর্যন্ত।’ তা-ও জায়গার অভাবে সেটিকে কলকাতার ফ্রি-স্কুল স্ট্রিটে দমকলের সদর দফতরের বদলে রাখা হয় বিধাননগরে। অনেকের বক্তব্য, আগুন নেভানোর পরিকাঠামোর এমন শোচনীয় অবস্থা সত্ত্বেও কেন ‘দ্য ৪২’-এর মতো বহুতল প্রকল্পের অনুমতি দিচ্ছে প্রশাসন? সূত্র: আনন্দবাজার।


ঢাকা, রবিবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ২২২৮ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন