সর্বশেষ
শুক্রবার ৩০শে অগ্রহায়ণ ১৪২৫ | ১৪ ডিসেম্বর ২০১৮

ভোলার স্বাধীনতা যাদুঘরে প্রতিনিয়ত ভিড় জমাচ্ছে দর্শনার্থীরা

বুধবার, নভেম্বর ২১, ২০১৮

ভোলা.jpg
ভোলা প্রতিনিধি :

ভোলার স্বাধীনতা জাদুঘরে প্রতিদিন বিভিন্ন শ্রেণি, পেশা ও বয়সের মানুষ উপচেপরা ভীর । ব্রিটিশ ও পাকিস্তানিদের হাত থেকে বাঙালিরা কিভাবে স্বাধীনতা পেয়েছিলো তা জানতেই প্রতিনিয়ত ভিড় জমাচ্ছে দর্শনার্থীরা।

তিনতলা বিশিষ্ট জাদুঘরে প্রত্যেক তলাতেই রয়েছে একটি করে গ্যালারি যেখানে ঠাঁই পেয়েছে বাংলাদেশের স্বাধীনতা অর্জনের পেছনের ৮০ বছরের ইতিহাসের ধারাবাহিক দুর্লভ সংরক্ষণ।

প্রথম তলায় এক পাশে রয়েছে প্রত্নতাত্ত্বিক নিদর্শন, ইতিহাস ঐতিহ্য, ব্রিটিশ বিরোধী আন্দোলন, ৪৭-এ দেশভাগ ও ভাষা আন্দোলনের দুর্লভ ছবি ও তথ্য। অপর পাশে রয়েছে লাইব্রেরি ও গবেষণাগার।

এছাড়া একই তলায় রয়েছে মাল্টিমিডিয়া ডিসপ্লে হলরুম। যেখানে প্রদর্শিত হয় মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস নিয়ে নির্মিত প্রামাণ্য চিত্র ও চলচ্চিত্র। দ্বিতীয় তলায় আছে ভাষা আন্দোলন থেকে মুক্তিযুদ্ধের আগ পর্যন্ত ইতিহাসের চিত্রকল্প। আর তৃতীয় তলায় রয়েছে ৫৮ ও ৬৬-এর আন্দোলনের ছবি, ৬৯-এর গণঅভ্যুত্থান, ৭০-এর সাধারণ নির্বাচন, ৭১-এর মুক্তিযুদ্ধ, ৭ মার্চের ভাষণসহ বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুরের আত্মত্যাগের আলোকচিত্র।

জাদুঘরটির একটি অংশে বাঙালির লোকজ ইতিহাস, ঐতিহ্য ও সংস্কৃতি তুলে ধরা হয়েছে দর্শনার্থীদের জন্য। এখানে প্রতিদিন সকাল ১১টা থেকে ৫টা পর্যন্ত খোলা থাকে যাদুঘর। এ সময়ে ভোলাসহ দেশের নানা স্থান থেকে দর্শনার্থীরা ভিড় করছে ইতিহাস জানতে। দর্শনার্থীরা ডিজিটাল টাচস্ক্রিন ব্যবহার করে যেকোনো গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত ও তথ্য জানতে পারছেন। প্রবেশেও নেই কোন টিকেট।

ঢাকার গাজীপুর থেকে নানার বাড়িতে বেড়াতে এসে যাদুঘরে আসা মাহমুদা রহমান বলেন, আমার জন্ম ৭১ এর পরে তাই প্রত্যেকের মতো আমার ও জানার ইচ্ছে ৭১ এ কি হয়েছিলো। কিভাবে আমরা স্বাধীনতা অর্জন করেছি। পেয়েছি লাল সবুজের পতাকা। এখানে এসে শুধু স্বাধীনতা সংগ্রাম নয় ব্রিটিশ আমলের নানা তথ্য জানতে পেরেছি।

ভোলা সরকারি উচ্চ বিদ্যালয়ের এসএসসি পরীক্ষার্থী সানজিদা হোসেন এশা বলেন, যাদুঘরে এসে অনেক কিছু জানতে পরেছি, যে কেউ এখানে আসলে তার বাঙালির স্বাধীনতা সংগ্রাম সংক্রান্ত সকল কৌতূহল দূর হয়ে যাবে।

পরিবার নিয়ে জাদুঘরে আসা মো. ফয়েজ উল্লাহ বলেন, আমি নিজেও মুক্তিযুদ্ধ দেখিনি। তাই পরিবারকে নিয়ে এখানে আসলাম ৭১ সম্পর্কে জানার জন্য।

ভোলা টাউন কমিটি মাধ্যমিক বিদ্যালয়ের প্রধান শিক্ষক মেহেদী হাসান বলেন, প্রত্যেক শিক্ষার্থীরই আগ্রহ প্রবল জানার। যা বই এর মধ্যে যা শুধু সীমাবদ্ধ থেকে জানা সম্ভব নয়। এ যাদুঘরে শিক্ষার্থীরা আসলে তাদের মনে থাকা সব প্রশ্নের জবাব পেয়ে যায়। যা তাদের লেখাপড়ার ক্ষেত্রেও উপকার হয়। তাদের জ্ঞান সমৃদ্ধ হয়।

২০১৫ সালে স্বাধীনতা জাদুঘরটির নির্মাণ কাজ শুরু হয়। এর ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেন অর্থমন্ত্রী আবুল মাল আবদুল মুহিত। চলতি বছরের ২৫ জানুয়ারি রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ আনুষ্ঠানিকভাবে জাদুঘরটি উদ্বোধন করেন। এরপর থেকে জাদুঘরটি জনসাধারণের জন্য খুলে দেয়া হয়। যে কেউ বিনামূল্যে প্রবেশ করেতে পারে এখানে। প্রখ্যাত ইতিহাসবিদ ড. মুনতাসীর মামুনসহ বেশ কয়েকজন গবেষকের নিরলস পরিশ্রমে জাদুঘরটি অন্যতম সংগ্রহশালায় পরিণত হয়েছে।

ভোলা প্রতিনিধি, আবদুল্লাহ নোমান।


ঢাকা, বুধবার, নভেম্বর ২১, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // উ জ এই লেখাটি ৭২১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন