সর্বশেষ
শুক্রবার ৫ই আশ্বিন ১৪২৬ | ২০ সেপ্টেম্বর ২০১৯

সাকা পরিবারের কেউই এবার মনোনয়ন পাননি বিএনপির

বুধবার, নভেম্বর ২৮, ২০১৮

Untitled-2-5bfda05f4297e.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

চট্টগ্রামের রাজনীতিতে ছড়ি ঘোরানো সালাহউদ্দিন কাদের (সাকা) চৌধুরী পরিবারের কেউই এবার মনোনয়ন পাননি বিএনপির। এর মাধ্যমে চট্টগ্রামের রাজনীতি থেকেও সাকা পরিবারের বিদায়ঘণ্টা বাজবে বলে মনে করছেন অনেকে। কেউ কেউ এটিকে বলছেন অঘটন। কারণ যতবার সংসদ নির্বাচন করেছেন, ততবার কোনো না কোনো আসনে বিজয়ী হয়েছেন সাকা চৌধুরী। রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ির তিনটি আসন থেকে ঘুরেফিরে ছয়বার জাতীয় সংসদে প্রতিনিধিত্ব করার অনন্য এক রেকর্ডও আছে তার। প্রথম তিন সংসদ নির্বাচনে রাউজান থেকে এমপি হলেও পরের তিন নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ির দুটি আসনে নির্বাচন করেছেন তিনি। যুদ্ধাপরাধের দায়ে মৃত্যুদণ্ড হওয়ার সময়ও তিনি ছিলেন বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য। এসব কারণে চট্টগ্রামের রাজনীতিতে দোর্দণ্ড প্রতাপ খাটাত সাকা পরিবার।

এ প্রভাব ধরে রাখতে মৃত্যুদণ্ডের পর রাউজান, রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ির তিনটি আসন থেকে সাকা চৌধুরীর স্ত্রী ফরহাত কাদের চৌধুরী ও সাকার ছেলে হুম্মাম কাদের চৌধুরী নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিতে থাকেন। দলীয় মনোনয়ন ফরমও নিয়েছিলেন হুম্মাম। কিন্তু শেষ পর্যন্ত মা-ছেলের কেউই পাননি বিএনপির মনোনয়ন। এ তিনটি আসনের দুটিতেই এবার নতুন প্রার্থী বেছে নিয়েছে বিএনপি।

সাকা পরিবারের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শওকত আলী নূর বলেন, 'চট্টগ্রামের রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়িতে সালাহউদ্দিন কাদের চৌধুরী ও তার পরিবারের স্বতন্ত্র একটি ইমেজ রয়েছে। রাঙ্গুনিয়া থেকে নির্বাচন করতে মনোনয়ন ফরমও নিয়েছিলেন হুম্মাম কাদের চৌধুরী। কিন্তু এখানে মনোনয়ন দেওয়া হয়েছে আমাকে। সালাহউদ্দিন কাদেরের স্ত্রী ও সন্তানের সম্মতি নিয়েই আমাকে মনোনয়ন দিয়েছে বিএনপি। যে কোনো কারণে এখন আর নির্বাচনে আগ্রহী হচ্ছেন না তারা।'

জানা গেছে, সাকা চৌধুরীর মৃত্যুর পর এলাকায় ক্রমাগত কোণঠাসা হতে থাকেন তার পরিবারের সদস্যরা। এক সময় যারা তার নির্দেশনা মতে চলতেন, সেই নেতাকর্মীরাও ক্রমান্বয়ে দূরে সরতে থাকেন। তার মৃত্যুর পর দীর্ঘদিন দেশের বাইরে ছিলেন তার স্ত্রী ও সন্তানরা। সম্প্রতি ফরহাত কাদের চৌধুরী দেশে এলেও এখনও লন্ডনে আছেন তার দুই ছেলে ফজলুল কাদের চৌধুরী ফায়েজ ও হুম্মাম কাদের চৌধুরী। মেয়ে ফারজিন কাদের চৌধুরী আছেন কানাডায়। তারা দুটি আসনে নির্বাচন করার প্রস্তুতি নিয়েছিলেন। কিন্তু নেতাকর্মীদের কাছ থেকে সেভাবে সাড়া না পাওয়ায় আস্তে আস্তে গুটিয়ে নিয়েছেন নিজেদের। ধারণা করা হচ্ছে, নির্বাচন থেকে সরে আসা কিংবা বিএনপির মনোনয়ন না পাওয়ার এ ঘটনায় রাজনীতি থেকেও বিদায় নেওয়ার ক্ষেত্র তৈরি হয়েছে তাদের। এ ব্যাপারে কথা বলতে ফরহাত কাদের চৌধুরীর সঙ্গে যোগাযোগের চেষ্টা করা হলেও ফোন রিসিভ করেননি তিনি।

জানা গেছে, সাকা চৌধুরী চারটি রাজনৈতিক দল থেকে মনোনয়ন নিয়ে ছয়বার এমপি হয়েছিলেন। ১৯৭৯ সালের দ্বিতীয় সংসদ নির্বাচনে মুসলিম লীগ থেকে নির্বাচন করেন তিনি। রাউজান ও রাঙ্গুনিয়ার দুটি আসন থেকে নির্বাচন করে দুটিতেই বিজয়ী হন সেবার। ১৯৮৬ সালের তৃতীয় সংসদ নির্বাচনে জাতীয় পার্টি থেকে নির্বাচন করে রাউজান আসনের এমপি হন। ১৯৯১ সালের পঞ্চম সংসদ নির্বাচনে রাউজানের এমপি হন এনডিপি থেকে। এর পরের তিনটি নির্বাচনে দুটি করে আসনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেন। কিন্তু প্রতিবারই একটিতে হেরেছেন। ১৯৯৬ সালের সপ্তম সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ি থেকে নির্বাচন করে রাঙ্গুনিয়ায় বিজয়ী হন সাকা চৌধুরী। ২০০১ সালের অষ্টম সংসদ নির্বাচনে রাঙ্গুনিয়া ও ফটিকছড়ির মধ্যে প্রথমটিতে বিজয়ী হয়ে এমপি হন। ২০০৮ সালে নবম সংসদ নির্বাচনে ফটিকছড়ি থেকে বিজয়ী হলেও রাঙ্গুনিয়াতে হেরে যান।

রাঙ্গুনিয়া আসনে এবার সাকার ছেলে হুম্মাম কাদেরের নাম শোনা গেলেও শেষ পর্যন্ত বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন রাঙ্গুনিয়া উপজেলা বিএনপির আহ্বায়ক শওকত আলী নূর। বিকল্প প্রার্থী হিসেবে মনোনয়ন পেয়েছেন উপজেলা যুবদলের সাবেক সভাপতি কুতুব উদ্দিন বাহার। ফটিকছড়ি আসনে বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন খালেদা জিয়ার উপদেষ্টা গোলাম আকবর খোন্দকার। বিকল্প হিসেবে এখানে রাখা হয়েছে ড্যাবের সাবেক সভাপতি ডা. খোরশেদ জামিলকে। আর রাউজানে এবার বিএনপির মনোনয়ন পেয়েছেন গিয়াস কাদের চৌধুরী। বিকল্প হিসেবে রাখা হয়েছে তার ছেলে সামির কাদের চৌধুরীকে। সূত্র: সমকাল


ঢাকা, বুধবার, নভেম্বর ২৮, ২০১৮ (বিডিলাইভ২৪) // পি ডি এই লেখাটি ২১৬৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন