সর্বশেষ
সোমবার ২৫শে অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ০৯ ডিসেম্বর ২০১৯

ফের থমকে গেল ব্রেক্সিট চুক্তি, একই বুলি জনসনের

শনিবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৯

43.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

ফের ব্রেক্সিট পেছানো অর্থহীন ও ব্যয়বহুল এবং তাতে জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে কমে যাবে—এমন যুক্তি দিয়ে শনিবার বিরোধী শিবিরের মত আদায়ে জোর প্রচেষ্টা চালিয়েছেন ব্রিটিশ প্রধানমন্ত্রী বরিস জনসন। অন্যদিকে ব্রেক্সিট ইস্যুতে দ্বিতীয় দফা গণভোটের দাবিতে পার্লামেন্টের বাইরে বিক্ষোভ করেছে বিপুল সংখ্যক মানুষ।

প্রধানমন্ত্রী জনসন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) সঙ্গে সমঝোতার মাধ্যমে যে ব্রেক্সিট চুক্তি চূড়ান্ত করেছেন, সেটা নিয়ে কমন্সে বিতর্ক হয়।

ছুটির দিনে ব্রিটিশ পার্লামেন্টের হাউজ অব কমন্সের অধিবেশনের ঘটনা বিরল। ব্রেক্সিট ইস্যুতে ভোটাভুটির স্বার্থে সেই বিরল ঘটনাই ঘটেছে। ৩৭ বছরের মধ্যে এ প্রথম ছুটির দিনে কমন্স নেতারা অধিবেশনে বসেন।

পার্লামেন্টের নিম্নকক্ষে ব্রেক্সিট চুক্তির ওপর ভোটাভুটি শুরুর আগে নেতাদের উদ্দেশে প্রধানমন্ত্রী বলেন, আবার ব্রেক্সিট পেছানোটা ‘অর্থহীন, ব্যয়বহুল’। শুধু তা-ই নয়, বারবার ব্রেক্সিট পেছানোর কারণে জনগণের আস্থা মারাত্মকভাবে হ্রাস পাবে বলেও মন্তব্য করেন এ কনজারভেটিভ নেতা।

তার প্রস্তাবিত ব্রেক্সিট চুক্তি নতুন পথ খুলে দেবে এবং ব্রিটেন ও ইইউর জন্য তা মঙ্গলজনক হবে, এমন দাবি করে তিনি পার্লামেন্ট সদস্যদের (এমপি) প্রতি চুক্তিতে সমর্থন দেওয়ার আহ্বান জানান। অপরদিকে বিরোধী শিবির তো বটেই, পার্লামেন্টে কনজারভেটিভদের মিত্র উত্তর আয়ারল্যান্ডের ডেমোক্রেটিক ইউনিয়নিস্ট পার্টিও (ডিইউপি) ব্রেক্সিট চুক্তির বিরোধিতা করেছে।

চূড়ান্ত ভোটাভুটিতে ব্রেক্সিট চুক্তি বাতিল হয়ে গেলে ব্রেক্সিট কার্যকরের জন্য ইইউর কাছে বাড়তি সময় চাওয়া ছাড়া জনসনের সামনে আর কোনো রাস্তা থাকবে না। কেননা চুক্তিবিহীন ব্রেক্সিট ঠেকাতে ইতিমধ্যে পার্লামেন্টে আইন পাস করিয়ে রেখেছেন এমপিরা। অথচ জনসন বলে রেখেছেন, মরে গেলেও তিনি ব্রেক্সিট পেছানোর জন্য ইইউর কাছে আবেদন করবেন না।

ব্রেক্সিট চুক্তি নিয়ে এ দোটানার মধ্যে জনসনের সমর্থক শিবির তার হয়ে হাউজ অব কমন্সে চেষ্টা চালান। এমপি মার্ক ফ্রাঁসোয়া বলেন, আজ যদি হাউজ অব কমন্স পক্ষে ভোট দেয়, তবে ১৫ দিনের মধ্যে আমরা একটা স্বাধীন দেশের বাসিন্দা হব।

জনসন ও তার সহযোগীরা যখন ব্রেক্সিট চুক্তির পক্ষে সমর্থন আদায়ে ব্যস্ত, তখন পার্লামেন্টের বাইরে ব্রেক্সিট ইস্যুতে দ্বিতীয় দফা গণভোটের দাবিতে বিক্ষোভ করে বিপুল সংখ্যক। গণভোটে যেন ব্রেক্সিট বাতিলের বিষয়টি যোগ করা হয়, সেই দাবিও জানায় বিক্ষোভকারীরা।

নানা বিতর্ক সত্ত্বেও গত বৃস্পতিবার জনসন ইইউর সঙ্গে সমঝোতায় পৌঁছান এবং ইউরোপীয় কমিশনে ব্রেক্সিট চুক্তি পাস করিয়ে আনেন। কিন্তু জনসনের বিরোধী শিবির চুক্তিতে সায় দিচ্ছে না। এ চুক্তি ব্রিটেনের স্বার্থবিরোধী, এমন যুক্তিতে ওই ব্রিটিশ এমপিরা বিতর্ক চলাকালে চুক্তি প্রত্যাখ্যান করেন।


ঢাকা, শনিবার, অক্টোবর ১৯, ২০১৯ (বিডিলাইভ২৪) // এস আর এই লেখাটি ৩৭০ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন