সর্বশেষ
শুক্রবার ১লা অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ১৫ নভেম্বর ২০১৯

আজ মাশরাফির ১৮ বছরের ক্যারিয়ার

শুক্রবার, নভেম্বর ৮, ২০১৯

masrafi.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

৮ নভেম্বর ২০০১, বাংলাদেশের ক্রিকেটে আবির্ভাব হয়েছিল মাশরাফির। ঢাকার বঙ্গবন্ধু স্টেডিয়ামে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে পেয়েছিলেন টেস্ট ক্যাপ।কতই না উত্থানপতন এই ১৮ বছরের ক্যারিয়ারে। হার না মানা মাশরাফি শুধু প্রতিপক্ষের বিপক্ষে লড়ছেনই না, সমান তালে লড়াই করেন ইনজুরির সঙ্গেও। কতবার যে আহত হয়েছেন তার হিসাবও জানা নেই। দুই পায়ের দুই হাঁটুতে বড় অপারেশন হয়েছে ৭টি । এমনও হতে পারে, কয়েক বছর পরে নাকি হাঁটতেও কষ্ট হবে, এসব জেনেও ক্রিকেট চালিয়ে যান মাশরাফি।

আজ থেকে ১৮ বছর আগে কলার উঁচিয়ে শুরু করেছিলেন যেই দৌড়, তাতে বাইশ গজে যেমন কাঁপন ধরিয়েছেন প্রতিপক্ষের বুকে, তেমনি লাখো বাংলাদেশি তরুণকে শিখিয়েছেন কঠিন মুহূর্তে কলার উঁচিয়ে হার না মানার মন্ত্র।

হাঁটুর সমর্থন পান না বলে টেস্টও খেলা হয় না দশ বছর ধরে।আন্তর্জাতিক টি-টোয়েন্টি ছেড়েছেন দুই বছর আগে। খুব তাড়াতাড়ি হয়তো থেমে যাবে ওয়ানডে ক্যারিয়ারও। সবধরনের ক্রিকেটকে বিদায় জানানোর আগেই অবশ্য দারুণ এক অর্জন যুক্ত হলো মাশরাফির ক্যারিয়ারে।

বাংলাদেশের প্রথম ক্রিকেটার হিসেবে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে ১৮ বছর পূরণ করলেন মাশরাফি।

মাশরাফির হার না মানা চরিত্রের প্রমাণ মেলে চট্টগ্রামের এম এ আজিজ স্টেডিয়ামে, সিরিজের দ্বিতীয় টেস্টে। স্বাগতিক ব্যাটসম্যানদের ব্যর্থতায় ম্যাচ জয়ের জন্য মাত্র ১১ রানের লক্ষ্য পায় জিম্বাবুয়ে। এত অল্প পুঁজিতে বোলিং করতে নেমে ইনিংসের প্রথম ওভারেই ডিওন ইব্রাহিমকে সোজা বোল্ড করেন মাশরাফি, পরের বলে ফেরান অধিনায়ক স্টুয়ার্ট কার্লিসলিকেও। তখনও কোনো রানই যোগ হয়নি জিম্বাবুয়ের ইনিংসে। এভাবেই শুরু হয় আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে মাশরাফির পথচলা।

বাংলাদেশ ক্রিকেটের অসংখ্য সাফল্য এসেছে মাশরাফির হাত ধরে। তার নেতৃত্বেই বাংলাদেশ উঠেছে অন্য উচ্চতায়। বিশেষ করে ২০১৪ সালে মাশরাফি দ্বিতীয় দফা অধিনায়কত্ব পাওয়ার পরই ওয়ানডে ক্রিকেটে শুরু হয় বাংলাদেশের স্বপ্নযাত্রা।

দেশের মাটিতে পাঁচ ম্যাচের ওয়ানডে সিরিজে জিম্বাবুয়েকে হোয়াইটওয়াশ করে শুরু। এরপর প্রথমবারের মতো বিশ্বকাপের কোয়ার্টার ফাইনালে ওঠা, দেশে ফিরে পাকিস্তান, ভারত, দক্ষিণ আফ্রিকা, জিম্বাবুয়ে ও আফগানিস্তাকে টানা ওয়ানডে সিরিজে হারানোর পর ইংল্যান্ডের বিপক্ষে দুর্দান্ত ক্রিকেট খেলা- সবকিছুতে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়েছেন মাশরাফি।

মাশরাফি এখন পর্যন্ত ওয়ানডে খেলেছেন ২১৭টি। একটি ফিফটিতে করেছেন ১৭৮৬ রান। উইকেট নিয়েছেন ২৬৬টি। ২৬ রানে ৬ উইকেট ক্যারিয়ার সেরা বোলিং। ৩৬ টেস্টে ৭৮ উইকেটের সঙ্গে আছে ৭৯৭ রান। আর ৫৪ টি-টোয়েন্টিতে নিয়েছেন ৪২ উইকেট। তবে পরিসংখ্যান তাকে তুলে ধরতে পারবে সামান্যই!

সময়ের পরিক্রমায় কেবল বাংলাদেশ নয়, বিশ্ব ক্রিকেটেরও বড় প্রতিনিধি আমাদের মাশরাফি।


ঢাকা, শুক্রবার, নভেম্বর ৮, ২০১৯ (বিডিলাইভ২৪) // রি সু এই লেখাটি ২১১ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন