সর্বশেষ
বুধবার ২৭শে অগ্রহায়ণ ১৪২৬ | ১১ ডিসেম্বর ২০১৯

বাবরি মসজিদের স্থলে নির্মিত হবে মন্দির, বিকল্প জমি পাবে মুসলিমরা : সুপ্রিম কোর্ট

শনিবার, নভেম্বর ৯, ২০১৯

76793189_533437337489802_3600019541440069632_n.jpg
বিডিলাইভ ডেস্ক :

বাবরি মসজিদ মামলার চূড়ান্ত রায়ে ভারতের সর্বোচ্চ আদালত অযোধ্যার বিতর্কিত ওই ভূমিতে একটি মন্দির নির্মাণের নির্দেশনা দিয়েছেন। পরিবর্তে অযোধ্যার অন্য কোনও স্থানে মসজিদ নির্মাণের জন্য ৫ একর ভূমি পাবে মুসলিমরা। সকাল সাড়ে ১০টায় মামলার রায় ঘোষণা শুরু করেন দেশটির সুপ্রিম কোর্টের প্রধান বিচারপতি রঞ্জন গগৈয়ের নেতৃত্বাধীন পাঁচ সদস্যের বেঞ্চ।

সর্বোচ্চ আদালতের রায়ে বলা হয়েছে, বিতর্কিত স্থানটি সরকারি ট্রাস্টকে দেওয়া হবে। বাবরি মসজিদের ওই ২ দশমিক ৭৭ একর জমি পাবে হিন্দুরা। তিন মাসের মধ্যে কেন্দ্রীয় সরকারকে একটি ট্রাস্ট গঠন করতে হবে। সেই ট্রাস্টের অধীনেই থাকবে বিতর্কিত জমি এবং ট্রাস্ট্রের অধীনেই রামমন্দির নির্মিত হবে। এছাড়া মুসলিমদের জন্য বিকল্প জমি প্রদানের নির্দেশ দিয়েছেন প্রধান বিচারপতির নেতৃত্বে গঠিত পাঁচ সদস্যের বিশেষ বেঞ্চ।

অযোধ্যা মামলার রায় ঘোষণার শুরুতে শিয়া ওয়াকফ বোর্ড ও নির্মোহী আখড়ার আর্জি খারিজ করে ভারতের সুপ্রিম কোর্ট।

রায়ে ভারতের প্রধান বিচারপতি বলেন, কারও বিশ্বাস যেন অন্যের অধিকার না হরণ করে। আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অব ইন্ডিয়ার খননের ফলে যে সব জিনিসপত্র পাওয়া গিয়েছে, তাতে স্পষ্ট সেগুলি নন ইসলামিক। এলাহাবাদ হাইকোর্টের রায় যুক্তিযুক্ত ছিল।

তিনি বলেন, ফাঁকা জায়গায় তৈরি হয়নি বাবরি মসজিদ, মসজিদের নিচে কাঠামো ছিল। বাবরের সহযোগী মির বাকি মসজিদ তৈরি করেছিলেন। তবে কবে মসজিদ তৈরি হয়েছিল, সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

রায়ে বলা হয়, বাবরি মসজিদের বিতর্কিত জায়গাটি কখনো মুসলিমদের বেদখল হয়নি। তবে তারা এটিকে স্থায়ী স্বত্ব হিসেবে দাবি করতে পারে না এবং এটি মুসলিমদের স্থায়ী সম্পদ সেবিষয়ে কোনো প্রমাণ নেই।

কট্টরপন্থী হিন্দুরা দাবি করেন বাবরি মসজিদের জায়গাতেই ভগবান রামের জন্ম হয়েছিল এবং একটি রামমন্দির ভেঙে মোগল আমলে সেখানে মসজিদ তৈরি করা হয়েছিল ১৯৯২ সালে কট্টর হিন্দুরা বাবরি মসজিদ ভেঙ্গে ফেলার পর হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গায় দুই হাজারেরও বেশি লোকের মৃত্যু হয়।

রায়ের পর আইনশৃঙ্খলার অবনতি যাতে না হয় বা সাম্প্রদায়িক উত্তেজনা যাতে না ছড়ায়, তার জন্য ব্যাপক নিরাপত্তার ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে। রাজ্যের সমস্ত স্কুল-কলেজ বন্ধ ঘোষণা করা হয়েছে।

মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর জানিয়েছে, যে ৩৮টি জেলা এমনিতেই সাম্প্রদায়িকভাবে সংবেদনশীল, সেখানে বাড়তি বাহিনী নামানো হয়েছে। টহল চলছে দিন রাত। রাস্তার মোড়ে মোড়ে তল্লাশি চালানো হচ্ছে। যারা উত্তেজনা ছড়াতে পারে, এমন লোকদের চিহ্নিত করে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

কড়া নজর রাখা হচ্ছে সামাজিক মাধ্যমেও যাতে কেউ গুজব ছড়াতে না পারে। লখনউ আর জেলা সদরগুলিতে কন্ট্রোল রুম খোলা হয়েছে। মুখ্যমন্ত্রীর দপ্তর বলছে, দুটি হেলিকপ্টার তৈরি রাখা হচ্ছে, যার মধ্যে একটি থাকবে অযোধ্যায়। অযোধ্যার নিরাপত্তাও কয়েক গুণ বাড়ানো হয়েছে।

রায় উপলক্ষে মাসখানেক ধরেই অযোধ্যা শহরে ১৪৪ জারি রয়েছে। তবে শহরের সাধারণ হিন্দু আর মুসলমান, দুই সম্প্রদায়ের মানুষই যে পুরোপুরি শঙ্কামুক্ত নন, সে বিষয়ে আন্তর্জাতিক গণমাধ্যমে উঠে এসেছে।

 

 


ঢাকা, শনিবার, নভেম্বর ৯, ২০১৯ (বিডিলাইভ২৪) // কে এইচ এই লেখাটি ১১৯ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন