সর্বশেষ
রবিবার ১লা পৌষ ১৪২৬ | ১৫ ডিসেম্বর ২০১৯

উইঘুর দমনে নির্দেশ দিয়েছিলেন শি জিনপিং

সোমবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৯

china.jpg
বিডিলাইভ রিপোর্ট :

শিনজিয়াংয়ের উইঘুর মুসলিম ও সংখ্যালঘু অন্যান্য গোষ্ঠীর লোকদের গণআটক এবং তাদের প্রতি ‘কোনো ধরনের ক্ষমা প্রদর্শন না করার’ নির্দেশ দিয়েছিলেন চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং। ‘সন্ত্রাসবাদ, অনুপ্রবেশ ও বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে লড়াইয়ের চেষ্টার’ অংশ হিসেবে তিনি এ নির্দেশ দিয়েছিলেন। মার্কিন সংবাদমাধ্যম নিউ ইয়র্ক টাইমস এ তথ্য জানিয়েছে।

চীনের জিনজিয়াং রাজ্যে উইঘুর মুসলমানদের ওপর দেশটির সরকারের নিপীড়নের গোপন নথি ফাঁস হয়েছে। সেখানে উঠে এসেছে সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায়ের নির্দেশে উইঘুর মুসলমানদের ওপর নির্যাতনের প্রচুর দলিল।(এএফপির)

জাতিসংঘের বিশেষজ্ঞ ও অধিকারকর্মীরা জানিয়েছেন, জাতিগত পরিচয় নির্মূলে শিনজিয়াংয়ে অন্তত ১০ লাখ উইঘুর ও অন্যান্য সংখ্যালঘু মুসলিম সম্প্রদায়ের লোকজনকে বন্দিশিবিরে আটক রেখেছে চীন।

নিউ ইয়র্ক টাইমস দাবি করেছে, তাদের হাতে এ সংক্রান্ত নথির চার শতাধিক পৃষ্ঠা এসেছে। চীনের ‘একটি রাজনৈতিক সংস্থার এক সদস্য’এ নথি ফাঁস করেছে ।

নিউইয়র্ক টাইমসের প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, ফাঁস হওয়া নথিটিতে দেখা গেছে, কীভাবে চীনা প্রেসিডেন্ট শি জিনপিং ২০১৪ সালে অঞ্চলটি সফরকালে এবং পরবর্তী সময়ে বিভিন্ন সময় কর্মকর্তাদের উদ্দেশে দেয়া ভাষণে অঞ্চলটির মুসলমানদের ব্যাপারে বেইজিংয়ের অবস্থান পরিষ্কার করেছেন।

একটি ট্রেন স্টেশনে হামলার পর অঞ্চলটি সফর করেন শি জিনপিং। ওই হামলার জন্য উইঘুরদের দায়ী করা হয়ে থাকে। এরপর সেখানে দেওয়া ভাষণে একনায়কতন্ত্রের উপাদানগুলো ব্যবহার করে 'সন্ত্রাসবাদ, অনুপ্রবেশ ও বিচ্ছিন্নতাবাদের বিরুদ্ধে' লড়াইয়ের নির্দেশ দেন প্রেসিডেন্ট। একইসঙ্গে উইঘুর মুসলমানদের ব্যাপারে কোনোভাবেই অনুকম্পা না দেখানোর নির্দেশ দেন তিনি।

চীনা প্রেসিডেন্টের এ ধরনের নির্দেশের ব্যাপারে রয়টার্সের পক্ষ থেকে দেশটির পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ে একটি ফ্যাক্স করা হয়েছে। এর কোনো জবাব মেলেনি। তবে যুক্তরাষ্ট্র এর কড়া সমালোচনা করে বলেছে, চীনের লড়াই কথিত সন্ত্রাসবাদের বিরুদ্ধে নয়, বরং জিনজিয়াং থেকে উইঘুর মুসলমানদের অস্তিত্ব মুছে ফেলতে চাচ্ছে বেইজিং।

চীনে প্রায় দেড় কোটি উইঘুর মুসলমান বসবাস করে। জিনজিয়াং প্রদেশের জনসংখ্যার ৪৫ শতাংশই উইঘুর মুসলমান। এ প্রদেশও তিব্বতের মতো স্বশাসিত একটি অঞ্চল। সেখানে বিদেশি মিডিয়ার প্রবেশের ব্যাপারে কঠোর বিধিনিষেধ রয়েছে। বেশ কয়েক বছর ধরে বিভিন্ন সূত্রে খবর আসছে, সেখানে বসবাসরত উইঘুরসহ ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের ওপর ব্যাপক ধরপাকড় চালাচ্ছে বেইজিং। অ্যামনেস্টি ইন্টারন্যাশনাল, হিউম্যান রাইটস ওয়াচসহ মানবাধিকার সংগঠনগুলোও জাতিসংঘের কাছে এ ব্যাপারে উদ্বেগ জানিয়েছে। তবে চীন বরাবরই মুসলিমদের গণগ্রেপ্তারের অভিযোগ অস্বীকার করে আসছে।


ঢাকা, সোমবার, নভেম্বর ১৮, ২০১৯ (বিডিলাইভ২৪) // রি সু এই লেখাটি ২২৫ বার পড়া হয়েছে


মোবাইল থেকে খবর পড়তে অ্যাপস ডাউনলোড করুন